রথ শুনানির মাঝেই মুকুলরা
হঠাৎ নির্বাচন কমিশনে

রথ শুনানির মাঝেই মুকুলরা <br> হঠাৎ নির্বাচন কমিশনে
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর— রথযাত্রা নিয়ে যখন শুনানি চলছে আদালতে, তখন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘুরে এল বিজেপি। 
রাজ্য বিজেপি’র নেতাদের কাছে খবর, লোকসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে দু’মাস পরেই। অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারিতে। আগামী এপ্রিলে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কাজ হয়ে যাবে। রথযাত্রা যত পিছাবে ততই নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে রথযাত্রা জুড়ে যাওয়ার সুবিধা দল পাবে বলেই বিজেপি’র নেতারা মনে করছেন। তাই রথযাত্রা নিয়ে টালবাহানার মধ্যেই সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনে হাজির হলেন তাঁরা। কেন? বিজেপি’র প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বক্তব্য, রাজ্যে কোথাও তাঁরা সভা করতে পারছেন না। বাধা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। 
মঙ্গলবার পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলিতে বিজেপি’র ফল ভালো হবে না বলেই তাদের আশঙ্কা। এদিনই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত উর্জিত প্যাটেল। নয়াদিল্লিতে বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা আলোচনায় বসেছিলেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিজেপি’র পক্ষে অনুকূল নয়। এই পরিস্থিতিতে রথযাত্রা নিয়ে আদালতের শুনানির মাঝেই নির্বাচন কমিশনের অফিসে যায় বিজেপি’র প্রতিনিধি দল। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলের প্রধান হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করা মুকুল রায় ছিলেন এই প্রতিনিধি দলে। তিনি ছাড়াও ছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার, প্রতাপ ব্যানার্জি দেবশ্রী চৌধুরি, সঞ্জয় সিং প্রমুখ। নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা প্রসঙ্গে প্রতাপ ব্যানার্জি বলেন, ‘‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল। আমাদের প্রচারসভা করতে দেওয়া হচ্ছে না রাজ্যের কোথাও। সে কথাই আমরা জানাতে গিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন যে বিষয়টি তাঁরা কেন্দ্রীয় নির্বাচন আধিকারিককে জানিয়ে দেবেন।’’ প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর কোচবিহারের ঝিনাইডাঙা থেকে রথ বের করতে না পারলেও সভা করেছিল বিজেপি। সভায় বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ভাষণ দিয়েছিলেন। এই সভার প্রশ্নে বিজেপি’র দাবি, ওই সভার জন্য রাজ্য সরকার মামলা করেছে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে।
সভা করতে না দেওয়া, বাধা দেওয়া — এই বিষয়টির জন্য পুলিশ, প্রশাসন, আদালতের কাছে না জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কেন? দেবশ্রী চৌধুরি জানিয়েছেন, ‘‘ফেব্রুয়ারি থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’’ প্রতাপ ব্যানার্জিরও মত রাজ্যে নির্বাচন চলবে এপ্রিলে।
অন্যদিকে, বিজেপি’র রথযাত্রা নিয়ে বুধবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা। এই বৈঠকে বাদ সাধল সরকার। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট তার নির্দেশে বলেছে, আগামী বুধবারের মধ্যে এই বৈঠক করতে হবে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শুক্রবারের মধ্যে। এর ফাঁকেই রাজ্য জানালো বিজেপি’র তিন নেতার সঙ্গে সরকার বৈঠকে বসবে না। এনিয়ে ফের মামলা দায়ের হলো হাইকোর্টে। রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, মুকুল রায়, এবং প্রতাপ ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকায় তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসা যাবে না। এই তিন নেতার সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসবে না। রাজ্য সরকার এই বক্তব্য নিয়ে মামলায় যাওয়ার পরই বিজেপি’র পক্ষ থেকে পৃথক একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই আদালত অবমাননার মামলায় বলা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বিজেপি’র সঙ্গে বৈঠকে বসতে গড়িমসি করছে। মিথ্যা অজুহাত এনে আদালতের নির্দেশ পালনে সরকার বিলম্ব করছে। সোমবার রাজ্য সরকারের দায়ের করা মামলার শুনানির সময় বিজেপি’র আইনজীবী আদালতকে বলেন, বিজেপি’র যে সমস্ত নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে রাজ্য সরকার উল্লেখ করেছে তাঁদের কারুর বিরুদ্ধেই খুন রাহাজানির অভিযোগ নেই। যে সমস্ত মামলা রয়েছে তা রাজনৈতিক মামলা। এরপরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয় ফৌজদারি মামলা রয়েছে এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন আলোচনায় বসতে পারে না। রাজ্য সরকারের বক্তব্য শুনে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার মন্তব্য করেন, সরকার পক্ষের যাঁরা আলোচনায় বসবেন সেই মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি’র বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাহলে তাঁরা কী ভাবে আলোচনায় বসতে পারেন? বিচারপতি’র এই মন্তব্যের পরই এদিন মামলাটি শুনানি আর এগয়নি। ডিভিসন বেঞ্চ মামলাটি মঙ্গলবার সকালে শুনানির জন্য রেখেছে। এই শুনানির সঙ্গে বিজেপি’র দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলাটিরও শুনানি হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement