জোট ছেড়েই বিরোধীদের
বৈঠকে কেন্দ্রের মন্ত্রী

জোট ছেড়েই বিরোধীদের <br> বৈঠকে কেন্দ্রের মন্ত্রী
+

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর— পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর আগেরদিনই বিপর্যয় এনডিএ’তে। পাঁচ রাজ্যেই বুথ ফেরত সমীক্ষায় বিজেপি’র ভরাডুবির ইঙ্গিত মিলেছে। এমন এক মুহূর্তে এনডিএ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন রাষ্ট্রীয় লোকশক্তি পার্টি (আরএলএসপি) প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা। শুধু এনডিএ বা মন্ত্রিত্বই ছাড়েননি, সোমবারই বিরোধী দলগুলির ডাকা বৈঠকে হাজির হয়েছেন। আবার আসামে এনডিএ ছাড়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে অসম গণ পরিষদও।
বিজেপি জোট বা মন্ত্রিত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে অবশ্য কুশওয়াহা এদিন প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা মন্ত্রিসভাকে রবার স্ট্যাম্পে পরিণত করেছেন নরেন্দ্র মোদী। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার পাশাপাশি বিহারকে স্রেফ ধাপ্পা দিয়েছেন তিনি। গরিব বা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য কাজ করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে শুধুমাত্র বিরোধীদের আক্রমণের রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪সালে মানুষ ভেবেছিলেন আচ্ছে দিন আসবে। তাঁদের মোহভঙ্গ ঘটেছে। বিহারও যে তিমিরে ছিল আছে সেখানেই। কুশওয়াহা মনে করেন, ২০১৯সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট একটি আসনও পাবে না বিহারে।
২০১৪-র লোকসভা ভোটে বিহারে ৪০টির মধ্যে ৩১টি আসন পেয়েছিল এনডিএ। কুশওয়াহার দল আরএলএসপি ৩টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবক’টিতে জয়ী হয়েছিল। কুশওয়াহার বিজেপি জোট ছাড়ার কারণ লোকসভা ভোটে সম্ভাব্য আসন বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধই। জোটের অন্দরে কুশওয়াহা এবার বিহারে গতবারের থেকে অনেক বেশি আসন দাবি করেছিলেন বলে খবর। আবার বিজেপি নেতৃবৃন্দ উলটে তাঁর দলকে গতবারের থেকেও কমিয়ে নাকি দুটি আসন বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে বিরোধ চরম আকার নেয়। বিজেপি সভাপতি নাকি জোটের অভ্যন্তরে জানিয়ে দেন, তাঁর দল ২০টি এবং জোটসঙ্গী নীতীশকুমারের জনতা দল (ইউ) ২০টি আসনে লড়বে। এমনিতে নীতীশকুমারের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক মোটেই মধুর নয় কুশওয়াহা। ফলে তিনি এনডিএ ছেড়ে বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেন। বিহারে তাঁকে আরজেডি-কংগ্রেস জোটে শামিল হতে হবে। এদিন তিনি কংগ্রেস সহ বিরোধীদের ডাকা বৈঠকে যোগও দেন।
তবে কুশওয়াহা এদিন এনডিএ সরকারকে আরএসএস’র কর্মসূচি নিয়ে চলছে বলে অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, আরএসএস কর্মসূচি নিয়ে চলছে যা সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক। অথচ সংবিধানে বর্ণিত সামাজিক ন্যায়ের বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চলেছে। এখনও পর্যন্ত অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সেন্সাস রিপোর্টও পেশ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কুশওয়াহা তাঁর ইস্তফাপত্রে একথাগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে আরও অভিযোগ করেছেন, সরকার এখন চালাচ্ছেন মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। যাবতীয় সিদ্ধান্ত ওঁরা দুজন নেন এবং বাকিদের মাথা নাড়া ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। তিনি বিহার প্যাকেজ নিয়েও বঞ্চনার অভিযোগ করেন। আর এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে রামমন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, কোনও ধর্মীয় স্থান নির্মাণ রাজনৈতিক দলের কাজ নয়।
আচমকা নয়, রীতিমতো হিসাব কষে দীর্ঘদিন ধরে ভাবনাচিন্তা করেই কুশওয়াহা এনডিএ ছাড়লেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। বিজেপি সঙ্গ ত্যাগের আগে তিনি কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিলেন বলে খবর। ইস্তফা দেওয়ার আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখাও করেন তিনি। লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেরদিন সোমবার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ণয়ে বৈঠকে বসে বিরোধী দলগুলি। এরই পাশাপাশি পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলের ইঙ্গিতও এনডিএ’তে ফাটল ধরার অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে বলেও মনে করা হচ্ছে। অবশ্য কুশওয়াহা এনডিএ ছাড়ার কথা বললেও তাঁর দলের দুই বিধায়ক বিহারে ওই জোট ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। 
এদিকে অসম গণপরিষদের সভাপতি অতুল বোরা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে চিঠি লিখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিতর্কিত নাগরিক (সংশোধনী) বিল, ২০১৬ পাশ করা হয় সংসদে। এছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনও বিকল্প পথ খোলা থাকবে না। প্রথম থেকেই নাগরিক বিলের বিরোধী অগপ। দলের অভিমত, ওই বিল পাশ হলে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির আর কোনও মানেই থাকবে না। অক্টোবরে ওই বিলের বিরোধিতা করে মিছিলও বের করে অসম গণ পরিষদ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বোরা ওই চিঠি প্রতিলিপি তুলে দেন সাংবাদিকদের। 
 

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement