আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

সম্পাদকীয়

শাসকের সন্ত্রাস

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Page

এ বি টি এ’র সমাবেশে সূর্যকান্ত মিশ্র মানুষের প্রতিবাদে ভয় পেয়েই সকলের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২৩শে আগস্ট— মানুষের প্রতিবাদে ভয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকলের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। বৃহস্পতিবার রানী রাসমণি রোডে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির একটি সমাবেশে তিনি বলেছেন, শুধু বামপন্থীদের নয়, মুখ্যমন্ত্রী এখন সকলের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন। পুলিস, আদালত, মানবাধিকার কমিশন, মিডিয়া সবাই আক্রান্ত—মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। মানুষের প্রতিবাদে ভয় পেয়েছেন বলেই তিনি এমন স্বৈরাচারী কাজ করছেন। কিন্তু সাতের দশকে জরুরী অবস্থার সময়েও স্বৈরাচার জনগণের কণ্ঠরোধ করতে পারেনি, এখনো পারবে না।

শিক্ষা প্রসারের দাবিতে এবং শিক্ষায় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এদিন এ বি টি এ কলকাতায় এই কেন্দ্রীয় সমাবেশটির ডাক দিয়েছিলো। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এ বি টি এ-র সভাপতি শান্তিরাম ভট্টাচার্য। সভায় শিক্ষক নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ঐ সভায় সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সঙ্কোচনের নীতি নিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সঙ্কট ডেকে এনেছে। আর এরাজ্যে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে গণতন্ত্রবিরোধী ও নৈরাজ্যের সমস্যা। পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার ওপরে যে আক্রমণ নেমে এসেছে তাকে সামগ্রিক গণতন্ত্রের ওপরে নেমে আসা আক্রমণের থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সব অংশের মানুষকে শিক্ষার অধিকারের দাবিতে এই আন্দোলনে যুক্ত করে লড়াইকে শক্তিশালী করতে হবে।

সূর্যকান্ত মিশ্র রাজ্য সরকারের স্বৈরাচারী ভূমিকাকে তুলে ধরে বলেন, মিডিয়াকে হুমকির মুখে চলতে হচ্ছে, একজন বিচারপতি সরকারের কাজের সমালোচনা করায় তাঁর স্ত্রীকে টেলিফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সভা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, বেলপাহাড়ির একজন কৃষক মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় মুখ্যমন্ত্রী নিজে মঞ্চ থেকে মাওবাদী বলে তাঁকে পুলিসের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এই হলো রাজ্যের অবস্থা। সরকার ক্ষমতায় এসেই কঙ্কাল বের করে করে বামপন্থীদের গ্রেপ্তার করেছিলো। কিন্তু এখন শুধু বামপন্থীরা নন, সবাই আক্রান্ত। মহিলারা, স্কুলের ছাত্রীরা প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন। কংগ্রেস বা তৃণমূল সমর্থক পরিবারের মহিলারাও আজ নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না। সরকারের শরিক কংগ্রেসও আক্রান্ত, এমনকি তৃণমূলের হাতে তৃণমূলের লোকও খুন হচ্ছেন, কেউ নিরাপদ নন এই রাজ্যে।

রাজ্য সরকারের শিক্ষানীতির সমালোচনা করে মিশ্র বলেন, বামফ্রন্ট সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা দিয়েছিলো। কিন্তু এখন তৃণমূল জোট সরকার সেইসব ভুলিয়ে দিতে চাইছে। সাতের দশকের মতো আক্রমণ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফের টোকাটুকির রাজত্ব ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় সাড়ে সাত লক্ষ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। কোথাও সময়ে প্রশ্নপত্র আসেনি, কোথাও প্রশ্নের জেরক্স এসেছে, কোথাও অন্য প্রশ্নপত্র এসেছে, কোথাও প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। সরকার এখন বলছে, মাত্র ৫টি কেন্দ্রে ফের পরীক্ষা নেবে। আমরা পুরো পরীক্ষা নতুনভাবে নেওয়ার দাবি করেছি।

তিনি বলেন, এই সরকার শিক্ষায় দলতন্ত্রের অবসানের কথা বলে শিক্ষাক্ষেত্রে নির্বাচন বন্ধ করে সব জায়গায় দলের লোক বসাচ্ছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে। পনেরো মাসে এই সরকার একজন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীও নিয়োগ করেনি। খালি মুখে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাদ্রাসার প্রতি বঞ্চনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে মিশ্র বলেছেন, মুর্শিদাবাদে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরির জন্য এই সরকার এতটুকুও এগোয়নি।

সভায় সি পি আই (এম) বিধায়ক আনিসুর রহমানও মাদ্রাসার প্রতি অবহেলার অভিযোগ করে বলেছেন, ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ কার্যকর করতে গিয়ে স্কুলের নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসায় ৫৫০০শিক্ষক নিয়োগের একটি সুযোগ এসেছিলো। কিন্তু আমরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সরকার সেই নিয়োগের কোনো ব্যবস্থাই করলো না। এই সরকার ইমামদের জন্য টাকা দিচ্ছে, কিন্তু মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য টাকা দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকার নতুন করে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্কুল তৈরি করেনি, কোনো স্কুলের উন্নীতকরণও করেনি। প্রাথমিকে ৪৫হাজার শিক্ষক নিয়োগের নামে যা করছে তাতে বোঝা যাচ্ছে সরকার চাইছে আইনের জাঁতাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই আটকে যাক, তাহলে সরকারের টাকা বাঁচবে।

সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষার অধিকার আইনে যে ব্যবস্থা রেখেছে তাতে সকলের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে না। রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কথা মোতাবেক ঐ আইনের বিধি তৈরি করেনি। আমরা এই নিয়ে অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে আরো আলোচনা চেয়েছিলাম। কিন্তু নতুন সরকার তা না করে সেই বিধি তৈরি করেছে। বাস্তবে এভাবে শুধু শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ হবে, শিক্ষার প্রসার হবে না।

এ বি টি এ-র ডাকে এদিনের সমাবেশে রানী রাসমণি রোডে হাজার হাজার শিক্ষক যোগ দিয়েছিলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উৎপল রায় বলেছেন, বিভিন্ন জেলা থেকেও শিক্ষকরা ছুটি নিয়ে এই সমাবেশে এসেছেন প্রতিবাদ জানাতে। কেন্দ্রীয় সরকার সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে শিক্ষার প্রসারের বদলে শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের যে নীতি নিয়েছে, এরাজ্যের সরকার তা আরো ব্যাপকভাবে রূপায়ণ করছে। শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের ওপরে জরিমানা চাপানো হচ্ছে। শিক্ষার গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবাংলার শিক্ষকরা এই ধরনের ফ্যাসিবাদী আক্রমণের মোকাবিলা করবেন। সভায় এছাড়াও ভাষণ দেন ও শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান স্কুল টিচার্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সম্পাদক কে রাজেন্দ্রন।

এদিকে রাজ্য সরকার ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত করতে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করলেও স্বরাষ্ট্রদপ্তরের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে যে কথা জানিয়েছে সেই সম্পর্কে সাংবাদিকরা সূর্যকান্ত মিশ্রকে প্রশ্ন করেন। মিশ্র বলেন, এই সরকার নিজেদের গঠন করা কমিশনের ওপরেও ভরসা রাখতে পারছে না। সরকার জানে সব তথ্য প্রকাশিত হলে তারাই বিড়ম্বনায় পড়ে যাবে। কারা কেন দলীয় কর্মীদের নিয়ে মহাকরণ দখল করতে গিয়েছিলো এবং গিয়ে কী করেছিলো সেইসব প্রকাশিত হয়ে যাবে। তাই এখন ফাইল ‘খুঁজে’ পাচ্ছে না।