স্বর্ণেন্দু দত্ত ১০ই, ফেব্রুয়ারি ২০১৩
আড়মোড়া ভেঙে শীত-ঘুমে থাকা শহরটা তখন কুয়াশার চাদরটাকে পায়ের দিকে টেনে নিয়ে আরেকটু আলিস্যিতে ডুবতে চাইছে। তারই মধ্যে আওয়াজ তুলে ছুটছে একটার পর একটা অটো রিকশা। রাস্তার মোড়ে, মাঝখানে হাত দেখিয়ে নতুন সওয়ারি, তারপরই ফের ছুট। ভোট বাজারে ডাইনে-বাঁয়ে লাল আর তেরঙ্গায় মোড়া রাস্তা কুয়াশা মাড়িয়ে ছুট শেষে মিশলো আগরতলা রেলস্টেশনে। অবিকল আরেকটা উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ। বামপন্থীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যখন ট্রেন এলো আগরতলায়, তখন স্টেশনটা বানানো হয়েছিল রাজাদের প্রাসাদের আদলেই।
টিকিটের কাউন্টারে বেশ ভিড়। অধিকাংশই তরুণ। জিনস-জ্যাকেটে, ব্যাক-প্যাক পিঠে। তিনটে কাউন্টারের একটা খোলা। সেখানেই দুটো লাইন, মহিলাদের জন্য আলাদা একটা। নিমেষেই বাড়তে থাকলো ভিড়। একটা সময়ে ঠাসাঠাসি অবস্থা। পাঁচটা কাউন্টারের তিনটে খুললো। সব কাউন্টারেই সমান্তরাল দুটো করে লাইন। মহিলা-পুরুষ আলাদা। এরই মধ্যে প্রচুর মহিলা এবং তরুণীর ভিড় জমেছে। কিন্তু লাইন তেমন এগোচ্ছে না কেন?
‘‘কী করে এগোবে? হাতে লিখে দিচ্ছে তো।’’
দেখা গেলো গোলাপি রসিদে স্টেশনের নাম, তারিখ, ভাড়া সব লিখে টিকিট বিলি চলছে। একটা তেলিয়ামুড়া, দুটো মনু বা কুমারঘাট, কিংবা চারটে ধর্মনগর- প্রতিবারই গোলাপি রসিদে দুটো করে কার্বন সাজিয়ে তারিখ, ভাড়া, স্টেশন লিখে তবে দেওয়া হছে টিকিট। ফলে লাইন থমকেই আছে। ভিড় বাড়ছে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন। ক্রমশ অধৈর্য যাত্রীরা।
‘‘এরপর তো আর জায়গা পাওয়ান যাইবো না। হাতটা তাড়াতাড়ি চালায়েন।’’
মিটারগেজ লাইনের ডিজেল ইঞ্জিনের রেলগাড়ির একটি কামরাই বাতানুকূল। সেটার জন্য অবশ্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। গেটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা টিকিট পরীক্ষকই রসিদ লিখে দিচ্ছেন। টিকিট পাওয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় উঠে দেখা গেলো লজঝড়ে অবস্থা আর অপরিষ্কার। সর্বত্রই হয়তো সাধারণের ট্রেনের এইরকমই হাল, তবে যেখান থেকে ছাড়ে সেখানে খানিকটা পরিষ্কার থাকে। এখানে সে বালাই নেই।
