তৎপরতা শুরু সি বি আই-র,
এফ আই আর সম্ভবত ২০শে

তৎপরতা শুরু সি বি আই-র,<br>এফ আই আর সম্ভবত ২০শে
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: কলকাতা, ১৭ই মার্চ — শুক্রবার রাতেই দিল্লিতে সি বি আই সদরদপ্তরে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। মূলত হাইকোর্ট প্রাথমিক তদন্তের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তা নিয়েই তড়িঘড়ি আলোচনায় বসেছেন সি বি আই-র শীর্ষ আধিকারিকরা। দিল্লি থেকে আধিকারিকরা শনিবারই কলকাতায় আসছেন। সম্ভবত সোমবারই নারদ ঘুষকাণ্ডে এফ আই আর দায়ের করতে চলেছে সি বি আই।

এদিন সকালে কলকাতা হাইকোর্টে নারদকাণ্ডে সি বি আই-কে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশেই বলা হয়েছে, নারদ ঘুষকাণ্ডের মামলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যা তথ্য, সিডি, সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবের রিপোর্ট রয়েছে তা আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সি বি আই-কে সংগ্রহ করতে হবে। হাইকোর্টের তৈরি করে দেওয়া তিন সদস্যের বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে তা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লকারে রাখা রয়েছে। শনিবার দুপুরের মধ্যেই তা সি বি আই-কে সংগ্রহ করতে হবে।

তবে সি বি আই-র পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তৎপরতাও শুরু হয়েছে হাইকোর্টের রায়ের পরে। সম্ভবত সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা হাইকোর্টের মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করতে চলেছে শাসক তৃণমূল। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সি বি আই’ও। এদিন রাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, ‘ইতিমধ্যে আমরা ডেটপুটেশনে কয়েকজন অফিসারকেও চেয়ে পাঠিয়েছি সি জি ও কমপ্লেক্সের জন্য। আশা করি রাজ্য সরকারও তদন্ত সহযোগিতা করবে’। সি বি আই-র একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে সি বি আই-র সদরদপ্তর থেকে আসা আধিকারিকরাও সম্ভবত নারদ তদন্তের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। তবে সারদা-রোজভ্যালির মতো সি জি ও কমপ্লেক্সে নয়, নারদ মামলার তদন্ত পরিচালিত হবে নিজাম প্যালেস থেকে। কেননা সি জি ও কমপ্লেক্সে সারদা ও রোজভ্যালি তদন্ত চলছে। সেখানে এমনিতেই কর্মীর অভাব রয়েছে। ফলে নিজাম প্যালেস সি বি আই দপ্তর থেকেই পরিচালিত হবে তদন্ত।

সি বি আই-র একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, নারদ মামলা মানি লন্ডারিং’র আওতায় নয়। তা মূলত সি বি আই-র দুর্নীতি দমন শাখা-ই এই তদন্ত চালাবে। নারদ তদন্তের গতিপথ কী হতে পারে? রীতিমত শঙ্কার স্রোত শাসক তৃণমূলের অন্দরে। জানা গিয়েছে, এফ আই আর দায়ের করার পর গোটা ভিডিও ফুটেজ ধরে তদন্তের অগ্রাধিকারি চিহ্নিত করা হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এক আধিকারিকের কথায়, ‘ছবিতে দেখা যাচ্ছে কারা টাকা নিচ্ছেন। তাছাড়াও সেই ব্যক্তিদের মুখেই অন্য আরও অনেকের নামও শোনা যাচ্ছে। তাহলে তাঁদের ভূমিকা কী? ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ক্যামেরার পিছনেও কী টাকা নেওয়ার পর্ব চলেছে? তদন্তে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হতে পারে।’

নিজাম প্যালেস থেকে নারদকাণ্ডের তদন্ত পরিচালিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সি বি আই। একই সঙ্গে সারদা-রোজভ্যালির কাণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে নিজাম প্যালেসে নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শাসক দলের বিক্ষোভের মুখে এর আগে একাধিকবার পড়তে হয়েছিল সি বি আই-কে। কখনও আদালতে কখনও সি জি ও কমপ্লেক্সে। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের কাছে প্রয়োজনে নিরাপত্তার বিষয়টিও জানাতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আপাতত সি বি আই শনিবারের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে তৈরি হওয়া ওই বিশেষ কমিটির কাছ থেকে তথ্য, নথি সংগ্রহ করে পরবর্তী এফ আই আর দায়ের নিয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

Featured Posts

Advertisement