আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত
চালাতে বলল হাইকোর্ট

আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত <br> চালাতে বলল হাইকোর্ট
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি —যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সরানোই হয়েছে সিবিআই অধিকর্তা অলোক ভার্মাকে, সেই রাকেশ আস্থানাই ঘোর বিপদে।  আদালতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন ছুটিতে থাকা সিবিআই র বিশেষ অধিকর্তা আস্থানা। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আরজি জানিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টে। শুক্রবার হাইকোর্ট সেই আরজি খারিজ করে দিয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েও দিয়েছে, আস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষের তদন্ত চালাতে পারবে সিবিআই। সেই তদন্ত ১০ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশও দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বস্তুত, গ্রেপ্তারি এড়াতে দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন আস্থানা। এদিন সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ফলে যে কোনও সময় গ্রেপ্তারও হয়ে যেতে পারেন সিবিআই র দ্বিতীয় শীর্ষ পদাধিকারী। যদিও অলোক ভার্মা অপসারিত হওয়ার পরে সেই আশঙ্কা কমে এসেছে।

আস্থানার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কানপুরের মাংস ব্যবসায়ী মইন কুরেশির আয়কর ফাঁকি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন আস্থানা। তদন্ত চালানোর বদলে অভিযোগ ওঠে যে, কুরেশির হায়দরাবাদ নিবাসী ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যবসায়ী সতীশ বাবু সানার কাছ থেকে দু কোটি টাকা ঘুষ নেন আস্থানা। এই ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানাতে পারে সিবিআই। এরপরেই আস্থানা, তদন্তকারী সংস্থার অন্যতম ডিএসপি দেবেন্দ্র কুমার এবং মনোজ প্রসাদ নামে এক মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। এদিন হাইকোর্ট দেবেন্দ্র কুমার এবং মনোজ প্রসাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদনও বাতিল করে দিয়েছেন বিচারপতি নাজমি ওয়াজিরি। আস্তানার বিরুদ্ধে ফৌজদারি চক্রান্ত, দুর্নীতি এবং ফৌজদারি অসদাচারণের অভিযোগ ওঠে। সেই এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আস্থানা-সহ তিন অভিযুক্ত। সদ্য অপসারিত প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মা-সহ সব পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ২০ ডিসেম্বর বিচারপতি নাজমি ওয়াজিরি জানিয়ে দেন, রায় দেওয়া হবে ১১ জানুয়ারি। এদিন সেই রায়ে আস্থানাদের আবেদন খারিজ করে দিলেন তিনি।

আস্থানা অবশ্য আদালতে দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ওই অভিযোগের সপক্ষে কোনও নথি বা তথ্যও নেই সিবিআই র কাছে। অলোক ভার্মার বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এর পালটা আঘাত হানতেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলে উলটে অভিযোগ করেন আস্থানা। জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আস্থানা যেতে পারেন সুপ্রিম কোর্টে। ভার্মা যদিও হলফনামা দাখিল করে জানিয়েছিলেন, আস্থানা, মনোজ এবং দেবেন্দ্রর বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে দুর্নীতি-সহ নানা ধরনের অসদাচারণের।

এমনিতে, সিবিআই র কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইকোর্টের অভিমত হলো, দণ্ডনীয় অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে অবশ্যই তদন্ত করা যেতে পারে।

মূলত হায়দরাবাদ নিবাসী ব্যবসায়ী সানাই এফআইআর করেন আস্থানা-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এর ভিত্তিতে দেবেন্দ্র কুমার ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন এবং ছাড়া পেয়ে যান ৩১ অক্টোবর। আর মনোজ প্রসাদ গ্রেপ্তার হন ১৭ অক্টোবর এবং জামিনে ছাড়া পান ১৮ ডিসেম্বর। বাধ্যতামূলক ৬০দিনের মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে পারেনি সিবিআই।

বৃহস্পতিবারই অলোক ভার্মাকে সিবিআই অধিকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত রাকেশ আস্থানার সঙ্গে বিবাদের জেরেই গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে দু জনকেই ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পদ ফিরে পান অলোক ভার্মা। কিন্তু তার দু দিনের মধ্যেই তাঁকে অপসারণ করে দমকলের অধিকর্তা পদে বদলি করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই পদে যোগ দিতে অস্বীকার করে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অলোক ভার্মা। অন্যদিকে আস্থানা ছুটিতেই ছিলেন। এবার দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় আরও বিপাকে পড়ে গেলেন সিবিআই র দ্বিতীয় ব্যক্তি রাকেশ আস্থানাও।

এদিকে, সিবিআই অন্তর্বর্তীকালীন অধিকর্তা এম নাগেশ্বর রাও তাঁর পূর্বসূরি অলোক ভার্মার জারি করা সমস্ত বদলির নির্দেশ আবার বদলে দিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো ৮ জানুয়ারি অধিকর্তা বলেই রাওয়ের জারি করা বেশ কয়েকজনকে বদলির নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছিলেন ভার্মা। এবার ভার্মার অপসারণের পর সেই সব বদলি আবার বহাল রাখলেন রাও। ভার্মা কয়েক ঘণ্টার জন্য দায়িত্ব নিয়ে শুধু সেইসব বদলির নির্দেশ খারিজই নয়, আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর জন্য নতুন তদন্তকারী অফিসারও নিয়োগ করেছিলেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement