আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

সম্পাদকীয়

শাসকের সন্ত্রাস

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Page

‘ইস্যু ইজ জেনুইন’, ধর্মঘট সফল
মেনে নিয়েই বললেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ২০শে সেপ্টেম্বর— রাজ্যে ধর্মঘট ব্যর্থ হলে তাঁর সুবিধা হতো। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগার যাবতীয় কৃতিত্বে মমতা ব্যানার্জির একার ভাগ স্বীকৃত হতো।

কিন্তু ঠিক যেমনটি মুখ্যমন্ত্রী আশা করেছিলেন, তেমনটি হয়নি। মানুষের মনে অন্য রকম ছিল। তাই বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের ডাকা ১২ঘণ্টার ধর্মঘট সফল হয়েছে গোটা রাজ্যেই। অবস্থা বুঝে দুপুর তিনটে নাগাদ মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাক্কা তেইশ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর মোদ্দা কথা একটিই। আর তা হলো— ‘ফরগেট কে ডেকেছে না ডেকেছে। আমি মুখ্য সচিবকে বলছিলাম, এই বন্‌ধটা মানুষ সমর্থন করেছেন। ইস্যু ইজ জেনুইন।’ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বাংলার মা-মাটি-মানুষ এবং সারা দেশের সাধারণ মানুষ এই ইস্যুগুলিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।’ উল্লেখ্য, এদিন বি জে পি, এস ইউ সি-ও ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল।

কিন্তু এই সাংবাদিক সম্মেলনেই তৃণমূল নেত্রী জড়িয়ে পড়লেন দ্বিধায়, দ্বিচারিতায়। বামপন্থীদের বিরোধিতা করার দায় তাঁর ছিল। আবার এন ডি এ-কে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ারও কী তাঁর প্রয়োজন ছিল? সম্ভবত। কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রমাণ দুপুর ১২টার মধ্যেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন পুলিস রিপোর্টে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতার কৃতিত্ব দাবি করাও তাঁর খুবই দরকার ছিল। আবার ধর্মঘটের বিরোধিতার কথা বলে পুঁজির মালিকদের আশ্বস্ত করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল। তাই, এই চারটি কারণে এদিনের মধ্যাহ্নকালীন সাংবাদিক সম্মেলন। আবার এই চারটি কারণকে মেলাতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রীর ভাষণ জট পাকিয়ে গেছে। জড়িয়ে পড়েছেন পরস্পর বিরোধিতায়।

একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ডাকা ধর্মঘটকে মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন— তা স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘আজকের ইস্যুটা কেন্দ্র এমন করেছে, পলিটিক্যাল পার্টিগুলি কী করবে?’ অথচ সেই তিনিই ধর্মঘটের দিন অফিসে না এলে ‘মাইনে কাটা যাবে’ জানিয়ে সার্কুলার জারি করেছিলেন। স্পষ্টই ভয় দেখিয়েছিলেন, একাংশকে আসতে বাধ্য করেছিলেন। আবার যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মুখ্য সচিবকে বলেছেন, ‘এই বন্‌ধটা মানুষ সমর্থন করেছেন’, সেই তিনিই আবার অফিসে আসার জন্য সরকারী কর্মচারীদের ‘কৃতজ্ঞতা’ এবং ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন একই সাংবাদিক সম্মেলনে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সরকারী দপ্তরগুলিতে নাকি প্রায় ৮৯-৯০শতাংশ কর্মীর উপস্থিতি ছিল। অননুকরণীয় ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘বন্‌ধ কর্মনাশা-সর্বনাশা-ধ্বংসনাশা।’ আরো বলেছেন, ‘আমি দেখেছি আসার সময় হাজরায় অনেক মানুষ বেরিয়েছেন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়েছেন। মানুষ বন্‌ধের রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন।’ আবার সেই তিনিই কিছুটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারী ক্ষেত্রে অনেক বেশি মানুষ অনুপস্থিত ছিলেন।’ কোন্‌টা তাঁর মত? কোন্‌টা তাঁর আসল, অকৃত্রিম অভিব্যক্তি?

খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং এল পি জি গ্যাস থেকে বিপুল ভরতুকি হ্রাসের মতো ‘ইস্যু’-কে ‘জেনুইন’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। প্রথম ইউ পি এ সরকারের সময়ে বামপন্থীদের বিরোধিতায় মনমোহন সিং খুচরো ব্যবসায় বিদেশী বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে পারেনি। তবু এদিন মমতা ব্যানার্জি দাবি করে ফেলেছেন, ‘আমরাই প্রথম বিষয়টি ধরেছি। সমর্থন উইথড্র করেছি। তার জন্য গর্বিত।’ কোনো আন্দোলন যে একদিনে শেষ হয় না, তা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুনিয়েছেন কীভাবে ধর্মতলায় অনশনের দিনগুলিতে তিনি ‘মশার কামড়-মাছির কামড়’ খেয়েছেন।

এদিন মমতা ব্যানার্জির গলায় ছিল বাস, ট্যাক্সি মালিকদের প্রতি হুঙ্কার। বলেছেন, ‘একটা কঠোর আইন আনছি আমরা। বাস, ট্যাক্সি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে, চলবে না— তা হবে না। ট্যাক্সি রিফিউজালের অভিযোগ বেশি পাচ্ছি। পরিবহন হচ্ছে এসেনসিয়াল। আমাদের বডিটা যেমন কমপ্লিট প্যাকেজ; খেতে, ঘুমোতে, কাজ করতে হয়। খাবেন না, ঘুমোবেন না— দেখুন ঠিক থাকে কিনা? পাল্‌স ঠিক থাকে কখনও ? পরিবহনও তাই ঠিক রাখতে হবে। যখন তখন বন্‌ধ, চালাবো না— দু’একটা ইউনিয়ন করছে। এ’সব চলবে না। প্যারালাল টেন্ডার দিয়ে গাড়ি নামাবো। ডিসরাপশন চলবে না। হয় করুন, নয় সরুন।’ বারাসতে একটি সরকারী বাস বি জে পি সমর্থকরা ইট মেরে ভেঙেছে। ঘটনাটিকে পার্ক স্ট্রিটের ধর্ষণের মতো ‘ছোট’ হিসাবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন— ‘দয়া করে আর ইট মারবেন না বাসে।’ তবে কোচবিহারে যুবতীসহ এস ইউ সি-র কর্মীদের প্রকাশ্যে তৃণমূলের কর্মীরা বেধড়ক মারধর করেছে, সেই ঘটনা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্যই করেননি তিনি।

এদিন আবার মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন যে, নন্দীগ্রামকাণ্ডের সময় তাঁর মোবাইল ফোনে নাকি আড়িপাতা হতো। দাবি করেছেন যে, তাঁর ফোনের তিনটি ডুপ্লিকেট চালু করা হয়েছিল। বলেছেন, ‘আমরা কি পারতাম না, সরকার তো আমাদের, আমরাও এই সব জানি। আমি অনেকদিন কেন্দ্রীয় সরকারে ছিলাম।’ প্রদেশ কংগ্রেসের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ম্যানিফেস্টো ড্রাফট করে দেখাচ্ছে। আমরা ড্রাফট করি। ভুল থাকলে আবার তা ঠিক করি।’