আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

সম্পাদকীয়

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Page

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর
মারামারিতে সন্ত্রস্ত শীতলকুচি

নিজস্ব সংবাদদাতা : কোচবিহার, ২রা আগস্ট — কলকাতায় বসে মুখ্যমন্ত্রী যখন রাখী পরাচ্ছেন কোচবিহারে তখন তাঁরই দলের দুটি বিবদমান গোষ্ঠী লাঠি হাতে মাথা ফাটাফাটি করছে। বনমন্ত্রী হিতেন বর্মণের গোষ্ঠী বনাম তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গোষ্ঠীর কর্মীরা বুধবার থেকে শীতলকুচিতে বড় আকারে মারামারি শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার ঘরবাড়ি দোকানপাট ভাঙচুর এমন মাত্রায় পৌঁছোয় যে, শীতলকুচিতে অঘোষিত বন্‌ধের চেহারা নেমে এসেছে। সংঘর্ষে ৮ জন জখম হয়েছেন। ৩ জন ভর্তি হাসপাতালে। অতিরিক্ত পুলিসবাহিনী এনে শীতলকুচি বাজারে মোতায়েন করতে হয়েছে।

শীতলকুচির পাশেই মাথাভাঙা ১নং ব্লকের শিকারপুরও তৃণমূ‍‌লের এই দুই গোষ্ঠীর বিরোধে উত্তপ্ত। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের আয়োজিত রাখীবন্ধন উৎসবের রাশ কাদের হাতে থাকবে তাই নিয়ে বিরোধে বুধবার বনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূলনেতা মার খান জেলা সভাপতি গোষ্ঠীর হাতে। প্রাণ বাঁচাতে বিডিও অফিসে লুকানো ঐ তৃণমূল নেতাকে পুলিস গিয়ে উদ্ধার করে। এদিনের কোচবিহার প্রমাণ করছে, মুখ্যমন্ত্রী যতই রাখী দেখান, তার দলের কর্মীদের হাতে লাঠিই শোভা পাচ্ছে।

শীতলকুচির ঘটনা এবং মাথাভাঙার শিকারপুরের ঘটনা, উভয়ক্ষেত্রেই তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর পরিচিত তৃণমূল কর্মীদের নাম করে করে থানায় এফ আই আর করেছে। জেলার পুলিস সুপার প্রণবকুমার দাস জানিয়েছেন, একটি রাজ‍‌নৈতিক দলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে শীতলকুচিতে। উভয়পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জা‍‌নিয়েছে। তবে এখ‍‌নো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বুধবার শীতলকুচি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র লেবু মিয়াকে মারধর করে বহিরাগত পিন্টু বর্মণ ও তাপস সাহা। অভিযুক্ত দুজনেই তৃণমূলের বনমন্ত্রীর গোষ্ঠীর লোক বলে পরিচিত। তৃণমূল শ্রমিক নেতা সায়ের আলি আবার শীতলকুচির তৃণমূল জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁর অনুগামীরা রথেরডাঙা মোড়ে পিন্টু বর্মণ ও তার বাবা পরেশ বর্মণকে পালটা মারধর করে। সায়ের আলি গোষ্ঠীর আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত ১১টা নাগাদ বনমন্ত্রীর অনুগামীরা শীতলকুচি থানার উলটোদিকের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফুটতেই সায়ের আলি গোষ্ঠীর কয়েক’শ সশস্ত্র কর্মী শীতলকুচি বাজারের দখল নেয়। এই গোষ্ঠী তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে এবং বনমন্ত্রীর অনুগামী ৬ তৃণমূল কর্মীকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন বনমন্ত্রী গোষ্ঠীর নেতা মদন বর্মণ।

এরপর বেলা বাড়তেই বনমন্ত্রীর অনুগামীরা পালটা হামলা চালায় শীতলকুচিতে। এই গোষ্ঠীর হাতে বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হন পঞ্চারহাট জমিরউদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিতাই দত্ত। সফিকুল মিয়া নামে এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর হয় সায়ের আলি অনুগামী আবুল হোসেন মিয়ার ওষুধের দোকান, মানিক রায়ের মিষ্টির দোকান, আবদুল মজিদের মোবাইলের দোকান। এদিন গোলেনাওহাটি তৃণমূলের অঞ্চল কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সায়ের আলি। শীতলকুচি থানায় মদন বর্মণ সহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সায়ের আলি। অন্যদি‍‌কে, বনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মদন বর্মণও পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন শীতলকুচি থানায়। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে স্কুল, কলেজ, দোকানপাট, অফিস, আদালত শুনশান হয়ে যায়। শীতলকুচি বাজার ব্যবসায়ী স‍‌‍‌মিতির সম্পাদক সিউজি প্রসাদ বলেন, শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকানপাট খোলেনি, ক্রেতারাও কেউ ঘর থেকে বের হননি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মাথাভাঙা-১ ব্লকের শিকারপুরে বনমন্ত্রীর অনুগামী তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মজিরুল হোসেন ও জুলজেলাল মিয়া বুধবার বিকেলে যুবকল্যাণ দপ্তরে যান সরকারী রাখীবন্ধন উৎসবের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে। ব্লক সভাপতি চলে যাবার কিছুক্ষণ পরেই একদল তৃণমূলকর্মী জুলজেলার মিয়া বিডিও অফিসের একটি ঘরে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান। আক্রমণ করতে আসা তৃণমূলকর্মীদের অভিযোগ এলাকার বাইরে থেকে আসা তৃণমূল নেতার নেতৃত্ব মানা হবে না। পরে পুলিস গিয়ে ঐ তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে। জুলজেলার মিয়া মাথাভাঙা থানায় তৃণমূল কর্মী নজরুল হক ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।