সামনের কামরাগুলি আগেই ভিড়ে ঠাসা হয়ে গিয়েছিলো। জানালার ধারের আসন পেতে শেষমেশ একেবারে শেষের দিকেই একটাতে উঠতে হলো। সামনের আসনে দুই উপজাতি মহিলা। অনর্গল ককবরকে কথা বলে চলেছেন। কী বলছেন বোঝার উপায় নেই, মাঝে মাঝে দু’একটি বাংলা শব্দ ছাড়া। জানালার ঠিক পাশেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাগজ পড়ছেন দু-তিনজন। আরো কয়েকজন জুটে গেলেন খবরে উঁকি মারতে। একটি বাংলা দৈনিকের খবর ছবি নিয়ে তাঁরা বেশ উত্তেজিত। ত্রিপুরায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। ‘কারচুপি’ সংক্রান্ত খবর নিয়েই তারা সি পি আই (এম)-কে গালাগাল করতে শুরু করলেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন দরকার, অনেক হয়েছে ইত্যাদি, প্রভৃতি। বামফ্রন্ট সরকার এবার আর হবে না— বলেও কয়েকজন ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন। তার মধ্যেই আবার একজন বললেন, ‘‘আগরতলা দিয়া কি আর গোটা ত্রিপুরা রাজ্য। তাইলে তো কবেই যাইতো গিয়া এরা।’’ আফশোস না অন্যদের সঙ্গে ভিন্নমত জানালেন বোঝা গেলো না। তবে এরা সকলেই প্রায় সরকারী কর্মচারী, আগরতলার বাসিন্দা। হুইস্ল বাজলো, ঘড়ির কাঁটা ধরে ঠিক পৌঁনে সাতটায় ছেড়ে দিলো ট্রেন। হুড়মুড়িয়ে উঠে এলেন অনেক লোক।
তিন জনের আসনে ঠেসাঠেসি করে পাঁচ। সামনের দুই উপজাতি মহিলার পাশে আরও তিন যুবক বসেছে। উলটো দিকেও এক ভদ্রলোক ছাড়া দুই নির্মাণ শ্রমিক। সঙ্গে আনা যন্ত্রপাতিতে তেমনই ঠাওর হয়। একটি অল্পবয়সী ছেলে, হয়তো ছাত্র হবে। কথাবার্তা শুরু হতেই বোঝা গেলো দু’দিকের এই যুবকরা রোজকার যাত্রী। পরস্পরের পরিচিত। অল্পক্ষণের মধ্যেই এসে পড়লো পরের স্টেশন যোগেন্দ্রনগর। ভিড় আরও বাড়ছে। দরজায়, যাতায়াতের করিডরে গাদাগাদি ভিড়। বসে থাকা নির্মাণ কর্মী ও অন্য যুবকদের কথায় এসে গেলো ভোটের কথা। যোগেন্দ্রনগর স্টেশনে ঢুকতেই একজন বললেন, ‘‘অনিল সরকার জিতবই। আর কাজও হবে।’’ পাশ থেকে অন্যজন বললেন, ‘‘একজনের এতদিন জিতা উচিৎ না।’’ ফের শুরু হয়ে গেলো তর্ক, বিতর্ক। রাজ্যের সরকার থেকে কেন্দ্রের সরকার, পরিবর্তন থেকে পশ্চিমবঙ্গ বাদ গেলো না কিছুই। তর্কের বহরে একসময় একে অপরকে বলতে লাগলেন ‘‘আপনে কিছুই জানেন না।’’ আশপাশেরও কেউ কেউ আলোচনায় জুটে গেলেন।
— ‘‘পাঁচ বছর বাদে বাদে সরকার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’’
পালটা— ‘‘কেন আবার জোট আমল চান নাকি? পাঁচ বছর বাদে বাদে সরকার পরিবর্তন কোন কামে লাগে? ইটা কি বাংলাদেশ নাকি? একবার হাসিনা, একবার খালেদা?’’
এমন কথার আর জবাব দিতে পারলেন না দ্বিতীয় জন। চিৎকার করে একসময়ে দু’জনেই চুপচাপ বসে রইলেন। অন্যরা খানিক মজা করলেন, কিছুটা খোঁচা দিয়ে ফের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা চললো। ট্রেন এসে পৌঁছালো জিরানিয়ায়। ধূ-ধূ প্ল্যাটফর্মে কোথাও কোনো লোক নেই। চা বিক্রেতাদের চিরপরিচিত ডাক আর ঝালমুড়ি মাখার আওয়াজ ক্রমশ সামনে এলো।
— ‘‘ঝালমুড়ি খাবেন নাকি?’’ নীরবতা ভেঙে বদলপন্থীই জানতে চাইলেন সরকারের সমর্থককে। মাথা নেড়ে না বলার সাথে সাথেই বদলপন্থী বললেন, ‘‘আরে খান খান। যতদিন রেলগাড়ি থাকবে ততদিন ঝালমুড়িও থাকবে। এইট্যা তৈরি হইসেই রেলগাড়ির লাইগ্যাই!’’ শেষমেশ সরকারপন্থী আর বদলপন্থী দু’জনেই একসঙ্গেই মুড়ি খেতে জুড়ে গেলেন। পরিবেশ খানিকটা হালকা হলো।
জিরানিয়া ছাড়ার পরেই দু’ধারে পরপর ইটভাটা। কাজ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিক। সংখ্যায় পাল্লাভারী মহিলাদেরই। সাধারণ জ্ঞানের বই বিক্রি করছেন এক হকার। তাঁর আওয়াজেই বাইরের দৃষ্টি ফের ভেতরে এলো।
‘‘কোন দেশের মেয়েরা বিয়ের আগে গাছে ঘুমায়? শেক্সপিয়ারের ছদ্মনাম কী ছিল? কোন পাখি কুকুরের মত ডাকে? এসব জানত পারবেন মাত্র দশ টাকায়-দশ টাকায়-দশ টাকায়।’’
‘‘বলে কী তা? পাখি কুকুরের মতো ডাক দেয়!’’ আবার শুরু হলো নিত্যযাত্রী যুবকদের হাসি-ঠাট্টা। গম্ভীর হয়ে থাকা পরিবেশ হালকা হলেও ঘুরে ফিরে ভোটের কথা। মানিক সরকারের সরকার কী কাজ করেছে, তাতে কী কী উপকার হয়েছে, তাতে মোটামুটি এরা বেশিরভাগই একমত। ক্রমশ দু’পাশের টিলার মধ্যে ঢুকে পড়লো ট্রেন। দু’ধারে কোথাও কোথাও গোটা টিলার গাছ-পাতা সব পোড়ানো। জুম চাষের প্রস্তুতি হয়তো। হঠাৎই ট্রেনটা ঢুকলো টানেলে। নিকষ কালো অন্ধকার। পাশে বসা লোকটাকেও একটু বোঝার উপায় নেই। টানেলেও আলো নেই। ট্রেনেও নেই। মিনিট দু’য়েক পর বাইরে বেরোলো ট্রেন।
একটা টিলার মাথায় নীল সাদা জামা প্যান্টে ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলবাড়ির বাইরে এসে হাত নাড়ছে ট্রেন দেখে। বাই-বাই বলছে চিৎকার করে। ওরা ক্লাসের বাইরে কেন? এই সময় কি টিফিন? নাকি ট্রেন যাবে বলে রোজই ওদের এই ‘ব্রেকটা’ পাওনা থাকে? কে জানে? ওদের দেখে এই প্রথম মুখে হাসি দেখা গেলো পাশে বসা গম্ভীর ভদ্রলোকের, যিনি এযাবৎ ছিলেন প্রতিক্রিয়াহীন। পালটা হাতও নাড়লেন। ত্রিপুরা তো, স্কুল আর স্কুলের শিশুদের না দেখে এক মাইল এগোনোর যো নেই।
এবার আরো বড় টানেল। আঠারোমুড়ার পেটের ভিতর ঢুকে গেলো ট্রেন। একইরকম অন্ধকার। শিশুকোলে মহিলা মোবাইল ‘অন’ করলেন। সমস্ত পুরুষ যাত্রীদের মধ্যে বসে থাকায় অস্বস্তিতে, নাকি শিশুটির ভয় কাটাতে— বোঝার উপায় নেই। ট্রেন চলছেই টানেলের মধ্য দিয়ে। অমাবস্যার রাতে বিদ্যুৎহীন এলাকার অন্ধকারের থেকেও ঘন অন্ধকারের মধ্যে মোবাইলের আলোয় ভাস্বর শুধু সেই শিশুর নিষ্পাপ মুখটাই।
আমবাসা থেকে ট্রেনে উঠলো এক তরুণ–তরুণী। দু’জনের বসার জায়গা নেই। তরুণী একা বসতে রাজি হলো না। দরজায় দাঁড়িয়ে রইলো দু’জনেই। চোখের ভাষা আর আচরণেই স্পষ্ট বন্ধুত্বের স্তর পেরিয়ে সম্পর্ক আরো খানিকটা গভীরে। মাটির ওপরে অরণ্যে ভরা লংতরাই পাহাড় ফুঁড়ে আরো একবার টানেলে ঢুকলো ট্রেন। তার অল্প সময়েই নদী পেরিয়ে ট্রেন এলো মনুতে। বেশ বড়সড় স্টেশন। টিলার ওপর থেকে একটা পিচ রাস্তা যেন হুড়মুড়িয়ে এসে পড়েছে স্টেশনের মধ্যেই। সেই রাস্তা ধরে অটো, গাড়িতে করে যাত্রীরা আসছে স্টেশনে। এই ব্যস্ততা কয়েক বছর আগেও ছিলো কাল্পনিক। গম্ভীর ভদ্রলোকও নেমে গেলেন। এতক্ষণ দেখা যায়নি, দরজার ওধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। শিশু কোলে বসে থাকা উপজাতি মহিলার স্বামী। কিন্তু চেহারায় যুবককে তো উপজাতি মনে হচ্ছে না। স্বামী-স্ত্রীর কথাবার্তা শুরু হতেই বোঝা গেলো যুবকটি বাঙালী।
মনু স্টেশন ছাড়ার পরেই অসংখ্য ছোট-বড় ছড়া পার হলো ট্রেন। কোনোটার জল স্বচ্ছ কাচের মতো, কোনোটা ঘোলাটে। কোনো ছড়া প্রায় শুকনো। কোথাও ছড়ার থেকে হাঁড়ি কলসিতে জল ভরছেন মহিলারা, কোথাও চলছে পারাপার। এপর্যন্ত গোটা রেলপথের দু’ধারের সৌন্দর্য মনে রাখার মতোই। কিন্ত মনু পেরোনোর পর তা যেন আরো রূপবান। ট্রেন ঢুকলো কুমারঘাটে। অনেক লোক নামলেন, উঠলেন। কুমারঘাট ঊনকোটি জেলার মধ্যে। জেলার প্রশাসনিক দপ্তরগুলি এখানে হওয়ার জন্য বহু সরকারী কর্মী আসা যাওয়া করেন প্রতিদিনই। তাছড়া এখান থেকেই অটো, ট্রেকারে, বাস করে সহজেই পৌঁছানো যায় কৈলাশহর। নির্মাণকর্মী যুবকরাও নেমে গেল। জায়গা ফাঁকা হতেই এবার দরজার সামনে থেকে এসে বসলো সেই তরুণ-তরুণী।
ট্রেনের গতি এবার একটু ধীর হয়ে এলো। চাপা গলায় কথা বলে চলেছে সেই তরুণ-তরুণী, শুধু হাসির শব্দটাই জোরে। তারমধ্যেই সরকারপন্থী আর বদলপন্থী ঘুমিয়ে আছেন নিশ্চিন্তে। বাবা-মায়ের কোলে খেলা করে চলছে শিশুটি। মা আদর করছে, কথা বলছে ককবরকে। আর দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হয়ে বাবা শাসন করছে বাংলায়। এছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে বাঙালী-উপজাতিদের মধ্যে বিভেদকামীরা তাকে কী বোঝাবে সেটাই জানার আগ্রহ হঠাৎ প্রবল হয়ে উঠলো।
ট্রেন ঢুকলো পেঁচারথলে। সিঙারা বিক্রেতার ডাক শুনে তরুণীর আব্দারের জবাবে তরুণটি বললো -‘তুমি তো আমার থেকে বড়লোক, পয়সা দাও।’ তরুণীর থেকে খুচরো নিয়েই সিঙারা বিক্রেতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ‘গরম নি?’ গরম আছে এই আশ্বাসে দুটো সিঙারা কিনে ফের তরুণীর পাশে। ট্রেন চলতে শুরু করেছে আবার। তবে গোটা কামরাই এখন অনেক ফাঁকা ফাঁকা। সম্ভবত সে কারণেই এবার স্বাভাবিক স্বরে কথা বলতে শুরু করলো দু’জনেই। দু’জনেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে আগরতলায়। সম্ভবত একই কলেজ, একই ক্লাস। পড়াশোনা থেকে চাকরি-বাকরি পেরিয়ে আলোচনা ভবিষ্যত পরিকল্পনার দিকে। ছেলেটির মৃদু আপত্তি মেয়েটির চাকরি করার অভিপ্রায়ে। ‘দরকার কি চাকরির? আমি তো ৩-৪বছরেই কাজ পেয়ে যাব।’ মেয়েটিও অনুযোগের সুরে বললো, লেখাপড়া শিখলাম কিসের জন্য? জবাব এলো- চাকরির কথা মাথায় ঢুকিয়েছে তোমার মা। নারী সমিতি করে এইসব শিখছেন। মেয়েটির প্রতিবাদ এবার বেশ জোরালো। ‘মায়েরে টানো কেন? নারী সমিতি করে তো খারাপটা কি?’ কথার ঝাঁঝেই সম্ভবত এবিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলো তরুণটি। বেশ কিছুক্ষণ দু’জনেই চুপচাপ।
পানিসাগরে অকারণ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন। নামেই স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম বলে কিছু নেই। একদিকে মাটির সমান করার কাজ চলছে। কোনো একদিন প্ল্যাটফর্ম হবে বলেই সম্ভবত। বাবার কোলে শিশুটি ট্রেন থেকে নিচে নেমেছে। মা ঘুমাচ্ছে জানলায় মাথা রেখে। সেই তরুণ-তরুনীও ঘুমাচ্ছে। এখনও ঘুমাচ্ছেন বদলপন্থী, সরকারপন্থী অবশ্য উঠে পড়েছেন বেশ কিছুক্ষণ। একজন হিন্দিভাষী উঠে জানার চেষ্টা করছেন ধর্মনগর পৌঁছাতে কতো সময় লাগবে। চেহারার গড়ন দেখে মনে হয় উত্তর ভারতীয়। ধর্মনগর থেকে শিলচরের গাড়ি ধরবেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর মালগাড়ি পাস করানোর পর চলতে শুরু করলো ট্রেন।
শামুকের গতিতে চলতে চলতে অবশেষে এসে পৌঁছালো ধর্মনগর। গোটা ট্রেনই প্রায় খালি হয়ে গেলো। আগরতলাগামী ট্রেনও দাঁড়িয়ে আছে প্ল্যাটফর্মে। যথেষ্ট ভিড় তাতে। শিশুটি কিছুতেই কোলে উঠবে না। বাবা-মা দু’জন দু’দিকে হাত ধরে, টলোমলো পায়ে হেঁটেই সে বেজায় খুশি। তরুণ-তরুণীও আলাদা আলাদা যাবে। বাড়ি পৌঁছে ফোনের নির্দেশ দিয়ে এগিয়ে গেলো তরুণী। সরকারপন্থী আর বদলপন্থীও দু’জন দু’দিকে গেলেন। তবে রাতে ফেরার সময় কোথায় আবার একসঙ্গে দেখা করবে সেটা ঠিক করে গেলেন।
প্রায় পাঁচ ঘন্টার যাত্রাপথে আজকের ত্রিপুরার এক টুকরো ছবি উপহার দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে ডিজেল ইঞ্জিন এগোলো আসামের দিকে।
>>>