রেকর্ড গড়ে ডনের
ঘরে নতুন শুরু

রেকর্ড গড়ে ডনের <br> ঘরে নতুন শুরু
+

অ্যাডিলেড, ১০ ডিসেম্বর— বারবার পরিস্থিতি ওলট পালট। শেষ হাসি ভারতীয় শিবিরেই। সফর শুরুর আগে অনেকেই বলেছেন, এটাই সেরা সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের এমন মসৃণ পথ আর পাওয়া যাবে না। প্রথম সুযোগ কাজে লাগালো ভারতীয় দল। অ্যাডিলেডে ৩১ রানের জয়। চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ভারত।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শেষবার ভারত জিতেছিল ২০০৮ সফরে। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে পার্থ টেস্ট জিতেছিল। কুম্বলের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেলেন কোহলি। দীর্ঘ দশ বছর পর। অ্যাডিলেডে জয়ের নিরিখে আরও অনেকটা পিছিয়ে যেতে হবে। ২০০৩ সালে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে অ্যাডিলেডে শেষ টেস্ট জিতেছিল ভারতীয় দল। অধিনায়ক কোহলি টেস্টে ২৫তম জয় পেলেন। ব্যক্তিগতভাবেও নজির গড়লেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসাবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন। রাহুল দ্রাবিড়, মহেন্দ্র সিং ধোনিরা অধিনায়ক হিসাবে ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় জয় পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের মুখ দেখেননি।
অ্যাডিলেডে স্বপ্নের উড়ান ভারতীয় দলের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনোদিন সিরিজ জেতেনি ভারত। শুরুর জয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা দেখা যেতেই পারে। বর্তমান দলে যে খিদে দেখা যাচ্ছে, সম্ভব হতেই পারে। ৩২৩ রান তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ১১৯.৫ ওভারে ২৯১ রানেই অলআউট। চা পানের বিরতির কিছু সময় আগেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। রবিচন্দ্রন অশ্বিন, মহম্মদ সামি এবং জসপ্রীত বুমরা তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি উইকেট ইশান্ত শর্মার নামে। সব কিছু সহজে হয়েছে তা নয়। ম্যাচ ক্রমশ কঠিন হচ্ছিল। জয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল ভারতীয় দল। শেষ উইকেটে নাথান লিয়ন এবং জশ হ্যাজলউডের ৪২ রানের জুটি। প্রতিটা রানে গ্যালারির চিৎকার। একেক সময় মনে হয়েছে, বাকি রানটুকুও তুলে নেবে অস্ট্রেলিয়া। অঘটন ঘটবে অ্যাডিলেডে। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের ১২০তম ওভারে অশ্বিনের বলে সেকেন্ড স্লিপে লোকেশ রাহুল ক্যাচ নিতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন বিরাট কোহলি। শেষ উইকেট হিসাবে আউট জশ হ্যাজলউড (১৩)। উলটোদিকে লিয়ন অপরাজিত ৩৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবমিলিয়ে ষষ্ঠ টেস্ট জয় ভারতের। কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন। ভারতীয় শিবির সেটা করতে পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার টেলএন্ডাররা লাগাতার ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকলেও মাথা ঠান্ডা রেখেছেন ভারতীয় বোলাররা। দিনের শুরুতে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন ইশান্ত শর্মা। ট্রাভিস হেডকে ফেরান। মধ্যাহ্নভোজের আগেই আউট শন মার্শও (৬০)। মধ্যাহ্নভোজের পরই দ্রুত অসি অধিনায়ক টিম পেইনকে ফেরান জসপ্রীত বুমরা। এতেও সমস্যা মেটেনি। লোয়ার অর্ডারে অনবদ্য কিছু পার্টনারশিপ হয়েছে তাঁদের। মিচেল স্টার্ক (২৮) ও প্যাট কামিন্স (২৮) অষ্টম উইকেটে ৪১ রান যোগ করেন। জুটি ভাঙেন মহম্মদ সামি। এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের নিরিখে এককভাবে শীর্ষে থাকতে পারতেন ঋষভ পন্থ। ১০৫তম ওভারে বুমরার বলে লিয়নের ক্যাচ ফেলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই প্রথম স্লিপে কামিন্সের ক্যাচ নেন কোহলি। লিয়নের সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন কামিন্স। 
সফরের দ্বিতীয় ম্যাচ পার্থে। তার আগে কোচ রবি শাস্ত্রীর বার্তা, ‘সকলে বিশ্রাম নাও। নেটে প্রচুর সময় কাটিয়ে কি হবে।’ সন্দেহ নেই, সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ভারতীয় দল।
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement