ফিরছে ব্রাজিলের
সোনালি ঝলক

ফিরছে ব্রাজিলের<br>সোনালি ঝলক
+

প্রশান্ত দাস  কোচি, ১১ই অক্টোবর— লাতিন আমেরিকার প্রথম দল হিসাবে রাশিয়ার ছাড়পত্র আদায় করেছে ব্রাজিল। সকলকে ছাপিয়ে সবার আগে। গ্রুপ শীর্ষে থেকেই বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়েছেন নেইমাররা। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ফেভারিট বললেও অত্যুক্তি হবে না। জার্মানির কাছে সাত গোল খাওয়ার পর পরিস্থিতি এখনকার মতো ছিল না। লুইস ফিলিপ স্কোলারি দায়িত্ব ছাড়ার পর দুঙ্গা কোচ হন। কিন্তু দলের খেলায় আর মানসিকতায় কোনও বদল আসেনি। যা টিটে আসার পর হয়েছে। এমনটাই জানালেন ব্রাজিল থেকে যুব বিশ্বকাপ কভার করতে আসা স্পোর্টিভির সাংবাদিক রিচার্ড। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তুলনা টেনে জানান, ‘আর্জেন্টিনা ছাড়পত্র পেয়েছে ঠিকই। এখন আর্জেন্টিনার যেমন অবস্থা, ঠিক সেরকমই অবস্থা ছিল দুঙ্গার সময়। তারকা আর প্রতিভাবান ফুটবলার থাকলেও সাফল্য পাওয়া যাচ্ছিল না। টিটে আসার পর ফুটবলাররা অনেক বেশি স্বাধীনতা পেয়েছে। টিটে সবার সঙ্গেই বন্ধুর মতো মিশে প্রত্যেককে তার যোগ্য সম্মান দেন।’

নেইমারদের জন্য এখন থেকেই রাশিয়ায় ঘাঁটি গাড়লেও, আপাতত ছোটদের পিছু নিয়েছেন রিচার্ড। একঝাঁক তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে ব্রাজিলে। নেইমারদের দিকে যেমন সবাই তাকিয়ে তেমনই ভিনিসিয়াস, পাউলিনহো, লিঙ্কনদের উপরেও ভরসা করা যায় বলেই মনে করছেন ব্রাজিলীয় এই সাংবাদিক। ‘সেই ছোট্ট থেকে এরা একসঙ্গে খেলছে। পরের ম্যাচ গোয়ায় খেলবে। সেখানেও তো দুবছর আগে এই দলের অধিকাংশ ফুটবলার খেলেছে। এদের যদি সঠিকভাবে তৈরি করা যায়, তাহলে ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি দিন ফিরতেও পারে।’ শুধু রিচার্ড নয়। একই কথা মনে করছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লোজ আমাদু। আর সেই মতোই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ফুটবলারদের। গণতান্ত্রিক কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ের পর আমাদু জানান, ‘আমরা ফুটবলারদের তৈরি করছি, ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী মানিয়ে নিতে। যখন পিছিয়ে থাকবে বা যখন আক্রমণে উঠবে, সব সময় যেন মানসিকভাবে তৈরি থাকে। আমরা ব্রাজিলীয়রা একটু বেশি আবেগপ্রবণ। ভালো কিছু হলে, খুব খুশি হই। আর সামান্য কিছু ভুল হলে বা প্রত্যাশা মতো না হলে দুঃখে কাতর হয়ে যাই। আমাদের সহকারী কোচ ওদের মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার কাজই করছেন। কোনও কিছুতেই ফুটবলাররা যাতে খুব বেশি ভেঙে না পড়ে বা আনন্দের জোয়ারে ভেসে না যায় সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে হোটেলে একসঙ্গে খাবার খেতে হয়। কেউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কেউ কম গুরুত্বপূর্ণ, এই খেয়াল যেন না আসে সেই চেষ্টাই করছি আমরা। ভালো ফুটবলার হওয়ার সব উপকরণ ওদের মধ্যে আছে।’

প্রথম ম্যাচে যেমন স্পেনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, তেমনই গণতান্ত্রিক কোরিয়ার বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল ফুটবল খেলেছে। স্পেনের বিরুদ্ধে যেমন লিঙ্কন ও মার্কোস আন্তোনিও ভালো খেলেছিলেন। গণতান্ত্রিক কোরিয়ার বিরুদ্ধে তেমনই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে ভিক্টর ববসিন ভালো খেলেছেন। কেন একেক দিন এক একজন মিডফিল্ডারের নাম ভেসে উঠছে সে প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেদিন যেমন প্রয়োজন, পরিস্থিতি যা দাবি করছে সেইরকমভাবে খেলেছে ফুটবলাররা। প্রত্যেকেই নিজের দায়িত্ব কী সেটা জানে! গত ম্যাচে লিঙ্কনরা ভালো খেলেছিল আর এই ম্যাচে ববসিন।

Featured Posts

Advertisement