পাটের অভাবী বিক্রির
দামেই সায় রাজ্যের

পাটের অভাবী বিক্রির<br>দামেই সায় রাজ্যের
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর— পাটের উৎপাদন খরচের ওপর মাত্র ১০শতাংশ বাড়তি দাম চাইলো রাজ্য! কৃষি কমিশনে এসে এমনই তদবির রাজ্যের।

ওই সভাতেই পাটের কুইন্টাল পিছু ৬হাজার টাকা সহায়ক মূল্য দাবি করে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষকসভার প্রতিনিধিরা। রাজ্যজুড়ে ঠিক এই সময়ই চলছে পাটের অভাবী বিক্রি। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৩হাজার ৫০০টাকার ঢের নিচে পাটের দাম।

চলতি বছরের জন্য নয়। আগামী ২০১৮সালে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে আলোচনা করতে পশ্চিবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি উৎপাদন খরচের ওপর ১০শতাংশ বাড়তি দাম চাওয়ায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

গোটা দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের ওপর ৫০শতাংশ যোগ করে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এম এস পি) ঠিক করার দাবি উঠেছে। এম এস স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশও ছিল কৃষকের উৎপাদন খরচের ওপর ৫০শতাংশ বাড়তি যোগ করে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করার। কিন্তু তা মানার ধারপাশ দিয়েও যায়নি মা মাটি মানুষের সরকার।

গত লোকসভা ভোটের আগে কৃষকের মন জয় করতে স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ অক্ষরে, অক্ষরে মেনে চলার কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪সালে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ নিয়ে আর টুঁ শব্দটি করেনি। একই পথ ধরে চলছে এরাজ্য সরকার। কৃষকের ক্ষতি হবে জেনেও আগামী বছরের জন্য পাটের সহায়ক মূল্যে নিয়ে আলোচনায় মাত্র ১০শতাংশ বাড়তি যোগ করার কথা জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি মন্ত্রকের অধীন কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল প্রাইস অ্যান্ড কস্ট (সি সি পি এ) কৃষিপণ্যের সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করার শুনানির জন্য বর্তমানে কলকাতায়। গত মঙ্গলবার জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার দপ্তরে কৃষির সঙ্গে যুক্ত সরকারি প্রতিনিধি, কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। শুনানির প্রথম পর্বে রাজ্যের কৃষি দপ্তরের প্রতিনিধি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে মিলিত হন সি সি পি এ। সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রথম পর্বের আলোচনার পর ফের দুপুর ৩টায় শুরু দ্বিতীয় পর্বের শুনানি। দ্বিতীয়ার্ধে সি সি পি এ-র প্রতিনিধি দলের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ওই বৈঠকের পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষকসভার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব মজুমদার ও মহম্মদ সেলিম। নিজেদের অবস্থান নিয়ে লিখিতভাবে তাঁরা কমিশনের সামনে বক্তব্য তুলে ধরেন। সেই বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষকসভার তরফ থেকে স্পষ্টভাবে আগামী আর্থিক বছরের জন্য পাটের কুইন্টাল পিছু সহায়ক মূল্যে ৬হাজার টাকা করার দাবি রাখা হয়েছে। কমিশনের কাছে কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘আগামী আর্থিক বছরের জন্য পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৬হাজার টাকা হওয়া উচিত। কারণ, ২০১৬-১৭পাটের কুইন্টাল পিছু উৎপাদন খরচ ৪হাজার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। আবার চলতি বছরে মজুরি সহ অন্যান্য খরচ যেমন বেড়েছে তেমনই রাজ্যের একটা বড় অংশে এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে পাটচাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে আগামী আর্থিক বছরে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল পিছু ৬হাজার টাকা হওয়া উচিত।’’

৪হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হিসাব করে ৬হাজার টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের অর্থই হলো স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা। মঙ্গলবারের ওই কৃষক সংগঠনের সঙ্গে শুনানির ওই সময় রাজ্যের শাসকদলের কৃষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ কিষান খেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির তরফে উপস্থিত ছিলেন দুই নেতা মফিজুদ্দিন মিঞা ও মিলনকৃষ্ণ হোড়। আগামী বছরের পাটের সহায়ক মূল্য নিয়ে কমিশনের কাছে লিখিতভাবে তাঁরা কোনও বক্তব্য জানাননি। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা মফিজুদ্দিন মিঞাকে গতকালের সভা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫হাজার টাকা দাবি করেছি।’’ কিন্তু কত টাকা উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে তাঁরা ৫হাজার টাকা সহায়ক মূল্য দাবি করছেন, এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি শাসকদলের নেতা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষকসভা কুইন্টাল পিছু ৬হাজার টাকা সহায়ক মূল্যের দাবি শোনার পর ওই সংগঠনের তরফ থেকে ৫হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরে দাম নেই পাটের। এই পরিস্থিতি খোদ রাজ্য সরকারই যদি সহায়ক মূল্যের জন্য উৎপাদন খরচের সঙ্গে মাত্র ১০শতাংশ দাম চায় তাহলেই আগামী বছরও পাটচাষিদের হাল কী হতে চলেছে তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।