নতুন পেশার শ্রমজীবীদের
মধ্যে নতুন পন্থায় ধর্মঘটের প্রচার

নতুন পেশার শ্রমজীবীদের <br> মধ্যে নতুন পন্থায় ধর্মঘটের প্রচার
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর— আজাদ হিন্দ ধাবা থেকে সিরাজ, বালিগঞ্জ প্লেস থেকে চায়না টাউনের বেজিঙ। শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন তরুণ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকরা। সুইগি, জোমাটো বা ফুডপান্ডার মতো ‘ফুড অ্যাপ’ সংস্থার ডেলিভারি বয়দের হাতে হাতে পৌঁছাচ্ছে ধর্মঘটের লিফলেট। সাড়াও মিলছে তরুণ শ্রমজীবীদের। 

৮এবং ৯ ই জানুয়ারির দেশ জোড়া ধর্মঘট সফল করতে, ধর্মঘটে নয়া প্রজন্মের নতুন পেশার তরুণ শ্রমজীবীদের শামিল করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিআইটিইউ কলকাতা জেলা কমিটি। 
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্যও চলছে উদ্যোগ। 
কলকাতা শহরেই তিন হাজারের বেশি রেস্তোরাঁয় রোজ সকাল সন্ধ্যায় জড়ো হন ‘ফুড অ্যাপ’ সংস্থাগুলির ডেলিভারি বয়’রা। সিআইটিইউ-র পক্ষ থেকে পৌঁছানো হচ্ছে রেস্তোরাঁগুলির সামনে। ‘ফুড অ্যাপ’ সংস্থাগুলির ডেলিভারি বয়দের নেই ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষা, নেই নিয়মিত বেতন, নেই ছুটি। ইতিমধ্যেই গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘ফুডপান্ডা’, ‘জোমাটো’ বা ‘সুইগি’র মতো সংস্থাগুলির ডেলিভারি বয়’রা শামিল হয়েছিলেন ন্যায্য দাবির আন্দোলনে, পাশে ছিল সিআইটিইউ। আন্দোলনের অভিজ্ঞতাতেই ‘ফুড অ্যাপ’ সংস্থাগুলির ডেলিভারি বয়’রা বুঝেছেন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ছাড়া তাঁদের দাবি আদায় সম্ভব নয়। ধর্মঘটের সমর্থনে নিজেরাই লিফলেট সংগ্রহ করে বিলি করছেন সহকর্মীদের মধ্যে। ৮এবং ৯ জানুয়ারির দেশ জোড়া ধর্মঘটে শামিল হতে চলেছেন ‘সুইগি’, ‘ফুডপান্ডা’ বা ‘জোমাটো’র মতো সংস্থার ডেলিভারি বয়’রাও। 
‘ফুড অ্যাপ’ ছাড়াও অন্যান্য ‘অ্যাপ’ বেসড পরিষেবা কর্মী যেমন ‘ফ্লিপকার্ট’, ‘অ্যামাজন’-র মতো সংস্থার ডেলিভারি বয়’দেরও ধর্মঘটে শামিল করার জন্য চলছে প্রচার অভিযান। সিআইটিইউ কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ‘ফ্লিপকার্ট’ বা ‘অ্যমাজন’-র ডেলিভারি সেন্টারগুলিতে। দু এক কথার পর হাতে হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মঘটের বারো দফা দাবি সংবলিত লিফলেট। 
একইভাবে ধর্মঘটে শামিল করার জন্য পৌঁছানো হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত তরুণ শ্রমজীবীদের কাছে। 
যাদবপুর বাইপাস কানেক্টর, যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ড, খান্না, বেহালা চৌরাস্তা, বেহালা সরশুনার মতো শহরের নানা প্রান্ত থেকে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের সল্টলেক সেক্টর ফাইভ বা রাজারহাট নিউটাউন পৌঁছানোর ভরসা ‘শাটল’ সার্ভিস। টাটা সুমো বা বোলেরো’র মতো এসইউভি গাড়িতে ‘শাটল’-র মাধ্যমেই যাতায়াত করেন আইটি কর্মীরা। শহরের নানা প্রান্তে থাকা এরকম বাস স্ট্যান্ড বা ‘শাটল’ গাড়ির স্ট্যান্ডে জড়ো হচ্ছেন সিআইটিইউ কর্মীরা, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ধর্মঘটের লিফলেট। 
তরুণ শ্রমজীবীদের সংগঠিত করার উদ্যোগে চলতি বছরেই দু’টি তরুণ শ্রমজীবী কনভেনশন সংগঠিত করেছিল সিআইটিইউ। নতুন প্রজন্মের তরুণ শ্রমজীবীদের সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করে চলেছেন তরুণ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকরা। সিআইটিইউ-র উদ্যোগেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যরাকপুরে উপ শ্রম কমিশনারের দপ্তর ‘ফুড পান্ডা’র ডেলিভারি বয়দের বেতন জনিত সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বসতেও বাধ্য হন। সিআইটিইউ কলকাতা জেলা সম্পাদক দেবাঞ্জন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘খুব কম সংখ্যায় হলেও ধারাবাহিক ভাবে তরুণ শ্রমজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ফলে সাড়া মিলছে ধর্মঘটের প্রচারে। আমরা তাঁদের বলছি তাঁদের দাবি নিয়ে ছোট ছোট লড়াইগুলিকে যদি বৃহত্তর সংগ্রামের শরিক না করা যায় তাহলে তাঁদেরও দাবি আদায় সম্ভব নয়। ধর্মঘটের সমর্থনে আমাদের আরও নিবিড় প্রচার চলবে কলকাতার তরুণ শ্রমজীবীদের মধ্যেও’। 
শুধুমাত্র কলকাতার বাসিন্দা নন, বড় দিন থেকে পয়লা জানুয়ারির ছুটির সপ্তাহে কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে মফস্বল, শহরতলির। সিআইটিইউ কলকাতা জেলা কমিটি উদ্যোগ নিয়েছে ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত আলিপুর চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, রবীন্দ্রসদন-নন্দন চত্বর,পার্ক স্ট্রিট,  ময়দানের মতো জায়গাগুলিতে বিলি করা হবে লিফলেট। বছর শেষ ও নতুন বছর শুরুর ব্যবধানের ছুটির সপ্তাহে যাঁরা সপরিবারে কলকাতায় আসেন তাঁদের সঙ্গেও কথা বলবেন সিআইটিইউ কর্মীরা, তুলে দেবেন লিফলেট। দেবাঞ্জন চক্রবর্তী জানিয়েছেন ‘ধর্মঘটের বারো দফা দাবি সাধারণ মানুষের দাবি। শ্রমজীবী, নিম্ন মধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তেরও সঙ্কট বাড়ছে প্রতিদিন, ধর্মঘট ছাড়া মানুষ মারা নীতিগুলিকে রোখা সম্ভব নয়, আমরা তুলে ধরব ছুটির সপ্তাহে কলকাতায় সপরিবারে আসা মফস্বল বা শহরতলির মানুষদেরও। কলকাতার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলিতে চলবে সপ্তাহ ভর ধর্মঘটের প্রচার’। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement