নয়া উদারনীতির বিরুদ্ধে
লড়াই ঢুকেছে নতুন অধ্যায়ে

নয়া উদারনীতির বিরুদ্ধে <br> লড়াই ঢুকেছে নতুন অধ্যায়ে
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি— নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আজ আর শুধু শ্রমিকদের চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নিরন্তর আন্দোলন টেনে এনেছে সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষকেও। তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে আটচল্লিশ ঘণ্টার দেশজোড়া ধর্মঘটে। বলেছেন সিআইটিইউ র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন।

কোনও প্রতিরোধই স্বয়ংক্রিয় হয় না। সংগঠিত করতে হয়। বলেছেন সেন। যোগ করেছেন উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ, বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘট এই প্রথম নয়। ১৮তম। আর তাতে এবারে শুধু শ্রমিকরা নন। জনবিরোধী, দেশবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন সমাজের সমস্ত অংশের মানুষ। কৃষক, খেতমজুর থেকে ছাত্র-যুব-মহিলা সবাই। দলিত, আদিবাসী মানুষদের থেকে মিলেছে অফুরন্ত সংহতি সমর্থন। ধর্মঘটে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের সব অংশের রোষ, অসন্তোষ। শ্রমিক আন্দোলন রূপান্তরিত হয়েছে জনআন্দোলনে। নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রবেশ করেছে এক নতুন অধ্যায়ে।

মন্দির মসজিদ নয়, রুটিরুজির আন্দোলন বদলে দিয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার ইস্যু। বলেছেন সেন। যোগ করেছেন, এই সংগ্রামকে জারি রাখা, একে আরও প্রসারিত করাই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য।

দু দিনের এই সাধারণ ধর্মঘট ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে হয়ে থাকবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বলেছে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপত্র পিপলস ডেমোক্রেসি।  বিজেপি জমানার বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণির বিদ্রোহের বার্তা  শিরোনামে পত্রিকার আসন্ন সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই ধর্মঘটে স্পষ্ট, দেশের শ্রমজীবী জনগণ কোনওভাবেই মোদী সরকারের শ্রমিকবিরোধী, জনবিরোধীকে রেয়াত করবেন না। দু দিনের সাধারণ ধর্মঘটের বার্তা হলো আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও মোদী সরকারকে পরাস্ত করতে শ্রমিকশ্রেণি নিঃসন্দেহে যোগ দেবে রাজনৈতিক সংগ্রামে।

এবারের দেশজোড়া ধর্মঘট হয়েছে শেষ দু টি সাধারণ ধর্মঘটের চেয়ে অনেক ব্যাপক, অনেক বিস্তৃত। ধর্মঘটে যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন ক্ষেত্র। এমনকি যেখানে কোনও ইউনিয়ন নেই, সেখানেও পর্যন্ত হয়েছে সর্বাত্মক ধর্মঘট। বলেছেন সেন। যেমন নয়াদিল্লিতে শিল্প ক্লাস্টারে, যেখানে অধিকাংশ সংস্থায় কোনও ইউনিয়ন নেই। শুধু লিফলেট পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। আর হয়েছে প্রচার। ন্যূনতম মজুরির দাবির সঙ্গেই বারো ঘণ্টার কাজের বোঝা, শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রচার। তাতেই সাড়া মিলেছে আশাতীত। দিল্লি মহানগর অঞ্চলে ধর্মঘট হয়েছে সর্বাত্মক। এমনকি পুনেতে, যেখানে অনেক জায়গাতেই কোনও ইউনিয়ন নেই, সেখানে শুধু প্রচার নিয়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে ধর্মঘট। কোকা কোলা, টয়োটা, ভলভো, ক্রমটন, সিয়াটের মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলির ঝাঁপও ছিল পুরোপুরি বন্ধ। ২০১৫, কিংবা ২০১৬ র সাধারণ ধর্মঘটে এতটা সাড়া দেখা যায়নি। ধাপে ধাপে বেড়েছে ধর্মঘটে অংশগ্রহণের ব্যাপকতা। পুলিশের লাঠি-গুলি, এসমা, কিংবা পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ফরমান উড়িয়ে হয়েছে ধর্মঘট। গ্রেপ্তারি, তৃণমূলের ভাড়াটে বাহিনীর দৌরাত্ম্য সত্ত্বেও মানুষ রাস্তা ছাড়েননি।

ধর্মঘটের সবিস্তার পর্যালোচনা হবে বলে জানিয়েছেন সেন। বলেছেন, ইতিবাচক এই অগ্রগতির অভিমুখকে ধরে রেখে এই গণআন্দোলন ও গণসমাবেশকে জারি রেখে এগিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। আগামী দিনগুলিতে জনগণের সচেতনতা যাতে সঠিক দিশায় এগোয়, তার জন্য নিতে হবে সচেতন উদ্যোগ। মজুদুর, কিষানের একজোট হয়ে সংগ্রাম এক ইতিবাচক অগ্রগতি। বলেছেন সেন। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement