ভাড়ার রথে নয়,
ঐক্যের মিছিল আজ পায়ে হেঁটেই

ভাড়ার রথে নয়, <br> ঐক্যের মিছিল আজ পায়ে হেঁটেই
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ৫ডিসেম্বর— রণাঙ্গন প্রস্তুত। একদিকে ফ্যাসিবাদী শাসন জমানা প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া আরএসএস বিজেপি। অন্যদিকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ জনগণ। 

একদিকে গোরক্ষার নামে পিটিয়ে খুন, ‘রামের’ নামে পিটিয়ে খুন। অন্য দিকে ভাত-রুটি-ঘর-কলম-পেন্সিল-ভিটামিনের দাবি। 
রণাঙ্গন প্রস্তুত। আমাদের রাজ্য, আমাদের স্বদেশ তুলে দেব না বাবরি ভাঙা ত্রিশূলধারীদের হাতে। আমাদের পড়শি, সন্তান সন্ততিদের ভবিষ্যৎ তুলে দেব না উদারনীতির বুলডোজার চালানো মোদী জেটলির কাছে। 
সাম্প্রদায়িক আরএসএস-বিজেপি দূর হটো, ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় জোট বাঁধো সম্প্রীতির সুরে। বৃহস্পতিবার লাখো কণ্ঠে বলবে ঐক্যের মহামিছিল। একইসঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা, অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানাবে বামপন্থীরা।
বামপন্থী ও সহযোগী দলসমূহের আহ্বানে এদিন দুপুর দেড়টায় মহাজাতি সদন থেকে মিছিলে যোগ দেবেন সমাজের সব অংশের গণতন্ত্রপ্রিয়, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। পায়ে পায়ে মিছিল এগবে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড, শিয়ালদহ, এজেসি বোস রোড ছুঁয়ে মৌলালি, মল্লিকবাজার পেরিয়ে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউতে। 
উত্তর প্রদেশ থেকে ভাড়া করা এসি ভলভো বাসের ‘রথে’ সওয়ার দাঙ্গাবাজদের ঠাঁই নেই এ শহরে— স্লোগানে স্লোগানে বলবে আজকের মহামিছিল। 
বুলন্দশহরে বজরঙ দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বিজেপি’র সশস্ত্র জমায়েত থেকে লেগেছে আগুন, খুন হয়েছেন পুলিশ আধিকারিক সুবোধ সিং। পুড়েছে পুলিশ চৌকি, জিপ। তবু যোগী আদিত্যনাথ নিদান হেঁকেছেন মানুষ খুনের তদন্ত পরে, তদন্ত হোক গোহত্যা নিয়ে। একরাশ ঘৃণা নিয়ে ধিক্কার জানাবে মহামিছিল। 
‘রামমন্দির’র নামে ধর্মীয় বিভাজন নয়। সংবিধান ভাঙতে চাওয়া, দেশের সংসদে মন্দিরের সপক্ষে আইন আনতে চাওয়া গেরুয়া ব্রিগেডের বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় সজাগ থাকার বার্তা দেবে আজকের মহামিছিল। ‘শ্মশান’ আর ‘কবরস্থান’র রাজনীতি নয়, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের লড়াই জোরদার করো, বলবে মহামিছিল। 
২০১৪ থেকে ২০১৮। বিজেপি’র সাড়ে চার বছর শাসনকালে স্রেফ ‘গোমাংস’ আর ‘গোরু বিক্রি’র অজুহাতে খুন হয়েছেন ২৪জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। দাদরি থেকে আলোয়ার, গুয়াহাটি থেকে নওগাঁ, লাতেহার থেকে বাংলার ইসলামপুর। স্বঘোষিত গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাজা হোক, বন্ধ হোক গোরুর নামে মানুষ খুন, সোচ্চারে বলবে আজকের মহামিছিল। 
বৃহস্পতিবার সংবিধানের রূপকার ড. বি আর আম্বেদকরের মৃত্যুদিনও। মোদী সরকারের জমানায় দেশের দলিত, পিছিয়ে পড়া মানুষদের উপর তীব্র হয়েছে আক্রমণ, দলিত হওয়ার অপরাধে বারে বারে হামলা শানিয়েছে আগ্রাসী হিন্দুত্ব। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর থেকে গুজরাটের মেহসানা, আক্রান্ত হয়েছেন দলিতরা। ২০০৬ সালে প্রতি ১লাখ দলিত মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হতেন ২.৩জন, ২০১৬ সালে প্রতি ১লাখ দলিত মানুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২১জন। দলিত নিধন বন্ধ হোক, জাতের নামে হিংসা বন্ধ হোক, হুঁশিয়ারি দেবে আজকের মহামিছিল। 
মোদী সরকারের সাড়ে চার বছরে নিত্য নৈমিত্তিক ভাবে ঘটে চলেছে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮শতাংশ। ২০১৭ সালেই শুধু ৮২২টি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যোগী শাসিত উত্তর প্রদেশে ধর্মের নামে হিংসার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৭শতাংশ। ধর্মকে ব্যবহার করে হিংসার ঘটনায় সিরিয়া, নাইজেরিয়া আর ইরাকের পরেই চার নম্বরে ভারত। সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে লক্ষ কণ্ঠে আওয়াজ তুলবে এদিনের মহামিছিল। 
মোদী সরকারের সাড়ে চার বছরে বার বার আক্রমণের শিকার হয়েছেন মুক্তমনা, যুক্তিবাদী মানুষজন। দাভোলকার, পানসারে, কালবুর্গি থেকে গৌরী লঙ্কেশ, ক্রমশ বাড়ছে বুলেটবিদ্ধের তালিকা। প্রতিটি ঘটনাতেই অভিযুক্ত সঙ্ঘের ‘সনাতন সংস্থা’। ‘ভীমা কোরেগাঁও’র ঘটনায় ‘শহুরে মাওবাদী’ তকমা সেঁটে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বুদ্ধিজীবীদের। ধিক্কার জানাবে আজকের মহামিছিল। 
হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেএনইউ, গত সাড়ে চার বছরে মেধাচারিতার দুর্গ দখল করতে মরিয়া গেরুয়া ব্রিগেড। পাঠ্যবইয়ে মৌলবাদ, সিলেবাস বদলে মরিয়া হিন্দুত্ব শিবির। প্রতিবাদে গর্জে উঠবে আজকের মহামিছিল। 
২নভেম্বর, ২০১৮। মুম্বাইয়ের ট্রাইডেন্ট হোটেলে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ভব থ্যাকারে। ২৫ নভেম্বর, ২০১৮, সেই উদ্ভব থ্যাকারেই ‘রামমন্দির’ নির্মাণের ডাক দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন অযোধ্যায়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি-শিবসেনার দোসর তৃণমূল কংগ্রেসের বিভাজনের রাজনীতিকেও ধিক্কার জানাবে আজকের মহামিছিল। 
সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে সব সময়। প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর বার্তা দেয় সংহতি আর সম্প্রীতির। বিভেদের শাসনকে ঘুচিয়ে দেওয়া ঐক্যের। 
আজকের মহামিছিলেও হাঁটবে কলকাতা— মহাজাতি সদন থেকে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ। সংহতি-সম্প্রীতি-ঐক্যের শপথে। ধর্মের রাজনীতির বিরুদ্ধে সমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরেক্ষ শক্তির ঐক্য মজবুত করার অঙ্গীকারে।