মোদী সরকারের বিরুদ্ধে
লড়াইয়ে কোথায় মমতা!

বিঁধলেন সেলিম

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে <br> লড়াইয়ে কোথায় মমতা!
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ৫ ডিসেম্বর— এই মুহূর্তে গোটা দেশে বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াই-আন্দোলনে কোথায় এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি? কৃষকের লঙ মার্চ কিংবা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আগামী ৮-৯ জানুয়ারি দেশজোড়া ধর্মঘটে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সংগঠন নেই কেন? বুধবার সরাসরি এই প্রশ্ন তুললেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাংসদ মহম্মদ সেলিম।

এদিন দুপুরে পার্টির রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম বললেন, আসলে সঙ্ঘ পরিবারের সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের ফলের নাম মমতা ব্যানার্জি। তাই বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে একটি লড়াই-আন্দোলনেও নেই তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা ব্যানার্জি। এ রাজ্যেও প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডে বিজেপি’র সহযোগী তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার উপর আক্রমণের বিপদের বার্তা তুলে ধরে তিনি বৃহস্পতিবার, ৬ই ডিসেম্বর সমস্ত দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে সম্প্রীতির মহামিছিলে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেলিম এদিন বলেন, অতীতে বাংলাতেও চেষ্টা চলেছে সম্প্রীতির মজবুত দেওয়াল ভাঙার, কিন্তু পারেনি। তাই আজ ঘুরপথে প্রথমে গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড ভাঙার কাজ চলেছে। এখন ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় মহাজাতি সদনের সামনে থেকে ১৭টি বামপন্থী ও সহযোগী দলের আহ্বানে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মহামিছিল শুরু হবে। মহাজাতি সদন থেকে মহামিছিল শুরু হয়ে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড হয়ে শিয়ালদহ ও মৌলালি পেরিয়ে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ধরে মল্লিকবাজার, পার্ক সার্কাস হয়ে সুরাবর্দী অ্যাভিনিউয়ে শেষ হবে। এদিন সেলিম বলেন, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা সহ গোটা দেশে যখন বিজেপি হালে পানি পাচ্ছে না, তখন এ রাজ্যে শাসকদলের সহযোগিতায় সাম্প্রদায়িক শক্তি আকার বড় করছে। সেলিম এ দিন বলেন, তথাকথিত ‘হিন্দু সংহতি’ সংগঠনটি আসলে আরএসএস এবং তৃণমূলের জয়েন্ট মিলিশিয়া।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়নি, তখন বাবরি মসজিদ ভাঙার কয়েক দিন আগে ব্রিগেডে সমাবেশ করে যুব কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বামফ্রন্টের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলেন। সেই সমাবেশেও তিনি আরএসএস-বিজেপি’র বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। রাজ্যে আরএসএস-বিজেপি’র নামাঙ্কিত ‘রথযাত্রা’ প্রসঙ্গে সেলিম এদিন বললেন, বাংলার মানুষ জানেন, আষাঢ় মাসে রথযাত্রা হয়। ওটাকে ‘মোদী যাত্রা’, ‘অমিত যাত্রা’, ‘যোগী যাত্রা’ যা খুশি বলা যেতে পারে, কিন্তু রথযাত্রা নয়। আর তেমনই তার পিছু পিছু তৃণমূলের ‘পবিত্র যাত্রা’ও নয় ওটা। আসলে দুজনেই প্রতিযোগিতামূলক যাত্রায় নেমেছে। তৃণমূল কেমন সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপি’র সহযোগী, তার দৃষ্টান্ত দিতে এদিন মহম্মদ সেলিম বললেন, মালদহের ইংরেজবাজারে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সভার অনুমতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিয়ে দিলেও হুগলীর আরামবাগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সভার অনুমতি মেলেনি।
সেলিম বললেন, গোটা দেশে বিজেপি যখন মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন বিজেপি’র নির্বাচনী প্রচারের জন্য এ রাজ্যকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বেকারদের চাকরির কথা আর বলেন না, বিদেশ থেকে কালা ধন ফেরত নিয়ে আসার কথা বলেন না, কৃষকের ফসলের উৎপাদন খরচের দেড় গুণ দামের কথা বলেন না। বুলন্দশহরে পুলিশ খুন হওয়ার ঘটনায় নিন্দা, প্রতিবাদ করার সময়টুকুও আজ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছেন না। এ রাজ্যে কৃষক যখন লঙ মার্চে, শ্রমিকরা যখন রুজির দাবিতে আন্দোলনে, তখন সেই লড়াই-সংগ্রাম থেকে নজর ঘোরাতেই দুই দলের প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক তৎপরতা। সিপিআই(এম)’র গভীর বিশ্বাস, আরও একবার বাংলার মানুষ শান্তির জন্য, সম্প্রীতির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যের লক্ষ্যে সতর্ক থেকেই রুটিরুজির লড়াইয়ে শামিল হবেন।
এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, স্বাধীনোত্তর ভারতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবার নামে সব থেকে ঘৃণ্য বর্বর কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বাবরি মসজিদ ভেঙে। আজও তার বিচার চলছে। এমন ঘৃণ্য কাণ্ডের চক্রীরা শাস্তি পায়নি। তাদের মধ্যে কিছু অপরাধী নতুন সাজে ক্ষমতায়। তারাই আজ পশ্চিমবঙ্গে বিভাজনের রাজনীতিতে নেমেছে।