উপজাতিদের উপর গুলিচালনার
বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি বামফ্রন্টের

উপজাতিদের উপর গুলিচালনার <br> বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি বামফ্রন্টের
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: আগরতলা,১১জানুয়ারি— হাইকোর্টের বিচারপতি দিয়ে মাধববাড়িতে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালো ত্রিপুরা বামফ্রন্ট। কি পরিস্থিতিতে গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় সড়ক অবরোধকারীদের উপর গুলি চালানোর মতো চরম পদক্ষেপ নিল পুলিশ তা অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শুক্রবার এ দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরা বামফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক বিজন ধর।

শুক্রবার সিপিআই(এম) রাজ্য দপ্তরে অনুষ্ঠিত বামফ্রন্টের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের কাছে তিনি আরও দাবি জানান, সেদিনের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। গোটা রাজ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও সুস্থিতির পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে বি‍‌জেপি জোট সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক শ্যামল রায়, সিপিআই-রাজ্য সম্পাদক রঞ্জিত মজুমদার, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নারায়ণ কর।

মাধববাড়ির ঘটনায় সিপিআই(এম) র উপর দোষ চাপিয়ে এবং পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মানিক দে-কে জড়িয়ে জোট সরকারে দুই মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া ও সুদীপ রায় বর্মণ যে অভিযোগ করেছেন তার প্রমাণ দিতে বলেছেন বামফ্রন্ট আহ্বায়ক। দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন সিপিআই(এম)-র উপর দোষ চাপিয়ে কি লুকাতে চাইছেন আপনারা। পরিষ্কার করুন। তিনি বলেন, দুই মন্ত্রীর উচিত কাল্পনিক অভিযোগ ও মিথ্যা মন্তব্য প্রত্যাহার করা। কোনও একটি নিশ্চিত লক্ষ্য সামনে রেখে ঘটনাটিকে বিপথে পরিচালিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করেন বিজন ধর।

মাধববাড়িতে পুলিশের দমনমূলক ঘটনাকে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে মন্তব্য করেন বিজন ধর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ন্যায্য, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর কি এমন পরিস্থিতি ঘটল যাতে পুলিশকে গুলি চালাতে হলো? যার ফলে বেশকিছু মানুষ আহত হলেন।

এই ঘটনার সাথে সম্পর্ক যুক্ত উত্থাপিত অভিযোগের কথা এদিন তুলে ধরেন বিজন ধর। বলেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিজেপি র‍‌ কিছুসংখ্যক লোকজন বাইরে থেকে গিয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। ফলে দু পক্ষের মধ্যে বেশি করে উত্তেজনা তৈরি হয়। গুলিতে আহত ২ জনকে খুমলুঙ হাসপাতাল থেকে জিবি-তে নিয়ে আসার পথে এডিসি র অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। আহত দুজনকে দৈহিক নির্যাতন করা হয়। বেশ কিছু দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, লুণ্ঠন করা হয়েছে। এখনও ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ আছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিকভাবে গোটা রাজ্যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন বামফ্রন্ট আহ্বায়ক। বিজন ধর বলেন, বিশেষ করে এডিসি এলাকা কিংবা তার বাইরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে অতীতের ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যা খুবই উদ্বেগের। সামগ্রিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে বিচার বিবেচনা করেই বামফ্রন্ট গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা করেছে।

কেন এই আশঙ্কা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজন ধর বলেন, দিল্লিতে যে সরকারটা রয়েছে তারা হিন্দু-মুসলমান, জাতি-উপজাতির মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়ে বিভাজনের রাজনীতির ওস্তাদ। লোকসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। সেদিক থেকে এই আশঙ্কা রয়েছে। তা যাতে কার্যকরী হতে না পারে সেদিকে সতর্ক করেন তিনি।

বামফ্রন্ট আহ্বায়ক বলেন, বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করতে অতীতে কারা, কিভাবে ষড়যন্ত্র করেছেন তা আমরা সবাই জানি। নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকারে থাকার সময় এবং বর্তমানে বিরোধী দলে থেকে বামফ্রন্ট বরাবরই শান্তি-সম্প্রীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এ লড়াইয়ে উত্তরাধিকার বহন করে আসছেন বামপন্থীরা। শান্তি-সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি কাজ-খাদ্যের দাবিতে আমরা আন্দোলন সংগঠিত করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, সি পি আই (এম) র বহু নেতা, কর্মী, সমর্থক, পুলিশ, টিএসআরসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে রক্ত দিতে হয়েছে এরাজ্যের শান্তিরক্ষা করার জন্য। বিরোধী দলে থাকলেও বামফ্রন্ট শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে পারে না। কারণ রাজ্যটা সবার। এখানে জাতি-উপজাতি উভয় অংশের মানুষ বসবাস করছেন। জাতি-উপজাতির ঐক্যে যাতে কোনভাবে ফাটল ধরতে না পারে সেদিকে সকলকে সতর্ক করেন বিজন ধর।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement