কড়া অভিযোগ করে
চাকরি ছাড়লেন ভার্মা

কড়া অভিযোগ করে <br> চাকরি ছাড়লেন ভার্মা
+

 গণশক্তির প্রতিবেদন: নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি— অপসারিত সিবি‌আই প্রধান অলোক ভার্মা চাকরি থেকেই ইস্তফা দিলেন। বৃহস্পতিবারই তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাছাই কমিটি। প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি ও বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে গঠিত কমিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ভার্মাকে সরিয়ে দেবার পরপরই তাঁকে দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা ও হোমগার্ডের ডিরেক্টর জেনারেল পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। শুক্রবার ভার্মা জানিয়ে দিয়েছেন ওই পদে তিনি যোগ দেবেন না। কড়া ভাষার পদত্যাগপত্রে ভার্মা বলেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সাধারণ ন্যায়বিচারও করা হয়নি। তাঁকে সরানোর লক্ষ্য নিয়েই বাছাই কমিটি গোটা প্রক্রিয়া উলটে দিয়েছে। ২০১৭ র ৩১ জুলাই ভার্মার অবসরের দিন পেরোলেও তাঁকে সিবি‌আই অধিকর্তা করা হয়েছিল। এই পদে দু বছরের স্থায়ী মেয়াদ থাকায় আগামী ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর থাকার কথা ছিল। ভার্মা ১৯৭৯ সালের আই পি এস।

অলোক ভার্মাকে সিবি‌আই প্রধানের পদ থেকে সরানো হয়েছিল ২৩ অক্টোবর। মাঝরাতে সেই রদবদলে আইন বাঁচাতে কেন্দ্র অপসারণের বদলে  বাধ্যতামূলক ছুটি  বলে দেখিয়েছিল। তাঁর বদলে নাগেশ্বর রাওকে অধিকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অলোক ভার্মা সুপ্রিম কোর্টে এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ভার্মাকে অপসারণের পদ্ধতি আইনসম্মত হয়নি। একই সঙ্গে সিবিআই প্রধান বাছাইয়ের কমিটিকে দ্রুত বৈঠকে বসতে বলেছিল শীর্ষ আদালত। সেইমতো বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির দীর্ঘ বৈঠক থেকে তাঁকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতে। আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খারগে।

কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁকে সরানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছিল। সিবিআই র অতিরিক্ত অধিকর্তা রাকেশ আস্থানা সিভিসি র কাছে যে অভিযোগ করেছিলেন তার ভিত্তিতেই তদন্ত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সিভিসি দুর্নীতির রিপোর্ট দিয়েছে বলেও সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিল। যদিও তখনই জানা গিয়েছিল সিভিসি কোনও বিশদ রিপোর্টই দেয়নি। বাস্তবে সিভিসি একটি ছোট রিপোর্ট দিয়েছে। দেখা গেছে ভার্মার বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোগকেই প্রকৃতপক্ষে   প্রমাণিত হয়নি  বলে জানিয়েছে সিভিসি। দু একটি ক্ষেত্রে  আরও তদন্ত প্রয়োজন  বলে মন্তব্য করেছে। দুর্নীতির নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ সিভিসি র তরফ থেকে জানানোই হয়নি।

অন্যদিকে, সিভিসি র কাছে অভিযোগকারী রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত হবার মতোই অভিযোগ রয়েছে আস্থানার বিরুদ্ধে। সিবিআই কে আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে।

ভার্মা তাঁর ইস্তফার চিঠিতে বলেছেন, বাছাই কমিটি আমার কথা শোনেইনি। সিভিসি যে রিপোর্ট দিয়েছে তা অভিযোগকারীর অভিযোগ মাত্র। এমন একজন অভিযোগকারী যাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত করছে। অভিযোগকারীর স্বাক্ষরিত বিবৃতি সিভিসি পাঠিয়ে দিয়েছে মাত্র। সিভিসি তদন্তে নজরদারি করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি একে পট্টনায়েককে দায়িত্ব দিয়েছিল। অভিযোগকারী বিচারপতি পট্টনায়েকের মুখোমুখিই হননি। বিচারপতি পট্টনায়েকও বলেছেন, ওই রিপোর্টের উপসংহার তাঁর নয়।

ভার্মা লিখেছেন, আমাদের গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠান খুব শক্তিশালী। সিবিআই তার অন্যতম। সিভিসি কে শাসক সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিয়োগ করে। তার মাধ্যমে কীভাবে যে কোনও সরকার সিবিআই কে পরিচালনা করতে পারে, আমাকে সরানোর ঘটনা তার প্রমাণ হয়ে রইল। এখন সমষ্টিগত ভাবে ভেবে দেখার সময়।

এর আগে বৃহস্পতিবার অনেক রাতে ভার্মা সংবাদসংস্থাকে বলেন, সিবিআই কে বাইরের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু তাকে ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে। ২৩অক্টোবর মধ্যরাতে যেভাবে সিবিআই এ রদবদল করা হয়েছিল, তা থেকে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ প্রমাণিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট সেই পদক্ষেপকে খারিজ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এক ব্যক্তির অসত্য, ঠুনকো অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে অপসারিত করা হলো।

ভার্মাকে অপসারণের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরাও। সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো ভার্মাকে অপসারণের ঘটনাকে  দ্বিতীয় অভ্যুত্থান  হিসাবে অভিহিত করে বলেছে, সিবিআই র স্বাধীনতা পুরোই খর্ব করা হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশের মানুষ দেখছেন কীভাবে প্রহসন হচ্ছে।

কংগ্রেস এদিন বলেছে, সিভিসি র ঘাঢে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক গুলি ছুঁড়ছে কেন্দ্র। সিভিসি সংবিধান লঙ্ঘনের সহায়তাকারী হয়ে যাচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সিভিসি র কাছে রাফালে দুর্নীতি নিয়ে স্পষ্ট নথি দেওয়া হয়েছে। কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement