লড়াই চলবে,
জানালো মুখর মিছিল

লড়াই চলবে, <br> জানালো মুখর মিছিল
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: কলকাতা, ১১ জানুয়ারি— রক্তাক্ত হয়েও আগামী দিনেও সফল হবে ধর্মঘট। আক্রান্ত হয়েও মোদী-মমতা দুই সরকারের মানুষ মারা নীতিগুলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন শ্রমজীবী মানুষ। শুক্রবার সেকথাই জানান দিল মিছিল।

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলির আহ্বানে লেনিন মূর্তি থেকে এন্টালি বাজার অবধি প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটলেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ধর্মঘটেই শেষ হয়নি অধিকার রক্ষার লড়াই, আক্রমণ হামলা রুখেই আরও প্রসারিত হবে লড়াই, বুঝিয়েছে মিছিলের স্লোগান, শরীরী মেজাজ।

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট, আর মমতা ছিলেন ধর্মঘট ভাঙতে উদ্যত। ধর্মঘট ভাঙতে রাজ্যজুড়ে বেনজির আক্রমণ, পুলিশি ধরপাকড় চালিয়েছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। জেলায় জেলায় ধর্মঘটীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শারীরিকভাবে আক্রমণ শানানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে একের পর এক মিথ্যা মামলা।

ধর্মঘট মিটে যাওয়ার পরেও শ্রমিকদের কারখানায় ঢুকতে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল। তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এদিনের মিছিল, আক্রমণ বন্ধ না হলে আরও তীব্র হবে লড়াই। স্লোগান উঠেছে মিছিলে।

ধর্মঘটে যোগদানের বদলা নিতে শাসক দলের দুষ্কৃতীরা বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে শ্রমিকদের বাধা দিয়েছে অনেক জায়গায়। ধর্মঘটে দোকান বন্ধ রাখায় বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও দোকান খুলতে দেয়নি, অটোরিকশা না বের করায় এদিনও অটো চালাতে দেয়নি। জেলায় জেলায় জুলুমবাজি বন্ধ কর, বলেছে মিছিল।

মিথ্যা সাজানো মামলায় বুধবার গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের রায়ে জেল খেটে এসেছেন কলকাতা শহরের পাঁচজন বামপন্থী নেতা কর্মী। ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে মুক্তির পর আবির রাঙা মুখ নিয়েই মিছিলে শামিল ছিলেন তাঁরা। মিথ্যা মামলা ভাঙতে পারেনি মনোবল, মিছিলে এদিনও স্লোগান দিয়েছেন সিপিআই(এম) নেতা সংগ্রাম চ্যাটার্জি, এসএফআই নেতা দীপক সিংহ, সুশ্রীল মিশ্ররা।

মিছিলে শামিল ছিলেন শাসকের আক্রমণের মোকাবিলা করেও দুদিনের সাধারণ ধর্মঘটে যাঁরা প্রতিরোধে ব্যারিকেড গড়েছেন পাড়ায় পাড়ায়, হেঁটেছেন মিছিলে স্লোগানে গলা মিলিয়েছেন  তোমরা যত মারবে, মিছিল তত বাড়বে । মাত্র ৪৮ঘণ্টার নোটিসে ডাকা এদিনের মিছিলে যোগ দেওয়া কয়েক হাজার মানুষের মুখ ঘোষণা করেছে প্রত্যয়, লড়াইয়ের পথেই মিছিল বাড়ছে, বাড়বে।

এদিনের প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সভাপতি সুভাষ মুখার্জি, সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু, আইএনটিইউসি রাজ্য সভাপতি কামারুজ্জামান কামার, এআইটিইউসি নেতা বাসুদেব গুপ্ত, ইউটিইউসি নেতা অশোক ঘোষ, আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্য, এআইসিসিটিইউ নেতা বাসুদেব বসু, অতনু চক্রবর্তী, এআইইউটিইউসি নেতা দিলীপ ভট্টাচার্য, এইচএমএস নেতা বিসি পাল চৌধুরি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

এন্টালি বাজারে মিছিল শেষে অনাদি সাহু বলেন  ধর্মঘটের আগে ও পরের হামলার বিরুদ্ধে শ্রমজীবীরা লড়ছেন, তার জন্য অভিনন্দন জানাই। ন্যায্য দাবিতে ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন শ্রমিক কর্মচারীরা, আর সরকার ও তৃণমূল দল হামলা চালিয়েছে। অবিলম্বে হামলা, আক্রমণ বন্ধ না হলে আরও তীব্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement