আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Page

ডেঙ্গুতে মৃত আরো ১
বাড়ছে ম‌্যালেরিয়াও

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১৫ই সেপ্টেম্বর— সাধারণ মানুষের চাপে পড়ে নড়েচড়ে বসলেও কাজে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলি। অবস্থা বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল বৃষ্টি হলেই কমবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। কিন্তু গত কয়েক দিনে রাজ্যজুড়ে বেশ বৃষ্টি হলেও ছবিটা বদলায়নি। বিভিন্ন এলাকায়, পাড়ায় পাড়ায় ঝোপঝাড়, নর্দমায় জমা জল ক্রমাগতই জন্ম দিয়ে চলেছে ডেঙ্গু জ্বরের মশার। বাড়ছে ম্যালেরিয়াও। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর মিলছে রোজই।

শনিবার কলকাতায় ডেঙ্গুর বলি হলেন আরো একজন। সন্তোষপুরের বাসিন্দা সুমিতা ব্যানার্জি (৩৭) জ্বর ও গায়ে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন স্থানীয় একটি নার্সিং হোমে। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারী হাসপাতালে। ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে তাঁর লিভারও আক্রান্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার মৃত্যু হয় সুমিতা ব্যানার্জির। এই নিয়ে রাজ্যে মৃত্যু হলো ৪৩জনের। কলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২। কলকাতা ও বিধাননগরজুড়ে গত ৩সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল, নার্সিং হোমগুলিতে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসা চলছে বাড়িতেই।

ডেঙ্গু যে ছড়িয়ে পড়ছে তা এখনও মানতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। শনিবারে দেওয়া হিসাবে মাত্র ১৮৪৫জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। এখনও মৃতের সংখ্যা ৬দেখানো হচ্ছে পরিসংখ্যানে। কলকাতা ও বিধাননগরের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জলপাইগুড়ি ও উত্তর ২৪পরগনায়। এরপরই আছে বর্ধমান, মালদহ, হুগলী, নদীয়া, দক্ষিণ ২৪পরগনা। জলপাইগুড়িতে কিছুদিন আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এরপর সেখানে ডেঙ্গুর আক্রমণ ঘটেছে ব্যাপক আকারে। বেসরকারী মতে, প্রায় ১২০জন মানুষ এই মুহূর্তে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। মিলছে না দরকারী ওষুধপত্র, রক্ত পরীক্ষার কিট। যদিও প্রকৃত তথ্য গোপন করে মুখে কুলুপ এঁটেছে জেলা প্রশাসন। একইভাবে মুখ বন্ধ রেখেছে প্রায় প্রতিটি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরই। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা ও কর্পোরেশনগুলি যে প্রকৃত তথ্য গোপন করে যাচ্ছে সে বিষয়ে তীব্র সোচ্চার হন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ ডেঙ্গুর মোকাবিলায় নিজেরাই পথে নামেন।

এদিকে, কলকাতা ও বিধাননগর এলাকায় রোজই ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর মিলছে। খিদিরপুর, তিলজলা, তপসিয়া, যাদবপুর, সন্তোষপুর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। খিদিরপুর এলাকায় ৭৬নম্বর ওয়ার্ডে বহু শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ওয়াটগঞ্জ এলাকায় ছেয়ে গেছে ম্যালেরিয়া। এই ওয়ার্ডের বন্ধ কল-কারখানার জমি ও বদ্ধ জলাশয়ে মশার লার্ভা চোখে পড়ছে। কলকাতার বিভিন্ন খালগুলিও মশার আঁতুরঘরে পরিণত হয়েছে। নির্মীয়মাণ বাড়ি ও প্রকল্পগুলিতে জমে থাকা জলেও জন্ম নিচ্ছে এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা। উদাসীন কলকাতা কর্পোরেশন। মশা নিধনে সম্পূর্ণ উদাসীন বিধাননগর পৌরসভাও। গোটা বিধাননগর এলাকাই রয়েছে চরম সতর্কতা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।