শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে
তৃণমূলের বেপরোয়া হামলা

শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে <br> তৃণমূলের বেপরোয়া হামলা
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: শিলিগুড়ি, ১১ জানুয়ারি — প্রতিবাদ করায় কলেজে আটকে রেখে এসএফআই নেত্রীকে বেধড়ক মারধর করল টিএমসিপি। শুক্রবার শিলিগুড়ি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে এসএফআই র শাখা আহ্বায়ক অনিন্দিতা চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের উপর আক্রমণ চালালো টিএমসিপি এবং তৃণমূলের বহিরাগতরা। অনিন্দিতা এবং তাঁর দিদিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই আক্রমণের প্রতিবাদে শিলিগুড়ি শহরে মিছিল করেন শতাধিক মানুষ। এদিকে, শিলিগুড়ি কলেজে টিএমসিপি র হামলার প্রতিবাদে শহরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। থানার বাইরে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের জেরে অজয় চক্রবর্তীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে অনিন্দিতা চক্রবর্তী কলেজে গেলে প্রথমে কলেজ কর্তৃপক্ষের সামনেই আটকে রাখা হয় অনিন্দিতাকে। দুপুর থেকে তাঁকে কলেজে আটকে বেধড়ক মারধর করে টিএমসিপি ও তৃণমূলের বহিরাগতরা। শিলিগুড়িতে তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের প্রচার কর্মসূচি ছিল বৃহস্পতিবার। ওই মিছিলে ভিড় বাড়ানোর জন্য শিলিগুড়ি মহিলা কলেজ থেকে জোর করে ছাত্রীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মিছিলে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে এসএফআই র শাখার পক্ষ থেকে আহ্বায়ক অনিন্দিতা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কলেজের টিচার ইন চার্জ সাথি ব্যানার্জীকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তারই প্রতিশোধ নিতে অনিন্দিতা চক্রবর্তীর ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা চালালো টিএমসিপি। জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়ারই প্রতিবাদ করেন এসএফআই নেত্রী। কলেজেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে টিএমসিপি র দুষ্কৃতীরা। বোনকে আটকে রেখে চূড়ান্ত অত্যাচার ও মারধরের খবর পেয়ে কলেজে পৌঁছায় তার দিদি অয়ন্তিকা চক্রবর্তী। কলেজের বাইরে তার দিদিকে ঘিরেও মারধর করা হয়। মাটিতে ফেলে জলের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। টিএমসিপি র হাতে দুই মেয়ের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে কলেজে পৌঁছান এসএফআই নেত্রী অনিন্দিতা চক্রবর্তীর বাবা অজয় চক্রবর্তী। একইভাবে তাঁকেও মারধর করে টিএমসিপি। অজয় চক্রবর্তী শিলিগুড়ি মহিলা কলেজেই করণিকের কাজ করতেন। টিএমসিপি র আক্রমণ থেকে বাদ যাননি অনিন্দিতার মা মুন্না চক্রবর্তীও।

কলেজ থেকেই অজয় চক্রবর্তীকে শিলিগুড়ি থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে শাসক দলের তল্পিবাহক পুলিশ। এদিকে গুরুতরভাবে জখম এসএফআই নেত্রী অনিন্দিতা চক্রবর্তী ও তাঁর দিদি অয়ন্তিকা চক্রবর্তীকে কলেজ থেকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এসএফআই কর্মীরা। হাসপাতালে বেশ কিছুক্ষণ চিকিৎসা চলে তাঁদের। খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে যান শিলিগুড়ির মেয়র, বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে। শিক্ষাঙ্গনে টিএমসিপি র দাদাগিরি ও কলেজে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের অবাধ প্রবেশ এবং গুন্ডামির প্রতিবাদে শিলিগুড়ি থানায় এফআইআর করা হয়। এসএফআই কর্মী ও তাঁর পরিবারের উপর টিএমসিপি র আক্রমণের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় দার্জিলিঙ জেলা সিপিআই(এম), সিআইটিইউ, ডিওয়াইএফআই এবং এসএফআই। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও পার্টির দার্জিলিঙ জেলার সম্পাদক জীবেশ সরকারের নেতৃত্বে অনিল বিশ্বাস ভবন থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল হিল কার্ট রোড, সেবক রোড ও বিধান মার্কেট প্রদক্ষিণ করে। সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই একটা অরাজকতা চলছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় একজন ছাত্রীকে কলেজে আটকে মারধর করা হলো। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর পরিবারের লোকেদের কলেজের মধ্যে মারধর করা হলো। এই ধরনের কার্যকলাপকে আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না। এর প্রতিবাদে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র, বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ সরকার জানিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে ছাত্রীদের মিছিলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এসএফআই নেত্রী অনিন্দিতা চক্রবর্তী। তাঁর প্রতিবাদে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর আক্রমণ করে। তাঁর বাবা ওই কলেজেরই করণিক। মেয়েকে বাঁচাতে তাঁর বাবা ছুটে আসেন। নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে পুলিশকে দিয়ে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করানো হয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement