মালিয়াকে ভারতে প্রত্যর্পণের
নির্দেশ ব্রিটেনের আদালতের

মালিয়াকে ভারতে প্রত্যর্পণের  <br> নির্দেশ ব্রিটেনের আদালতের
+

 লন্ডন, ১০ ডিসেম্বর— লন্ডন আদালত জানিয়ে দিল বিজয় মালিয়াকে তুলে দেওয়া হবে ভারতের হাতে। 

ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারপতি এমা আর্বাথনট সোমবার বলেছেন, লিকার ব্যারন মালিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও তহবিল তছরুপের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর্বাথনট স্বীকার করে নেন ‘এটা যে ভুয়ো মামলা, তার কোনও লক্ষণ নেই।’ এবারে মালিয়ার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির মামলা শুরু করতে পারবেন গোয়েন্দারা। 
প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলায় মালিয়া অভিযুক্ত। ধুঁকতে থাকা কিংফিশার বিমান সংস্থাকে চাঙ্গা করতে স্টেট ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা তোলেন তিনি। আর ঋণ না মিটিয়েই, ২০১৬ সালের মার্চে সপরিবারে দেশ ছেড়ে চম্পট দেন। আশ্রয় নেন ব্রিটেনে। 
এদিন রায় শুনে সাততাড়াতাড়ি স্বাগত জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সুর চড়িয়ে বলেছেন, ‘ভারতের জন্য দারুণ দিন।’ সামনে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দাবি করেছেন, ‘দেশকে ঠকিয়ে কেউ পালাতে পারবে না। ব্রিটেনের আদালতের রায়কে স্বাগত। ইউপিএ জমানায় সুবিধাভোগী অপরাধীকে ফিরিয়ে আনছে এনডিএ সরকার।’ ঘটনা হলো, ইউপিএ জমানায় দুর্নীতি করলেও, এনডিএ জমানায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে। বিব্রত জেটলি মালিয়ার বয়ান ‘অসত্য’ বলে দাবি করলেও, মালিয়া যে তাঁকে ‘রফার’ কথা বলতে এসেছিলেন তা অস্বীকার করতে পারেননি। 
কিংফিশার এয়ারলাইনসের প্রাক্তন কর্ণধার মালিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের আদালতে মামলা চলছে গত এক বছর ধরে। গত বছর এপ্রিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে নক্কারজনক ‘অর্থনৈতিক অপরাধী’ এতদিন ছিলেন জামিনে। সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা চলছিল। সিবিআই এবং ইডি একটি যৌথ দল এই মুহূর্তে ব্রিটেনে রয়েছেন। মামলা কোন পথে এগয়, সেদিকে নজর রাখছে। 
তবে, নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন মালিয়া। সেক্ষেত্রে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আবেদন জানাতে হবে তাঁকে। আর মালিয়া যদি ওই আবেদন না করেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব প্রত্যর্পণ নিয়ে বিচারকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্মত হন, তবে স্বরাষ্ট্র সচিব প্রত্যর্পণ নির্দেশ দেবেন। এবং ওই নির্দেশ জারির ২৮ দিনের মধ্যে মালিয়াকে ভারতে ফেরত পাঠাতে হবে। ব্রিটেনের ২০০৩ প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, এজন্য বিচারব্যাবস্থা এবং স্বরাষ্ট্র সচিব উভয়েরই সম্মতি প্রয়োজন। ভারতে, বিশেষভাবে তৈরি জেলে রাখতে হবে মালিয়াকে। মালিয়ার হয়ে ভারতের কারাগারগুলি বেহাল দশার কথা তোলা হয়েছিল। বিচারক বলেছেন, তার জন্য তৈরি আর্থার রোড জেলের ব্যারাক ১২ নতুন করে সাজানো হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা পাওয়ারও সুযোগ থাকবে। 
রায় ঘোষণার সিবিআই মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘মালিয়াকে দ্রুত ভারতে ফেরত এনে মামলার নিষ্পত্তি ঘটাতে আমরা প্রস্তুত। এই মামলার জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। প্রত্যর্পণের বিষয়ে আমরা গোড়া থেকেই নিশ্চিত ছিলাম।’ 
এতদিন তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করে আসার পর গত বুধবার এক টুইটে ব্যাঙ্কগুলির পাওনা ঋণের আসল পুরোপুরি মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন মালিয়া। ‘আমার প্রত্যর্পণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মুখর হয়েছে। মামলা তার নিজের পথেই চলবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে রাখা সাধারণ মানুষের জমানো অর্থ এবং আমার বকেয়া ঋণের ১০০ শতাংশ ফিরিয়ে দিতে চাই। তবে কিংফিশার এয়ারলাইন্সের প্রাক্তন কর্মীরা হবেন আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি বিনম্রভাবে ভারত সরকার ও পাওনাদার ব্যাঙ্কগুলিকে অনুরোধ করছি, আপনারা এটা ফিরিয়ে নিন।’
আরেকটি টুইটে বলে, ‘আমি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপ করে ও ব্যাঙ্কের অর্থ লুট করে পালিয়েছি প্রতিপন্ন করতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। কর্ণাটক হাইকোর্টকে দেওয়া আমার ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব কেন ন্যায়বিচার পেল না?’
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement