নিরাপত্তার বেড়াজালে অযোধ‌্যা

দেশজুড়ে আজ বামপন্থীদের সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা দিবস

নিরাপত্তার বেড়াজালে অযোধ‌্যা
+

 অযোধ্যা, ৫ ডিসেম্বর- বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনকে ঘিরে যথারীতি বুধবার থেকেই নিরাপত্তার বেড়াজালে মোড়া হয়েছে অযোধ্যা-ফৈজাবাদ। বিপুল পুলিশ বাহিনী, র‌্যাফ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে অযোধ্যার অলিগলিতে। বিগত কয়েক বছর গয়ংগচ্ছভাবেই কেটে যেত ৬ই ডিসেম্বর দিনটি। তবে মন্দির নিয়ে এবার নতুন করে যে জিগির তৈরি করা হয়েছে, তারফলে শহরের মানুষজন খানিক দুশ্চিন্তায় আছে। একই কারণে প্রশাসনও এবার বাড়তি তৎপর শহরে। 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন প্রতিবছরের মত এবারও শৌর্য দিবস, বিজয় দিবস হিসেবে উদ্‌যাপনের ডাক দিয়েছে। নতুন সংযোজন প্রতিটি মন্দির, মঠে দীপাবলির মতো প্রদীপ জ্বালানোর ডাক দেওয়া হয়েছ। বাবরি মসজিদ ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার এই দিনটি নাকি রামলালা মুঘল শাসকদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছিল, তাই এই উৎসবের আয়োজন। বিপরীতে মুসলিম সংগঠনগুলি যওম-ই গম বা দুঃখের দিন এবং কালাদিন হিসেবে পালন করে থাকে। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার শহরের সিভিল লাইন গান্ধী পার্কে অবস্থানে বসবে বামপন্থী এবং প্রগতিশীলরা। সংবিধান রক্ষা এবং সম্প্রীতির পক্ষে এই অবস্থান। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক অধ্যাপক অনিলকুমার সিং বুধবার জানান, হিন্দুত্ববাদীরা সংবিধান মানে না। সংবিধানকে অগ্রাহ্য করেই তারা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল। নতুন করে আবার সাম্প্রদায়িক হিংসা, উত্তেজনা ছড়ানো শুরু হয়েছে। বুলন্দশহরে সোমবার গোমাংসের গুজব ছড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে এক পুলিশ আধিকারিককে। হিংসা ছড়ানোর এই প্রচেষ্টার বিরোধিতাও আমরা করব ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। 
এদিকে অযোধ্যা-ফৈজাবাদে আড়াই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরসঙ্গে রয়েছে র‌্যাফ এবং সিআরপিএফ। ফৈজাবাদের পুলিশ সুপার অনিল সিং বুধবার জানান, অযোধ্যা, ফৈজাবাদ যমজ শহরের জন্য আমাদের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যানবাহন, হোটেল এবং ধর্মশালাতে তল্লাশি চলছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৫-৩০কোম্পানি পুলিশ এবং পিএসি বাহিনী বাবরি মসজিদ-রামজন্মভূমি বিবাদিত এলাকা ঘিরে রাখার কাজে মোতায়েন আছে। প্রতিবছর দুই সম্প্রদায়ের যে অনুষ্ঠানগুলি হয়ে আসছে সেগুলিকেই শুধু অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। 
এদিকে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা দিবস পালন করবে বামপন্থী দলগুলি। আগেই ছয়টি বামপন্থী দলের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সারা দেশেই সভা সমাবেশ মিছিলের মধ্যে দিয়ে এই দিবস পালন করা হবে। ৬টি বামপন্থী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। দেশের সংবিধান আক্রান্ত। ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ২৬বছরে পড়ছে। যা দেশের কালো দিন বলেই পালন করে আসছেন বামপন্থীরা। এই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির উপর আক্রমণ হেনেছে সাম্প্রদায়িক শক্তি। সংবিধানের উপরও এভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্বাচনের মুখে এবছর রামমন্দিরের ইস্যুকে সামনে রেখে ফের তৎপর হয়েছে। আর এস এস-র বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যে ফের রামমন্দিরের ইস্যুতে প্রচার শুরু করেছে। তারা মোদী সরকারের কাছে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। এই নিয়ে সঙ্ঘের তরফে আইনি বিধিনিষেধ ও আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের তৎপরতা চলছে। তারা ঘোষণা করেছে রামমন্দির নিয়ে বিশ্বাসকে কোনও আইনের মাধ্যমে বাধা দেওয়া যাবে না।  সঙ্ঘের এই অভিযান প্রতিহত করতে মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ৬টি বামপন্থী দল। সি পি আই (এম), সি পি আই, আর এস পি, ফরওয়ার্ড ব্লক, এস ইউ সি আই (সি), সি পি আই (এম-এল) লিবারেশন, যৌথভাবে এই ঘোষণা করে।