সান্তা ক্লারায় ৬০ হাজার
মানুষের চে’কে স্মরণ

রাউলের উপস্থিতিতে ফিদেলের রেকর্ডেড ভাষণ

সান্তা ক্লারায় ৬০ হাজার<br>মানুষের চে’কে স্মরণ
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: সান্তা ক্লারা, ৮ই অক্টোবর— এই প্রথম, চে’র শহীদী মৃত্যুর স্মরণ দিনে ফিদেল নেই।

যদিও ফিদেল ছিলেন, গার্ড অব অনার, স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক, লাল তারা দেওয়ার পর এক মিনিটের নীরবতা, জাতীয় সংগীত শেষ হতেই ৬০,০০০ মানুষের সমাবেশে ভেসে এসেছে ফিদেলের ভরাট কণ্ঠস্বর, ১৯৬৭’র ১৮ই অক্টোবরে হাভানায় রেভেলিউশন স্কোয়ারে স্মরণ অনুষ্ঠানে কমানদান্তের ভাষণ: ‘আমরা যদি মানুষের কোনও মডেল চাই, এমন এক মানুষের মডেল, যিনি এই সময়ের না, এমন এক মানুষের মডেল, যিনি হবেন ভবিষ্যতের প্রতিনিধি— তবে সেই মডেল হলেন চে! যদি আমরা প্রকাশ করতে চাই, কেমন হবে আমাদের শিশুরা, তবে বিপ্লবী আবেগে ভরা হৃদয় থেকে আমাদের বলতেই হবে: আমরা চাই তারা যেন হয় চে’র মতো।’

রাষ্ট্রপতি রাউল কাস্ত্রোর উপস্থিতিতে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে চে গুয়েভারার শহীদীবরণের পঞ্চাশতম বার্ষিকীতে স্মরণ অনুষ্ঠান। এই সান্তা ক্লারাতেই কিউবা বিপ্লবের চূড়ান্ত যুদ্ধে জিতেছিলেন এর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারা। বিপ্লবে এই রণাঙ্গনের জয়ই ছিল নির্ণায়ক, বাতিস্তার স্বৈরাচারের কফিনে শেষ পেরেক। এখানেই তাই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। প্রধান বক্তা, কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য, প্রথম উপরাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, ‘এই প্রথম, এমন এক স্মরণ অনুষ্ঠানে ফিদেল শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু, ফিদেল এবং চে বরাবর আমাদের মধ্যে থাকবেন, কারণ দুজনেই অমর, কিউবার জনগণের মধ্যে তাঁরা বেঁচে থাকবেন আজীবন।’

‘চে’র মৃত্যু নেই, যেমন চেয়েছিলেন তাঁর হত্যাকারীরা, মানুষের কাছে তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজে, উদাহরণ হিসাবে অনুসরণ করবেন তাঁকে।’ বলেছেন মিগুয়েল। যোগ করেছেন, ‘চে ও তাঁর ছোট্ট গেরিলাবাহিনী যে মহাকাব্য লিখেছেন, আজও তা এই বিশ্বের সমস্ত স্পর্শকাতর মানুষকে নাড়িয়ে দেয়।’

‘এই জমি তোমার জমি,এই জনগণ তোমার জনগণ, এই বিপ্লব তোমার বিপ্লব, আমরা ঊর্ধ্বে তুলে রাখব সমাজতন্ত্রের পতাকা।’ বলেছেন হাই স্কুলের ছাত্র সারা মে ভেগা। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। সরাসরি তা সম্প্রচার করা হয়েছে চ্যানেল কিউবাভিশান এবং কিউবাভিশান ইন্টারন্যাশনালে। সেইসঙ্গেই রেডিও রিবেলদে এবং রেডিও হাভানা কিউবাতে। সোমবার হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একইভাবে হবে তার সরাসরি সম্প্রচার।

এদিকে ট্রাম্পের ‘পাগলামোতে’ আশঙ্কা প্রকাশ করে চে’র কন্যা ডাঃ অ্যালেইদা গুয়েভারা বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারে মানবতাকে। অ্যালেইদা বলেছেন, ‘মানবতাকে ধ্বংস করার জন্য ওই লোকটার হাতে রয়েছে বিরাট ক্ষমতা, আমরা হলাম সেই মানবতার অংশ, আর সেটাই হলো সমস্যা, ওঁর হাতে ক্ষমতা আছে, অথচ ওঁর নেই কোনও বোধবুদ্ধি।’ ৫৭-বছরের অ্যালেইদা হাভানায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন দ্য উইক পত্রিকাকে। ‘আমরা বুঝতে পারছি না, অথবা আমরা বুঝতে চাইছি না যে আমরা এই পৃথিবীটাকে ধ্বংস করে চলেছি, ওই পাগল লোকটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।’

‘এখন সতর্ক হওয়ার সময়, আমাদের রাস্তায় নামতে হবে, কারণ আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।’ বলেছেন চে’র কন্যা। শুনিয়েছেন দুদশক আগে কীভাবে ভারত তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা। ১৯৯৭, ‘আমার মনে আছে, আমি গিয়েছিলাম কলকাতায়, হায়দরাবাদ এবং কোজিকোড়ে, মনে আছে সেই মানুষদের, যাদের কাছে পেয়েছিলাম বন্ধুত্ব।’

বলিভিয়াতেও শুরু হয়ে গিয়েছে নানা অনুষ্ঠানে চে’কে স্মরণ। হচ্ছে সেমিনার, বিতর্ক সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এক টুইটে বলিভিয়ার রাষ্ট্রপতি ইভো মোরালেস বলেছেন, ‘এখন, চে-কে নিয়ে কাঁদার সময় নয়। বরং, এখন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তিকে সংহত করার সময়। চে ছিলেন এই লড়াইয়ের সৈনিক, সামরিক স্বৈরাচারের মুখে সাহসী লড়াই চালিয়েছিলেন, সার্বভৌমত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’