অমরনাথ যাত্রীবোঝাই
বাস খাদে,নিহত ১৬

অমরনাথ যাত্রীবোঝাই <br>বাস খাদে,নিহত ১৬
+

জম্মু, ১৬ই জুলাই — জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক দিয়ে ছুটছিল বাসটি। বাসে অমরনাথের দর্শনার্থীরা। রামবনে আচমকাই সেই যাত্রীবোঝাই বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গড়িয়ে গেল গভীর খাদে। তীব্র আর্তনাদ, খাদের ধারে গাছের ফাঁকে ফাঁকে আটকে দেহ। প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ১৬জন দর্শনার্থী। যাত্রীদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে দর্শনার্থীদের বাসে রক্তবন্যা বয়েছে কয়েকদিন আগেই। সেই রেশ কাটতে না কাটতে এক সপ্তাহের মধ্যেই এবার অমরনাথ দর্শনার্থীদের বাস দুর্ঘটনার মুখে। জখম প্রায় ৪০জন, অধিকাংশের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বাসের চাকা পিছলে গিয়েই এই বিপত্তি, এমনই মনে করা হচ্ছে। দেড়শো মিটার গভীর খাদে গড়িয়ে গিয়েছে বাসটি। চাকা ফেটে গিয়েও এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনুমান। দুপুর দুটো নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ‘রাস্তায় পিছলে যায় বাসের চাকা। নাচলিয়ানায় সেনাছাউনির কাছেই আছড়ে গিয়ে পড়ে খাদে’, জানিয়েছেন রামবনের এস এস পি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুজন মহিলা। উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, আসাম, হরিয়ানা এবং মধ্য প্রদেশের বাসিন্দাদের এদিনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, খাদের মধ্যে বড় পাথরে ধাক্কা খেতে খেতে নিচে পড়ে যায় বাসটি। বাসচালক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। গুরুতর জখম ১৯জনকে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে তড়িঘড়ি জম্মু নিয়ে এসে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। সামান্য আহতরা রামবন জেলা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তবে ১৬জনের মধ্যে ১৫জন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারালেও একজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। দর্শনার্থীদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, হুরিয়ত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানিসহ জম্মু-কাশ্মীরের সব অংশের মানুষ।
প্রায় ৩হাজার ৬০০জন অমরনাথ দর্শনার্থীদের নিয়ে জম্মু থেকে রওনা হয় কনভয়। সেই কনভয়ের মধ্যেই ছিল জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পরিবহণ নিগমের এই বাসও। দুটি বেসক্যাম্প বালতাল এবং পহেলগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছে এই কনভয়, জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সি আর পি এফ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। তবে স্থানীয়রাই ছুটে আসেন আগে। উদ্ধার করা থেকে জখমদের রক্ত দেওয়া, স্যালাইনের বোতল হাতে ধরে দর্শনার্থীদের চিকিৎসায়ও সাহায্য করেছেন তাঁরাই। পাশাপাশি গভীর খাদ থেকে জখম দর্শনার্থীদের উপরে তুলে আনার কাজেও তাঁরা হাত লাগান। সন্ত্রাসবাদী হামলার দিনও একইভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কাশ্মীরের মানুষ। হাসপাতালে লাইন করে দিয়েছিলেন রক্ত।
একনাগাড়ে বৃষ্টিতে উপত্যকার আবহাওয়া খারাপ। রবিবারই জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ধস নামে। বেশ কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকে পরিবহণ ব্যবস্থা। রামবনের সেরি, মুর্গ, খুনি নাল্লাহ প্রভৃতি জায়গায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় রবিবার বিকালের দিকে দর্শনার্থীদের বাসও আটকে দেওয়া হয় রামবন এবং চান্দেরকোটে। চার পাঁচ ঘণ্টা ধরে বি আর ও রাস্তা মেরামতির পর রবিবার রাতের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে জাতীয় সড়কে। ভারী বৃষ্টির জন্য গত বুধবারও এই সড়কপথে বন্ধ ছিল পরিবহণ পরিষেবা। 
শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কেই অনন্তনাগের খানবালে গত সোমবার সন্ত্রাসবাদীরা অমরনাথ দর্শনার্থীদের বাসে নির্বিচারে গুলি চালায়, প্রাণ হারান সাতজন। জখমদের মধ্যে গুজরাটের বাসিন্দা এক মহিলা দর্শনার্থী হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছেন, ফলে নাশকতার ঘটনায় রবিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট। এদিকে, রবিবার বালতাল বেসক্যাম্পে পৌঁছে শ্বাসকষ্টের জেরে মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা সদাশিব (৬৫)। এছাড়াও যাত্রা শুরু হওয়ার আগে তেলেঙ্গানার এক দর্শনার্থী সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক আই টি বি পি জওয়ান ও ইসরো টেকনিশিয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। এঁরাও দর্শনার্থীদের তালিকাতেই ছিলেন। চলতি বছর ৪০ দিনের এই অমরনাথ যাত্রায় ইতিমধ্যেই ২৫জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এবছর অমরনাথ যাত্রার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ধারাবাহিক মৃত্যুতে নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রবিবার বাস দুর্ঘটনার পর কার্যত বাধ্য হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং রাজ্যপাল এন এন ভোহরার সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। আগামী ৭ই আগস্ট শেষ হওয়ার কথা অমরনাথ যাত্রার। 

Featured Posts

Advertisement