ধর্মঘটের পরেও হামলা
প্রতিবাদে আজ মিছিল

ধর্মঘটের পরেও হামলা <br> প্রতিবাদে আজ মিছিল
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: কলকাতা, ১০ জানুয়ারি— ধর্মঘট শেষ হলেও ধর্মঘটীদের ওপরে প্রতিহিংসামূলক হামলা শেষ হয়নি। ধর্মঘটে যোগদানের বদলা নিতে শাসক দলের দুষ্কৃতীরা বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে শ্রমিকদের বাধা দিয়েছে অনেক জায়গায়। ধর্মঘটে দোকান বন্ধ রাখায় এদিনও দোকান খুলতে দেয়নি, আগেরদিন অটোরিকশা না বের করায় এদিনও অটো চালাতে দেয়নি। আবার জুটমিলে সরাসরি হামলাও চালিয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশকে দিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি রোধের কালা আইনে মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক ধর্মঘট সমর্থককে জেলে আটকে রাখার ব্যবস্থাও করছে শাসকদল। এসবের প্রতিবাদে জেলায় জেলায় বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলিও বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলি শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ধর্মতলার লেনিনমূর্তির সামনে থেকে মিছিলের ডাক দিয়েছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার অদম্য জেদ আর সাহস নিয়ে শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ। ধর্মঘট যে এভাবে সফল হবে ও মানুষের সমর্থন পাবে তা ভাবতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্মঘট শেষ হওয়ার পরেও তাই তারা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির আগরপাড়া জুটমিলে শ্রমিকদের উপর চড়াও হয় তৃণমূল কংগ্রেসের বাহিনী। গঙ্গার দুপাড়ের চটকলগুলিতেই আগের দু দিন ধর্মঘট সম্পূর্ণ সফল হয়েছিল। চটকল শ্রমিকরা কেউই কাজে যোগ দেননি। এদিন সকালে কাজ শুরুর সময়ে আগরপাড়া জুটমিলে বহিরাগত তৃণমূল বাহিনী ভিতরে ঢুকে শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা হুমকি দিয়ে বলে দু দিন কাজে না আসায় এদিনও শ্রমিকদের কাজ করতে দেওয়া হবে না। মিলের বিসিএমইউ নেতাদের নাম করেও হুমকি ও গালিগালাজ করতে থাকে তারা। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে এই  ঘটনার প্রতিবাদ জানান। যে হুমকি উপেক্ষা করে তাঁরা ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন সেই হুমকিতে আর মাথা নত করতে রাজি হননি তাঁরা।

একইরকম ঘটনা ঘটেছে কলকাতা শহরের বুকেও। মাঝেরহাটে কর্পোরেশনের চারনম্বর গ্যারেজের পৌরশ্রমিকরা ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁরা কাজে যোগ দিতে গেলে শাসকদলের নির্দেশে আধিকারিকরা তাঁদের কাজে যোগদানে বাধা দেন। আধিকারিকরা তাঁদের বলেন, মঙ্গল-বুধবার কেন তাঁরা আসেননি তার কারণ দর্শিয়ে, মেডিক্যালের ছুটির আবেদন করে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সেই কাগজপত্র সদরদপ্তরে পাঠানোর পরে অনুমতি এলে তবে শ্রমিকরা ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন। একথা শুনে পৌরশ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কেএমসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ তাঁদের হয়ে বিরোধে হস্তক্ষেপ করেন এবং আধিকারিকদের জানিয়ে দেন আজ কাজে যোগদানে বাধা দিলে ফের ধর্মঘট হবে এবং তা কিন্তু চলতেই থাকবে। কলকাতা কর্পোরেশন তার জের সামলাতে পারবে তো? এই চাপের মুখে পিছু হটে যায় কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরাও তারপরে কাজে যোগ দিয়েছেন।

উত্তর কলকাতার সিঁথির ডি গুপ্ত লেনের আ্যলবার্ট ডেভিড ঔষধ কোম্পানিতে বৃহস্পতিবার সকালে সিআইটিইউ কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় তৃণমূলের বাহিনী। ধর্মঘটে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের এদিনও কাজে যোগ দিতে দেয়নি তারা। কারখানার গেটের সামনে এই হামলা চলতে থাকে। পুলিশকে খবর দেওয়ার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি । তারা দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, ধর্মঘট করার  অপরাধে  গেট থেকে গালিগালাজ করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।

শাসকদলের এই সব  গুন্ডামি  চোখের সামনে দেখেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি যে পুলিশ বাহিনী, তারাই অতিতৎপর হয়ে জেলায় জেলায় ধর্মঘটের সময় আটক করা ধর্মঘটী ও ধর্মঘট সমর্থকদের জেলে আটকে রাখার চেষ্টা করেছে। মঙ্গল ও বুধবার ধর্মঘট চলাকালীন ধর্মঘট ভাঙতে পুলিশ রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড়হাজার বামপন্থী নেতা কর্মী, ধর্মঘট সমর্থকদের গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের অনেকেই মুক্তি পেলেও, অনেককেই পুলিশ আদালতে তুলেছে। এমনকি জামিন অযোগ্য ধারা দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করে অনেককে পুলিশি হেপাজতে বা জেল হেপাজতে আটকেও রেখেছে। এরমধ্যে কলকাতায় রাজাবাজার থেকে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ যাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বৃহস্পতিবার জামিন পাননি। ধর্মঘটের দু দিনে হাওড়া জেলায় পুলিশ ৮৫জন ধর্মঘট সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছিলো। শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে শ্রমিক আন্দোলন ও যুব আন্দোলনের নেতাদের বেছে বেছে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং লকআপে পাঠায়। অথচ সাঁকরাইলে ধর্মঘটের মিছিলে তৃণমূলীদের হামলায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ আক্রমণকারীদের ধরেনি। তারা প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাঁটরা থানার পুলিশ যুবনেতা সোমনাথ গৌতমকে রাস্তা থেকে বুধবার রাত সাড়ে ন টা নাগাদ গ্রেপ্তার করে বাস ভাঙচুরের মামলা সাজিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে হাওড়া আদালতে পেশ করে পুলিশ। এদিনও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। সিউড়িতে বুধবার ধর্মঘটের সময় একটি সরকারি বাস ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা সাজিয়ে দুই এসএফআই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁদের সিউড়ি আদালতে তুলে পুলিশ জামিনের বিরোধিতা করলেও আইনজীবীরা পুলিশের বিধি ভেঙে অসৎ উদ্দেশ্যপূরণের চেষ্টার অভিযোগ করেন। জামিন পেয়ে যান এসএফআই কর্মী দুই ছাত্র।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement