আজ উত্তর প্রদেশে জোট
ঘোষণা অখিলেশ-মায়াবতীর

 আজ উত্তর প্রদেশে জোট <br>ঘোষণা অখিলেশ-মায়াবতীর
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: লক্ষ্ণৌ ও নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি— লোকসভা ভোটে উত্তর প্রদেশে আসন সমঝোতা নিয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। শুক্রবার দুই দলের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে শনিবার বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করবেন। সমাজবাদী পার্টি নেতা রাজেন্দ্র চৌধুরি এবং বহুজন সমাজ পার্টির নেতা সতীশ মিশ্রের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এদিন একথা জানানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বিজেপি বিরোধী জোট মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই এই জোট হতে চলেছে তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। আরেক জোট শরিক আরএলডি নেতা অজিত সিংও জানিয়েছেন তিনি শনিবারের দুই নেতার সাংবাদিক বৈঠকের বিষয়ে জানেন না। জানা গেছে, অজিত সিং আরও একটি আসন বেশি দাবি করছেন। সেই বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নিষাদ পার্টিকেও একটি আসন ছাড়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শুক্রবারই দিল্লিতে বিজেপি র জাতীয় কনভেনশন শুরু হয়েছে। সেখানে অমিত শাহ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, উত্তর প্রদেশে আমাদের আসন বেড়ে ৭৪ হয়ে যাবে। কমলেও কোনোভাবেই ৭২হবে না। উল্লেখ্য, গতবার বিজেপি জোট ৭৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল রাজ্যে। সমাজবাদী পার্টি-বিএসপি জোটকে তিনি প্রবঞ্চনা এবং গিমিক বলে চিহ্নিত করেছেন। দলের নেতাদের উজ্জীবিত করতে তিনি বলেন, ২০১৯ র লোকসভা ভোটে এমন লড়াই হবে যার বহু শতাব্দী ধরে প্রভাব পড়বে। তাই এই নির্বাচনে বিজেপি কে জিততে হবে। এক বছরের মধ্যে উত্তর প্রদেশে তিন-তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি পর্যুদস্ত হয়েছে এই বিরোধী জোটের কাছে। তারমধ্যে গোরক্ষপুর এবং কৈরানা লোকসভা বিজেপি র শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এই অবস্থায় বিজেপি সভাপতি যতই ৭২-৭৪ র গল্প শোনান না কেন, বিজেপি র নেতা-কর্মীরা এই জোট নিয়ে শঙ্কিত। এদিন তাই যথাসম্ভব সেই ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করেছেন অমিত শাহ।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে সফর উপলক্ষে  গালফ্‌ নিউজ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসকে খাটো করা ভুল হবে। আমরা সব বিরোধীদের একসঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। উত্তর প্রদেশ সহ উত্তর ভারতে কংগ্রেসের ফল চমকে দেওয়ার মতো হবে বলেও তিনি দাবি করেন। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বোঝার পরে এদিন রাজ্যের কংগ্রেস মুখপাত্র রাজীব বকশি বলেছেন, উত্তর প্রদেশে আমরা একাই লড়তে প্রস্তুত। আমরা সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে একসঙ্গে লড়াই করব। এই বিষয়ে ফের ২০০৯সালের লোকসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে কংগ্রেস বলছে, সেবারও সকলকে চমকে দিয়ে রাজ্যে ২১ আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস।

বিজেপি, কংগ্রেস মুখে যাই বলুক সকলেই ভোটের পাটিগণিতে মেনে নিচ্ছেন দুই দলের ভোট একত্র পড়লে রাজ্যের অধিকাংশ আসনে জয় পেয়ে যাবে এসপি-বিএসপি জোটই। এটা শুধুমাত্র আর গণিতে আটকে নেই। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়ে গেছে একাধিকবার। এদিন অখিলেশ যাদবও সেই কথাই বলেছেন। কনৌজে এদিন অখিলেশ বলেছেন, লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনগুলিতে আমরা একজোট হয়েছিলাম। তখন মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে আসা আসনে বিজেপি পরাস্ত হয়েছিল। এবারও সেই একই গণিত কাজে আসবে। উত্তর প্রদেশে পর্যুদস্ত হবে বিজেপি। সেটাই দুশ্চিন্তা বিজেপি র। সেটাই আশা এবং এই জোট তৈরির পিছনে প্রধান কারণও অখিলেশ-মায়াবতীর।

এরসঙ্গে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদল এবং পূর্বে নিষাদ পার্টিও আছে। ইতিমধ্যেই নিষাদ পার্টির নেতা সঞ্জয় নিষাদের ছেলে প্রবীনকুমার নিষাদ গোরক্ষপুরে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হিসাবে উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন। অখিলেশ এদিন বলেছেন, বিজেপি শক্তিশালী হয়েছিল কারণ তারা আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। এবার আমরাও একজোট হয়েছি। তাই বিজেপি র বিপদ। তবে আরএলডি কে নিয়ে খানিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অখিলেশ এবং মায়াবতীর সাংবাদিক বৈঠকে তাদের এদিন পর্যন্ত আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আরএলডি নেতা মাসুদ আহমেদ শুক্রবার জানিয়েছেন। তবে দলের নেতা জয়ন্ত চৌধুরি শনিবার লক্ষ্ণৌয়েই থাকবেন। আমন্ত্রণ পেলে তিনি যাবেন। জানা গেছে, আরএলডি কে দুই থেকে তিনটি আসন ছাড়তে চাইছে এসপি-বিএসপি। যদিও তাদের দাবি বাগপত, মথুরা, মুজফ্‌ফরনগর, হাথরস, আমরোহা এবং কৈরানা— এই ছয়টি। এই নিয়ে বুধবার অখিলেশ যাদবের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি বৈঠক করেছেন জয়ন্ত চৌধুরি। যদিও দুই দলের পক্ষ থেকে বৈঠক সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। ছয়টি আসন দাবি করলেও আরএলডি ৪টিতেই মেনে নেবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও মায়াবতী তিনটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নন বলে জানা গেছে। কারণ আরএলডি র ভিত্তির এলাকায় মায়াবতীরও শক্তি বেশি। বাগপত, মথুরা এবং মুজফ্‌ফরনগর ছাড়া আরএলডি কে আর কোনও আসন ছাড়তে রাজি নন মায়াবতী। বর্তমানে কৈরানায় আরএলডি র তবস্সুম হাসান সাংসদ। তবে উপনির্বাচনে কোথাও প্রার্থীপদ দাবি করেননি মায়াবতী। কিন্তু এখন ওই আসনে তিনিই প্রার্থী দেবেন বলে মায়াবতী জানিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, মোট ৮০ আসনের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি এবং বিএসপি ৩৭টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সোনিয়া গান্ধীর রায়বেরেলি এবং রাহুল গান্ধীর আমেথিতে জোট প্রার্থী দেবে না বলে আগেই ঘোষণা করেছে। আরএলডি কে তিনটি এবং নিষাদ পার্টিকে একটি আসন ছাড়া হবে বলে অখিলেশ, মায়াবতী মোটের উপর একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement