জেলে বসেই তোলাবাজি
পুলিশি হেপাজতে গব্বর

জেলে বসেই তোলাবাজি <br> পুলিশি হেপাজতে গব্বর
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর— জেলে বসে তোলাবাজি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রশিদ আলম ওরফে গব্বরকে সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলো। অভিযোগ গব্বর তার কিছু শাগরেদদের দিয়ে বড়তলা থানা এলাকার ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। গত ৪ ডিসেম্বর গব্বরের ওই হুমকি ফোনের জেরে বড়তলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ব্যবসায়ী চেতন সিং। 
আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দী যাবজ্জীবনের আসামী গব্বর পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চাইছে বলে অভিযোগ ওঠে। না দিলে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয় ওই ব্যবসায়ীকে। 
পুলিশকে ঘটনার সত্যতা জানাতে ওই ব্যবসায়ী মোবাইলে গব্বরের গলার আওয়াজও শোনান। গুরুতর এই অভিযোগে এদিন কলকাতা পুলিশের দুষ্কৃতী দমন শাখার আধিকারিকরা গব্বর’কে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে। তোলাবাজির ঘটনার তদন্তে গব্বরকে ১০দিনের পুলিশ হেপাজতের নেওয়ার আবেদন করেন গোয়েন্দারা। পরে ওই আবেদনের মঞ্জুরি দিয়েছেন মুখ্য মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট। 
এদিকে, ছেলেকে নিজের চোখে দেখতে সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে এসেছিলেন গব্বরের মা। এসেছিলেন বোন ও দুই ভাইও। মধ্য কলকাতার উমা দাস লেনে থাকে গব্বরের পরিবার। যাবজ্জীবনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় আবারও মিথ্যা তোলাবাজির অভিযোগ এনে দাদাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এদিন এমনই অভিযোগ করেছেন গব্বরের বোন সোফিয়া আলম। তাঁর দাবি, ‘দাদা নিজের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধ জগত থেকে সরে এসেছে। টানা ১৭বছর জেলে সাজা খাটছে। জেলেতে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।’ তাহলে কেন আবারও মিথ্যা অভিযোগ ? প্রশ্ন তুলেছেন সোফিয়া।
তবে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন হুগলীর এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী রমেশ মাহাতোকে কাজে লাগিয়ে সংশোধনাগারে বসেই আবার তোলাবাজি শুরু করেছে গব্বর। তাই বড়তলার তোলাবাজির অভিযোগে তদন্তের স্বার্থে গব্বরকে পুলিশি হেপাজতে নেওয়াটা জরুরি। এরপরে মুখ্য মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট রশিদ আলম ওরফে গব্বরের ১০ দিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেন। বড়তলা থানার ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। গব্বরকে সামনে রেখে ওই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সংশোধনাগার থেকে তোলাবাজি চালানোর বিষয়টি পরিষ্কার করতে চান গোয়েন্দারা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement