কর্ণজোড়ায় আছড়ে
পড়লো জনস্রোত

বানভাসিদের সাহায্য, সম্প্রীতি রক্ষার দাবিতে

কর্ণজোড়ায় আছড়ে<br>পড়লো জনস্রোত
+

গণশক্তির প্রতিবেদন : রায়গঞ্জ, ১৩ই সেপ্টেম্বর – কীভাবে জনগণের দাবি আদায় করতে হয়, তা বিলক্ষণ জানে লালঝান্ডা। এই লালঝান্ডা অনেক মানুষের রক্ত ঘাম ঝরানো শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রতীক। এইভাবেই মমতা ব্যানার্জির প্রশাসনকে সর্তক করলেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য সাংসদ মহম্মদ সেলিম। 

বুধবার ছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলা সদর অভিযানের কর্মসূচি। জেলাশাসকের দপ্তর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে কর্ণজোড়া বাসস্ট্যান্ডে জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেলিম। এদিনের অভিযানের অন্যতম দাবি ছিল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, পুনর্গঠন। সমাবেশে বানভাসি মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। মানুষের দাবি রং নয়, সবার জন্য ত্রাণ চাই। একমাস হয়ে গেল বন্যা হয়েছে। তবুও বন্যায় আক্রান্ত মানুষের হাহাকার চলছেই। তবু সরকারিভাবে ঘোষণাই হলো না ‘বন্যা’। 

বন্যার জলে গেছে অনেক তাজা প্রাণ। অথচ খোঁজ নেই প্রশাসনের। বানের জলে ভেসে গেছে গবাদি, ভেসে গেছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বই। বন্যা দুর্গত অসহায় মানুষজন প্রশাসনের মুখাপেক্ষী। কিন্তু নিরুত্তাপ প্রশাসন। সেই প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে জেলাশাসককে ১৩ দফা দাবি পেশে ডেপুটেশন। বন্যায় আক্রান্ত মানুষকে অবিলম্বে সাহায্য করার দাবি তোলা হয় সমাবেশ থেকে।

বুধবার প্রশাসনের দরবারে পৌঁছালেন হাজার হাজার মানুষ। আগাম জানানো হয়েছিল, তবু প্রশাসন লালঝান্ডাকে রুখতে জলকামান, কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করে। চোপড়া থেকে ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ থেকে ইসলামপুর সব জায়গা থেকে আসে লালঝান্ডার মিছিল। ৯৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সব মিছিল এসে পৌছায় রায়গঞ্জের বোগ্রামে। মানুষের ঢলে রায়গঞ্জ বালুরঘাট রাজ্য সড়ক কার্যত কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে যায়। চার কিলোমিটার পথে লাল ঝান্ডার মিছিলে পা মেলান মহম্মদ সেলিমসহ বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।

সমাবেশে মহম্মদ সেলিম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়, আলি ইমরান রামজ, শ্রীকুমার মুখার্জি, মনিকা হেমব্রম। জেলা বামফ্রন্ট নেতা অপূর্ব পাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

সমাবেশ চলাকালীন জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। ডেপুটেশনে প্রতিনিধিত্ব করেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক অপূর্ব পাল, সি পি আই (এম)-র প্রবীণ নেতা দিলীপনারায়ণ ঘোষ, সি পি আই জেলা সম্পাদক সমর ভৌমিক, ফরওয়ার্ড ব্লক জেলা সম্পাদক গোকুল রায়, আর এস পি জেলা নেতা জ্যোতিশ সরকার, আর সি পি আই জেলা সম্পাদক হৃদয় সুত্রধর।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, ধর্মীয় উন্মাদনার গুজবের জেরে শান্তিপ্রিয় উত্তর দিনাজপুর জেলায় সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের সরকার ধর্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতেই হবে। গ্রামগঞ্জ জুড়ে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হবে।

জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেবার সময়েও বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম রাড়িয়া গ্রামে, বাহিন, ঝিটকা গ্রাম সহ রায়গঞ্জ ব্লক সংলগ্ন ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, করণদিঘি, পাঞ্জিপাড়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গুজব অপপ্রচার ছড়িয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে মানুষের অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। এইসব বন্ধ করতে হবে। দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় সর্বদলীয় সভা করে এইসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে হবে, সেই সব দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। উৎসবের প্রাক্কালে জেলার স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশি ক্যাম্প এবং পুলিশি টহল দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগ নিতে হবে বলে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান জেলা বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement