রাজ্যজুড়ে উৎসাহের
সঙ্গে পালিত পাঠচক্র

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৯শে মার্চ— রবিবার পশ্চিমবঙ্গে সি পি আই (এম)-র প্রায় ২০ হাজার শাখায় প্রাণবন্ত আলোচনায় পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্টির সদস্যরা ও সহায়ক গ্রুপের সদস্যরা এই পাঠচক্রগুলিতে অংশ নিয়ে এদিন ‘পার্টি কর্মসূচি’ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। যে শাখাগুলিতে এদিন পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়নি সেখানে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানা গিয়েছে। 
পার্টি শিক্ষা ও মতাদর্শগত চর্চার লক্ষ্যে অতীতে পাঠচক্র সংগঠিত হলেও এরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এটা সি পি আই (এম)-র নতুন ধরনের উদ্যোগ। পার্টি ক্লাস বা শিক্ষা শিবিরের আদলে আলোচনার বদলে এদিনের পাঠচক্রে পার্টি সদস্যরা আত্মশিক্ষার লক্ষ্যে সকলে মিলে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পার্টির রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৈরি করে দেওয়া একটি নোটের ভিত্তিতে জেলায় জেলায় গ্রাম-শহরে সর্বত্র পার্টি শাখাগুলিতে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। বহু শাখাতে ঊর্ধ্বতন কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত শাখাগুলির সভায় বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্য মিশ্র সহ রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর অনেক সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা বর্জিত প্রাণবন্ত আলোচনার ওপরে জোর দেওয়া হয়েছিল পাঠচক্রগুলিতে। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন এবং মতামতও উঠে এসেছে শাখা সদস্যদের কাছ থেকে। শাখা সদস্যদের আলোচনার রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এই ধরনের কর্মসূচির ফলে পার্টি সদস্যদের মতাদর্শগত গুণমান বৃদ্ধি পাবে বলে নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। এদিনের কর্মসূচির পরে বিভিন্ন শাখাকমিটিগুলিতে পার্টি ক্লাস ও নিয়মিতভাবে পাঠচক্রের তাগিদ বাড়বে বলেও মনে করছেন তাঁরা। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারেই কলকাতার এলাকায় অবশ্য এদিন পার্টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। কলকাতার শাখাগুলিতে পাঠচক্রে যারা আলোচনার উপস্থাপকের ভূমিকা পালন করবেন তাঁদের প্রশিক্ষিত করার কাজ চলছে। অন্যান্য জেলাগুলির শাখাগুলিতে এই কর্মসূচি অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে হয়েছে। সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, খুবই উৎসাহজনক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। জেলাগুলি থেকে রাজ্যকমিটির কাছে ৩১শে মার্চের মধ্যে সামগ্রিক রিপোর্ট আসবে, তারপরে পাঠচক্রের উদ্যোগের একটি পর্যালোচনাও করা হবে।