খড়গপুরে দলের অফিসেই খুন
তৃণমূলের মাফিয়ানেতা 

গণশক্তির প্রতিবেদন: খড়্গপুর, ১১ই জানুয়ারি— কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও তৃণমূল নেতা শ্রীনু নাইডুর বাড়বাড়ন্ত কি গলার কাঁটা হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলেরই? তাই কি তাকে খুন হতে হলো তৃণমূলেরই অন্য এক গোষ্ঠীর হাতে? এ প্রশ্নই এখন উঠছে গোটা খড়্গপুর জুড়ে। বুধবার বিকালে রাবণ ময়দানে খোদ তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢুকে প্রথমে ব্যাপক বোমাবাজি করে একদল দুষ্কৃতী। এরপরই শ্রীনু ও তার অনুগামীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে আহত পাঁচ তৃণমূল কর্মী। রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে শ্রীনু নাইডু এবং ডি ধর্মা নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩ জন পি গোবিন্দা, গোবিন্দ রাও এবং শ্রী শ্রীনী গুরুতর আহত। হামলাকারীরা তৃণমূলেরই অন্য এক গোষ্ঠীর, অভিযোগ এলাকার মানুষেরই। দুষ্কৃতীরা বীরদর্পেই এলাকা ছাড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য। এই হত্যাকাণ্ডের পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকার মানুষের মধ্যে।
মৃত তৃণমূলী দুষ্কৃতী শ্রীনু নাইডু ওরফে শ্রীনিবাস রাও নাইডু গোটা খড়্গপুর এলাকায় মাফিয়া হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব চালাতো বলে অভিযোগ। প্রথমে রেল মাফিয়া পরে তৃণমূলের হয়ে নানাভাবে দাদাগিরি ও দুষ্কৃতীমূলক কাজ কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রীনু। আবার তৃণমূলের ‘শ্রমিক নেতা’ হিসেবে দলীয় সভাতেও হাজির থাকতো। শুধু মোটা অঙ্কের তোলাবাজি বা মারধর নয়, তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাকে পুলিশ সময়ে সময়ে ‘খুঁজে না পেলেও’ ভোটের সময়ে ভোট প্রচারেও তাকে দেখা গিয়েছে। তার স্ত্রী খড়্গপুর পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পূজা নাইডু। তিনি গত নির্বাচনে বি জে পি-র টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দেন। 
তৃণমূল সূত্রের খবর, খড়্গপুরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১০ সাল থেকে তৃণমূল নেতা শিবাজী রাওয়ের হয়ে কাজ করত শ্রীনু নাইডু। কিন্তু এরপর ওই ওয়ার্ডে বি জে পি-র উত্থান বুঝে সেখানে শ্রীনুর স্ত্রী পূজা নাইডু বি জে পি-র টিকিটে ভোটে দাঁড়ান। জিতেও যান তিনি শিবাজী রাওকে হারিয়ে। ২০১৫ সালে ভোটের ডামাডোলের মধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই বছর মার্চ মাসে দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে শ্রীনুর বিরুদ্ধে বোমাবাজি ও খুনের অভিযোগ ওঠে। তারপরেই ফেরার হয়ে যায় শ্রীনু। পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সি আই ডি তাকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে। সে সময়ে বি জে পি-র অভিযোগ ছিল যেহেতু শ্রীনুর স্ত্রী বি জে পি-র টিকিটে ভোটে লড়বেন, সেহেতু বি জে পি-কে চাপে রাখতে তৃণমূলের কোনো গোষ্ঠী শ্রীনুকে গ্রেপ্তারে কলকাঠি নেড়েছে। শ্রীনু ও তার স্ত্রী পূজার সঙ্গে রফা হওয়ায় তৃণমূল নেতারাই আবার শ্রীনুকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন- এমনও বক্তব্য এলাকার মানুষের। 
ওই বছর নির্বাচনের পরই ভোলবদল শ্রীনুর স্ত্রী পূজা নাইডুর। তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত হন। তারপর থেকে শ্রীনুর দাপট আরো বাড়তে থাকে। তৃণমূলের অন্যান্য গোষ্ঠীকে দমিয়ে তোলাবাজির বহর ও এলাকা বাড়াতে থাকে। এর ফলে কিছু তৃণমূল নেতার চক্ষুশূল হয় শ্রীনু। শাসকদলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে লড়াই লেগেই থাকে প্রায়ই। বুধবার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাবণ ময়দান বা নিউ সেটলমেন্ট এলাকায় শ্রীনুর নতুন সাজানো গোছানো পার্টি অফিসে হানা দিয়ে বোমা ছুঁড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। এরপরেই গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শ্রীনুকে প্রথমে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত্যু হয় শ্রীনু ও ধর্মার। বাকিদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। 

Featured Posts

Advertisement