মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশিষ্টরা
গড়ে তুললেন নতুন এক মঞ্চ

মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশিষ্টরা <br> গড়ে তুললেন নতুন এক মঞ্চ
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর— মেয়াদ পেরিয়েছে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার সময়সীমা। সময় এসেছে সাহস দেখানোর। লুট হওয়া অধিকারের জমিতে দাঁড়িয়েই চিহ্নিত করতে হবে ন্যায্য পাওনা অধিকার। কেননা মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চলে নিরন্তর। সোমবার গোলপার্কে সমাজের নানা আঙিনার বিশিষ্টরা প্রতিবাদের ঐক্যমতে পৌঁছে গড়লেন নতুন মঞ্চ —‘মানবাধিকার কণ্ঠস্বর’।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্রে যুক্ত ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, অর্থনীতিবিদ, লেখক, কবি, গায়ক —সমাজের নানা উঠোনের বিশিষ্টজনরাই এদিন কনভেনশনে মানুষের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লড়াইয়ে শামিল থাকার অঙ্গীকার নিলেন। তাঁরাই এদিন জানালেন, অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে রক্তাক্ত হতে হবে —এমন প্রস্তুতি নিতে হবে। সোমবার গোলপার্কের এই কনভেনশন উদ্বোধন করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি চিত্ততোষ মুখার্জি। তিনি বললেন, মানবাধিকারের জন্য সতত সংগ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের অধিকার রক্ষায় সরকার কমিশন বা আদালত যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। সেক্ষেত্রে সকলকে নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে সাহসী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা এসেছে। এই কনভেনশন পরিচালনা করলেন অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক পবিত্র সরকার, অধ্যাপক সুজিত বসু, সমরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহম্মদ নিসার খান, অমিত কিরণ দেব, ড. শান্তিপদ গণচৌধুরি ও অধ্যাপক ঈশা মহম্মদকে নিয়ে গড়া সভাপতিমণ্ডলী। এদিন কনভেনশনে উপস্থিত থেকে গোলপার্ক মিশনের মহারাজ স্বামী সুপর্ণানন্দ বললেন, যেখানে মানুষের অধিকার প্রতিদিন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে সেখানে আজ আর নিরপেক্ষ থাকতে পারি না। সভাপতিমণ্ডলীর পক্ষ থেকে অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বললেন, ক্ষুধাপীড়িত বিশ্বে ১১৯টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান রয়েছে ইথিওপিয়ারও নিচে, ১০৩তম স্থানে। আর গণতান্ত্রিক পরিবেশের নিরিখে ২০১৬সালে যে ভারতের অবস্থান ছিল ৩২-এ, সেখানে তার পরের বছরেই নেমে যায় ৪২-এ।
সমাজের বিশিষ্টজনদের বাঙ্ময় আলোকপাতে সোমবার গোলপার্কের এই ঐতিহাসিক কনভেনশনে নির্দিষ্ট হলো নতুন মঞ্চের কর্মকাণ্ডের অগ্রাধিকারের পরিধি। যাবতীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজিরকে নথিভুক্ত করা এবং আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের পাশে দাঁড়ানোর সর্বতো প্রয়াস জারি রাখবে এই মঞ্চ। এর পাশাপাশি সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে প্রতিবাদী কণ্ঠকে সোচ্চার করে তোলা। ধর্ম, জাতপাত, বর্ণ, ভাষা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের কৌশলগুলি চিহ্নিত করে মানুষকে সচেতন করে তোলার প্রয়াস জারি রাখবে এই মঞ্চ। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র-বহুত্ব সুরক্ষায় উদ্যোগী হওয়া—এই যাবতীয় কর্মকাণ্ড জারি রাখবে এই নতুন মঞ্চ। সোমবার কনভেনশন থেকে আহ্বায়কমণ্ডলী, উপদেষ্টামণ্ডলী, এবং সভাপতিমণ্ডলীকে নিয়েই গড়া হয়েছে নতুন কমিটি। 
এদিন গোলপার্কের এই কনভেনশনে এছাড়াও বক্তব্য রাখলেন অধ্যাপক অমিয় বাগচী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোককুমার গাঙ্গুলি, ওমপ্রকাশ মিশ্র, ইশা মহম্মদ, অমিত কিরণ দেব, অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরি, জহর সরকার, সন্ধি মুখার্জি, গীতেশ শর্মা, চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্ত, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, চিত্রশিল্পী ওয়াসিম কাপুর, দেবদূত ঘোষ, লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, সর্দার আমজাদ আলি, সঙ্গীতশিল্পী সিদ্ধার্থ রায় (সিধু) প্রমুখ। মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে আয়োজিত এই কনভেনশনে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন সৌমেন্দ্রনাথ বেরা। তিনি জানান, এই প্রচেষ্টাকে একটা ধারাবাহিক রূপ দিতে চাই আমরা। এদিন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা পাঠ করেন কবি রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। কনভেনশনে কবিতাপাঠ করেছেন গায়ক পল্লব কীর্তনিয়া। সোমবার কনভেনশনে বক্তব্য রাখার মাঝে অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিক জহর সরকার জানালেন, এখন মোবাইলে জানতে পারলাম রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিদিন যেভাবে জাতীয় সংস্থার সার্বভৌম অধিকার একটু একটু করে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, জাতীয় সংস্থার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলছে এবং তার পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে গোটা দেশে বিষ ছড়ানো চলছে তা ভয়াবহ। কনভেনশনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাদশা মৈত্র, সুবিমল সেন, তরুণ মজুমদার, অধ্যাপক দেবাশিস মুখার্জি, চন্দন সেন, মন্দাক্রান্তা সেন, ভারতী মুৎসুদ্দি প্রমুখ। সোমবার কনভেনশন সঞ্চলনা করেন দেবাশিস বসু।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement