সংসদে মোদীর জবাব
চাইতে এককাট্টা বিরোধীরা

দিল্লিতে বৈঠক ২১ দলের

সংসদে মোদীর জবাব <br> চাইতে এককাট্টা বিরোধীরা
+

 

নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর- বিজেপি-কে পরাস্ত করতে সমন্বয় রেখে কাজ চালাবে বিরোধী দলগুলি। সংসদের মধ্যে সমন্বয় জোরালো হবে একাধিক বিষয়ে সরকারকে বাধ্য করতে। সোমবার দিল্লিতে বিরোধী একুশ দলের বৈঠকে এই মর্মে বোঝাপড়া হয়েছে। আলোচনার মূল সুর, সংসদে বিজেপি জোট সরকারকে জবাব দিতে বাধ্য করতে একযোগে ভূমিকা নেবেন বিরোধীরা।
মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এই অধিবেশনে বিরোধীদের তরফে গুরুত্বপূর্ণ হবে রাফালে যুদ্ধবিমান বরাত কেলেঙ্কারির যৌথ সংসদীয় তদন্ত। গুরুত্ব পাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধিকারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র বারবার হস্তক্ষেপ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মোদীর জবাব চাইবেন বিরোধীরা। বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সংবাদমাধ্যমে জানান, সমন্বয় রেখে চলার বিষয়ে সহমত জানিয়েছে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল। সমন্বয়ের জন্য আগামী কয়েকমাসে আরও কয়েকটি বৈঠক হবে। 
মঙ্গলবারই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল গণনা। তার ঠিক আগে হয়েছে এই বৈঠক। সংসদের অ্যানেক্স ভবনে বৈঠকে অংশ নেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীও। সিপিআই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই সাধারণ সম্পাদক সুধাকর রেড্ডি, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, জনতা দল (এস)’র এইচ ডি দেবেগৌড়া, ডিএমকে’র এম কে স্ট্যালিন, এনসিপি’র শারদ পাওয়ার, ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ফারুক আবদুল্লা, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, লোকতান্ত্রিক জনতা দল নেতা শারদ যাদব এবং ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চার বাবুলাল মারান্ডি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন, এনপিএফ’র কেজি কেনয়ে, আরএলডি’র অজিত সিং এবং এনকে প্রেমচন্দ্রন প্রমুখ। এদিনই মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর বিহারের রাষ্ট্রীয় লোকসমতা পার্টির নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা আসেন বৈঠকে।
এদিন বৈঠকে যোগ দেয়নি সমাজবাদী পার্টি এবং বিএসপি। ফারুক আবদুল্লা জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে এই দুই দলের প্রধান অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতীর কথা হয়েছে। বিজেপি-কে হারানোর লক্ষ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন রয়েছে তাঁদেরও। বিরোধীদের বৈঠক পরিচালনা করেন টিডিপি নেতা এন চন্দ্রবাবু নাইডু। উল্লেখ্য, ছত্তিশগড় এবং মধ্য প্রদেশে বিএসপি’র সঙ্গে আসন বোঝাপড়া হয়নি কংগ্রেসের। 
ইয়েচুরি বৈঠকে বলেছেন, সংসদে জনতার বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধীদের সরব হওয়া জরুরি। শারদ যাদবের উদ্যোগে দেশের সংবিধান এবং অখণ্ডতা রক্ষার বার্তায় বিভিন্ন শক্তিকে নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে ‘সাঁঝা বিরাসত’ মঞ্চ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এই ধরনের কর্মসূচি আরও বেশি করার ওপর জোর দেন তিনি। 
জানা গেছে, একাধিক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী নেতাদের। বৈঠকে ইভিএম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র, ইভিএম, ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার দিকে এগনোর পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী দলগুলির। 
এদিন বিরোধী দলগুলির বৈঠকে মমতা ব্যানর্জি আক্রমণাত্মক সুরে একাধিক বিষয়েই বলেছেন। তিনি বলেছেন, সিবিআই এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিপর্যয় ঘটিয়েছে বিজেপি সরকার। একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি। ঘটনা হলো, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা ব্যানার্জির শাসনে রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে সরব বিরোধী বামপন্থীরা। রাজ্য মানবাধিকার কমিশন বা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ঠুঁটো করা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতির ফলে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বেড়েছে। 
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগে এদিন সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির আলাদা বৈঠক হয়। এই বৈঠকে রীতি অনুযায়ী হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এই বৈঠকে অংশ নেন রাজ্যসভায় সিপিআই (এম) নেতা টিকে রঙ্গরাজন। বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন যে রাফালে যুদ্ধবিমান বরাতে দুর্নীতির তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে সরব হবে পার্টি। সিবিআই’র দ্বন্দ্ব, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ, ব্যাঙ্কশিল্পের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়ে আলোচনার দাবি করেছেন তিনি। রঙ্গরাজন বলেছেন, কৃষকের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি সংসদে। সিপিআই (এম) দাবি জানিয়েছে সংসদে মহিলা এবং দলিতদের ওপর আক্রমণের বিষয়ে আলোচনারও।

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement