আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Page

রান্নাঘরে দাবানল,
বাজারে সিলিন্ডারের
দাম হবে ৭৫৬ টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি : নয়াদিল্লি, ১৪ই সেপ্টেম্বর — ভরতুকিপ্রাপ্ত বছরে ৬সিলিন্ডার বাদে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পিছু এবার অতিরিক্ত দিতে হবে ৩৫৬ টাকা। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে মোট গ‍‌ড়ে ৭৫৬ টাকা। তবে দাম যে এতেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা‍‌‍‌ও নিশ্চিত নয়। কেননা কার্যত বিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্যাসের নয়া পদ্ধতি ঘোষণার সময় তা জানানো হয়েছে। প্রতি মাসেই রান্নার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করবে পেট্রোপণ্য বিপণন সংস্থা। সেই দামে কিনতে হবে গ্যাস। দেখা যাবে, এক মাসে ৭৫৬ টাকার গ্যাস কেনা হলো তো পরের মাসে তা ৮০০ টাকা, তার পরের মাসে ৮৫০ টাকা। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা এভাবে বেড়েই চলবে গ্যাসের দাম। বিপণন সংস্থায় রয়েছে সরকারী সংস্থা ছাড়াও বেসরকারী কর্পোরেট। তাদের খুশি করতে বাজারে দাম বাড়ানোর অবাধ অধিকার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের চড়া দামে রান্নাঘরে আগুন জ্বলে‍‌ই ছিল, এবারে তা দাবানলের চেহারা পাচ্ছে।

দিল্লির করোলবাগে রেডিমেড পোশাকের ছোট দোকান আছে পরিমলের। তাঁর কথায়, পুজোর বাজার জমে ওঠার আগে এ এক বড় আঘাত। ইতোমধ্যে হিসাব করে তাঁর মতো আটজনের সংসারে গড়ে এক মাস বা কয়েকদিন কম চলে একটা সিলিন্ডার। তাহলে বছরে অতিরিক্ত কম করে ৬টি সিলিন্ডার কিনতে হবে। বর্তমান হারে হলে সিলিন্ডার পিছু অতিরিক্ত দাম হিসাবে ৩৫৬ টাকা করে ৬‍‌টি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকা। মাসে এক ধাক্কায় ১৮০ টাকা খরচ বেড়ে গেলো। তবে তা ১৮০ টাকায় থেমেও থাকবে না। প্রতি মাসে তা বাড়বে। পরিমলের দোকানে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ক্রেতারই আনাগোনা। চড়া দামের বাজারে বিক্রি বাটায় বেশ ঘাটতি। এর মধ্যে গ্যাস ও ডিজেলের দাম বাড়ায় কেনাকাটিতে আরো ঘাটতি হবে জানালেন তিনি। গড় মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত পরিবারে প্রায় একই হিসেবে।

বছরে ৬টি মাত্র সিলিন্ডার ভরতুকি দরে ৩৯৯ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় দেওয়া হবে গ্রাহকদের। বাকি যা ‍‌সিলিন্ডার প্রয়োজন হবে তা বাজার দরে কিনতে হবে। রান্নার গ্যাসের ভরতুকি তুলে দিতে গত বছরেই এই ফরমুলা চালুর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র। কিন্তু শরিকদের কারো কারো আপত্তি থাকায় তা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। এবারে শরিকদের থেকে বিনিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত আগেই নিয়ে নেওয়া হয়েছে। দরকার ছিল সময় ধরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বৃহস্পতিবার তা ঘোষণা করে দেয়। শরিকদের তরফে কিছু হট্টগোল হবে, এটাও হিসাবের মধ্যে আছে প্রধানমন্ত্রীর। তবে এর ফলে সরকারের স্থায়িত্বে কোন বিঘ্ন ঘটবে না বলে নিশ্চিত রয়েছে কেন্দ্র।

সংসদে গত বছর‍ ডিসেম্বরে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের কারচুপির হিসাবের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম দপ্তর কমিটির কাছে রান্নার গ্যাসের দাম কতটা বাড়ানো দরকার তার হিসাব পেশ করেছিল ২০১১’র পয়লা ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা সেই হিসাবে। বলা হয়েছিল, বর্তমানে বাজারে সিলিন্ডার পিছু গ্যাসের দাম ৩৪৫ টাকা। বাড়ানো দরকার আরো ৩৫৬ টাকা। এটা‍‌ই ভরতুকি দে‍‍ওয়া হয়। এবছর ইতোমধ্যে ঐ সিলিন্ডারে দাম ফের বাড়িয়ে হয়েছে ৪০০ টাকা প্রতি সিলিন্ডার। এতে ৩৫৬ টাকা যোগ হলে এখন তার দাম হবে ৭৫৬ টাকা।

রান্নার গ্যাসের দামে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। কেন্দ্রে বামপন্থীরা প্রথম ‍‌ইউ পি এ সরকারের সমর্থনে থাকার সময় তারা এর বিরোধিতা করায় ঐ উদ্যোগ থম‍‌কে যায়। দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারে বামপন্থীদের বদলে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো নাটুকে শরিক মেলায় ফের ঐ বিনিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে গতি মেলে। ঐ শরিকের সমর্থনে ইতোমধ্যে পেট্রোলের দামে বিনিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এবারে রান্নার গ্যাসের দাম বাজার দরে করে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেওয়া হলো। প্রথমে স্থির হ‌য়েছিল রান্নার গ্যাস ভরতুকিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট কিছু সিলিন্ডার ভরতুকি দরে দিয়ে বাকিটা বাজার দরে বিক্রি হবে। সে‍‌ই মতো ৬টি সিলিন্ডার এখন ভরতুকি দরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে ধাপে ধাপে ঐ ভরতুকি দরে সিলিন্ডার শুধু দেওয়া হবে বি পি এল পরিবারকে। পরের ধাপে বি পি এল-র জন্য ৬টি গ্যাস সিলিন্ডার বরাদ্দ করে বাকিটা খোলা বাজারে বিক্রি হবে। শেষ ধাপে ৬টি সিলিন্ডারও আর কম দামে দেওয়া হবে না বি পি এল পরিবারকে। বদলে পরিবার পিছু ২ হাজার টাকা নগদে ভরতুকি দিয়ে দায় মিটিয়ে ফেলবে কেন্দ্র। এরপর থেকে সর্বত্র খোলাবাজারে বিনিয়ন্ত্রিত দামে বিক্রি হবে রান্নার গ্যাস। প্রতিমাসে কর্পোরেট পেট্রোপণ্য বিপণন সংস্থা‍‌ই তার দর স্থির করবে।

বস্তুত পেট্রোপণ্যে অনাদায়ী আদায় বা আন্ডাররিকভারির নামে হিসাবে কারচুপিতে এবারে চরম জালিয়াতি হয়েছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। এবারে দাম বাড়িয়ে সরকারী হিসাবে বলা হচ্ছে, ‘দাম বাড়ানোর পর‍‌‍ও আন্ডাররিকভারি ২০১২-১৩ সালের হিসাবে থেকে গেলো ১ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। যা ২০১১-২০১২ সালের আন্ডাররিকভারি ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকার থেকে বেশি।’’ গতকাল পেশ করা তথ্যে সরকার জানি‍‌য়েছে, ‘দাম বাড়িয়ে গ্যাসে অতিরিক্ত আয় হবে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ডিজেলে হবে ১৫হাজার কোটি টাকা। মোট ২০ হাজার কোটি টাকা। ফলে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার এবং ২০ হাজার কোটি মিলে মোট ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা আন্ডাররিকভারি’ থেকে যাচ্ছে। এই ‘আন্ডাররিকভারি’ হচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১৩.৬৫ ডলার। গত বছর ২০১১-১২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১১০ ডলার প্রতি ব্যারেল। অথচ সে সময়, আন্ডাররিকভারি ১ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। মাত্র তিন ডলার দাম বাড়ায় এভাবে নজিরবিহীনভাবে গ্যাস, ডিজেলের দাম বাড়ানো নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠেছে। তিন ডলারের ফলে কিভাবে আন্ডাররিকভারির অঙ্ক এক ধাপে ৫৫হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সরকারের দেওয়া তথ্যে নিয়ন্ত্রিত গ্যাস, কেরোসিন ও ডিজেলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ডলার বাড়ায় দামে ঘাটতি থাকে প্রায় ৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। যা ৩ ডলার হলে তা হবে আনুমানিক ২৫ হাজার কোটি টাকা। সরকারী গোঁজামিলে তা দ্বিগুন করে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।