কৃষকবিক্ষোভে অচল
রাজস্থানের ১৪ জেলা

কৃষকবিক্ষোভে অচল<br>রাজস্থানের ১৪ জেলা
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: সিকর, ১৩ই সেপ্টেম্বর— কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও দাবি মানতে রাজি হচ্ছে না বসুন্ধরা রাজে সরকার। বুধবার রাত সাড়ে নটাতেও মীমাংসা হয়নি। কিন্তু, তেরো দিন পরও আন্দোলনের রাস্তাও ছাড়ছেন না কৃষকরা। এদিনও তাঁরা রয়েছেন রাস্তায়। সিকরকে কেন্দ্র করে রাজস্থানের শেখাওয়াটি প্রান্তের একাধিক কেন্দ্র দাবি আদায়ে অনড়। রাজস্থানের ১৪টি জেলায় কৃষকদের অবরোধে আটকে রয়েছে রাস্তা। সেনা এবং অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া আর প্রায় কোনও যানই চলাচল করতে পারেনি বুধবারও।

ফসলের ন্যায্য দাম, ঋণ মকুব, শস্যহানি বাবদ বিমার টাকা, চাষের জন্য বিদ্যুতের দাবিতে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় কৃষকরা। কৃষক নেতাদের হিসাব, সারা রাজ্যে কৃষকদের মোট ঋণ ৪৯হাজার ৫০০কোটি টাকা। ঋণ মকুবের দাবিতে সরকারি টালবাহানা চলতে থাকায় সমাধানসূত্র মিলছে না আলোচনায়। কিষানসভার নেতৃবৃন্দের দাবি, ঋণ মকুবের সিদ্ধান্ত এখনই ঘোষণা করতে হবে সরকারকে। রাজ্যের বি জে পি সরকার চাইছে এখনই ঘোষণা না করে কমিটি গড়তে। এই কমিটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘোষণা করবে। সরকারের এই প্রস্তাব মানতে নারাজ কৃষকনেতারা।

কৃষকনেতারা বলছেন, উত্তর প্রদেশে ভোটের আগে বি জে পি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সেরাজ্যে কৃষকদের ঋণ মকুবের ঘোষণা করেছিল। তাহলে রাজস্থানে কেন কৃষকদের ঋণ মকুব করা হবে না। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে খরচের সঙ্গে ৫০শতাংশ যোগ করে সহায়ক মূল্য ঠিক করার প্রতিশ্রুতি ভোটের আগে দিয়েছিল বি জে পি। বাস্তবে, বেশ কিছু ফসলে খরচের তুলনায় সহায়ক মূল্য কম। অবিলম্বে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দাম ঠিক করার দাবিটিও উঠে এসেছে প্রবলভাবে। সারা ভারত কিষানসভার ডাকে গ্রামের পর গ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে রাস্তায় শামিল কৃষকরা।

বুধবার রাতে কিষানসভার রাজস্থান রাজ্য সম্পাদক ছগনলাল চৌধুরি জানিয়েছেন যে সিকরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে ‘চাক্কা জ্যাম’। রাস্তায় ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকায় জনমতের চাপে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে রাজ্যের বি জে পি সরকার। বিদ্যুৎমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সেচমন্ত্রীকে রেখে আলোচনায় বিশেষ কমিটি বানাতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে। আলোচনায় সরকারের পক্ষে অংশ নিয়েছেন রাজ্য বি জে পি সভাপতি অশোক প্রণামি।

কিষানসভার সর্বভারতীয় সভাপতি অমরা রাম জানিয়েছেন, আন্দোলনে কেবল কৃষকরাই শামিল নন। বস্তুত, গণআন্দোলনের চেহারা নিয়েছে এই পর্ব। ব্যবসায়ী, স্থানীয় দোকানকর্মী থেকে মধ্যবিত্ত মানুষও শামিল। জানাচ্ছেন সংহতি।

আন্দোলন দুর্বল করতে নানারকম গুজব সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর চেষ্টা করছে বি জে পি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের অনুগামীরা। গুজব সম্পর্কে সাবধান থাকার পালটা সতর্কবার্তা দিয়েছেন কৃষকনেতারা। সিকরে ঢোকার মুখে ১৫০টি জায়গায় অবরোধ চলছে। অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে জাতীয় সড়কও।

আন্দোলনের মূল কেন্দ্র সিকর হলেও অন্য জেলাগুলিতেও আন্দোলন চলছে। রাস্তা আটকে কৃষকরা বসে রয়েছেন নাগৌর, বিকানের, শ্রীগঙ্গানগর, হনুমানগড় জেলাতেও। কিষানসভার প্রতিনিধিদলে ছগনলাল চৌধুরি, অমরা রাম ছাড়াও রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক প্রেমা রাম। আলোচনার মাঝে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী প্রভুলাল সৈনি বলেছেন, প্রতিটি বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা জটিলতা কেটে বেরনোর পথ তৈরি করছি। সহায়ক মূল্যের দাবির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

কিষানসভা দাবি জানিয়েছে যে পশু কেনাবেচায় রাজ্যের জারি করা নিষেধাজ্ঞা পাকাপাকিভাবে বাতিল করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার জেরে সবচেয়ে সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অংশে জীবন-জীবিকার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হওয়ায় বি জে পি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচার আপাতত দমে গিয়েছে। এবছরই ভোট রাজস্থানে। কিষানসভার দাবির সপক্ষে দলমত নির্বিশেষে শ্রমজীবী অংশের বিপুল সমর্থন থাকায় বড় রকমের কোনও নির্যাতন নামাতে পারেনি প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার জয়পুরে রাজ্যের বিরোধী বিভিন্ন দল অংশ নেবে ‘সান্‌ঝা বিরাসত বাঁচাও’ সভায়। জনতা দল (ইউ)-র বিক্ষুব্ধ নেতা শারদ যাদবের উদ্যোগে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অটুট রাখার আবেদনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই হচ্ছে এমন সভা। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির নেতারাও থাকবেন জয়পুরে। এই কর্মসূচিতে থাকতে পারেন সি পি আই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। দেশের বিরোধী নেতারা দেখা করতে পারেন সিকরে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গেও।