শ্রমজীবী মিছিলে
উদ্দীপ্ত বেঙ্গালুরু

শ্রমজীবী মিছিলে<br>উদ্দীপ্ত বেঙ্গালুরু
+

বিমল সাহু : বেঙ্গালুরু, ১৪ই সেপ্টেম্বর — বেঙ্গালুরু ফের মুখরিত হলো হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের উত্তাল স্লোগানে। ন্যূনতম মজুরি ১৮হাজার টাকা করার দাবির পাশাপাশি সমকাজে সমবেতন চেয়ে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে বিশাল মিছিল করলো সি আই টি ইউ। এদিন কর্ণাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ শামিল হন বিধানসভা অভিযানে। রাজ্যের ৩০টি জেলা থেকে এই কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। অঙ্গনওয়াড়ি, আশা, মিড ডে মিল কর্মীদের সঙ্গেই এদিনের মিছিলে হেঁটেছেন অটোচালক, বাসচালক-সহ পরিবহন শ্রমিকরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরু, ম্যাঙ্গালুরু শিল্প তালুকের অন্তত ১৫০টি কারখানার শ্রমিকরা। এই কারখানাগুলিতে এদিন ধর্মঘট করেই তাঁরা মিছিলে অংশ নেন।

শহরের ম্যাজিস্টিক অঞ্চল থেকে লালঝাণ্ডায় মোড়া বিশাল মিছিল যখন শুরু হলো, শেষ ভাদ্রের চড়া রোদে তখন পুড়ছে গোটা শহর। রোদের তেজকে তোয়াক্কা না করেই এদিন নিজেদের হক আদায় করতেই পথ নেমেছিলেন হাজার হাজার মেহনতী জনতা। কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা শেষাদ্রী রোড। সি আই টি ইউ-র কর্ণাটক কমিটির সম্পাদক মীনাক্ষী সুন্দরম জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ৪০হাজার শ্রমিক শামিল হয়েছিলেন এদিনের কর্মসূচীতে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মিছিল শেষ হয় ফ্রিডম পার্কে। অতীতে এই ফ্রিডম পার্ক একাধিকবার সাক্ষী থেকেছে বিশাল জমায়েতের। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের এই বিশাল সমাবেশ সাম্প্রতিক অতীতে দেখেনি বেঙ্গালুরু। সি আই টি ইউ-সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের লড়াইয়ের জেরে সম্প্রতি বিধানসভায় ঠিকা শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ বিলের খসড়া পেশ করতে বাধ্য হয়েছে কর্ণাটক সরকার। কিন্তু রাজ্যের শ্রমিকরা এখানেই থেমে থাকতে চান না। অবিলম্বে এই খসড়াকে আইনী স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে এদিনের বিশাল সমাবেশ থেকে। এদিনের সমাবেশ পরিচালনা করেন সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি বীরালক্ষ্মী।