ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসানের জীবনাবসান

ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসানের জীবনাবসান
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: নয়াদিল্লি, ১০ডিসেম্বর- একদিনের ব্যবধানে ভারতের ইতিহাসচর্চার জগৎ হারালো দুই অগ্রণীকে। কলকাতায় রবিবার প্রয়াত হয়েছেন অনিরুদ্ধ রায়। সোমবার দিল্লিতে জীবনাবসান হলো অধ্যাপক মুশিরুল হাসানের। বয়স হয়েছিল ৭১। দুবছর আগে এক পথ দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কিডনিতে সমস্যা ছিলো। গতরাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার ভোররাতেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 
জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন প্রয়াত হাসান। আলিগড় মুসলিম বিশ্বিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করার পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করেন তিনি। সাম্প্রদায়িকতা, দেশভাগের ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রণী। ছিলেন ন্যাশনাল আর্কাইভসের অধিকর্তাও। তাঁর পরিচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: উইট অ্যান্ড হিউমার ইন কলোনিয়াল নর্থ ইন্ডিয়া, দ্য নেহরুস: পার্সোনাল হিস্টরি, ইসলাম ইন সাব কন্টিনেন্ট, ন্যাশনালিজম অ্যান্ড কমিউনাল পলিটিকস ইন ইন্ডিয়া। উপমহাদেশে ইসলাম, সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা নিয়ে একাধিক গ্রন্থের সম্পাদনাও করেছেন তিনি। 
অধ্যাপক হাসানের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ইতিহাসবিদ, শিক্ষক, উপাচার্য, সংগ্রাহক— মুশিরুল হাসান আমাদের সম্মিলিত সংস্কৃতি ও বিদ্যাচর্চার প্রতীক ছিলেন। আমাদের চেতনাকে সমৃদ্ধ করছে তাঁর লেখা, বই। অধ্যাপক ইরফান হাবিব শোক জানিয়ে বলেছেন, ভারতের অন্যতম সেরা ইতিহাসবিদ। 
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৮সালে অধ্যাপক হাসানকে ডি লিট দিয়েছিল। এশিয়াটিক সোসাইটি সুকুমার সেন স্মারক সম্মান দিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক জোয়া হাসান। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement