ম্যাচ জিতলেন স্যাঞ্চোরা
হৃদয় জয় ‘মেক্সিকান মেসি’র

ইংল্যান্ড ৩ (ব্রেস্টার, ফোডেন, স্যাঞ্চো) : ২ মেক্সিকো (লেইনেজ ২)

ম্যাচ জিতলেন স্যাঞ্চোরা<br>হৃদয় জয় ‘মেক্সিকান মেসি’র
+

সায়ন কর্মকার, কলকাতা  ১১ই অক্টোবর — শেষ মিনিটের বাঁশি বাজার ঠিক পরের মুহূর্ত। ক্যামেরায় ধরা পড়ল মেক্সিকোর দিয়েগো লেইনেজ কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ছেন। ভালো খেলেও তাঁর দল যে হেরে গিয়েছে, এটাই মনে হয় বিশ্বাস করতে পারছেন না মেক্সিকান মেসি। তিনি হারলেও যুবভারতীর হৃদয় জয় লেইনেজের। কুইটোতে আসল মেসির মুখে তৃপ্তির হাসি, আর কলকাতায় চোখের জল ফেললেন মেসির ছায়া লেইনেজ। দুর্ধর্ষ পায়ের কাজ। ছোট ছোট ড্রিবলে বিপক্ষ ফুটবলারদের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। নিজেও বুধবারের ম্যাচে জ্বলে উঠে জোড়া গোল করলেন ঠিকই, কিন্তু দলকে জেতাতে যে বারুদ থাকা প্রয়োজন, এই মেক্সিকো দলের সেটা নেই।

বুধবার সকাল থেকেই আকাশে নানান রঙের খেলা। কখনও প্রখর রৌদ্র, আবার কখনও মৃদু হালকা বাতাস। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডও আবহাওয়ার মতোই পরিবর্তনশীল। শুরুতে ম্যাচের দখল নিলেও পরেরদিকে ইংল্যান্ড কিছুটা স্লথ। চিলিকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর ডিফেন্স ভাঙতে ইয়ং লায়ন্সরা সময় নিলেন ৩৯ মিনিট! বিশ্বমানের ফ্রি-কিক থেকে গোল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের রাহন ব্রেস্টারের। ১-০ ইংল্যান্ড। ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৩ নম্বর গোল তাঁর নামের পাশে। ৪৮ মিনিটে অ্যাঞ্জেল গোমস, স্যাঞ্চোর যুগলবন্দি থেকে পাস। তারপরেই বাঁ-পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে ২-০ করেন ফিলিপ ফোডেন। ৫৫ মিনিটে ৩-০ করেন জেডান স্যাঞ্চো।

ইংল্যান্ড শাসনে মেক্সিকো সেইসময় অসহায়। এরপরেই ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে দুবারের চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো। ৬৪ মিনিটে আচমকা ইংল্যান্ড ডিফেন্সে আছড়ে পড়েছে মেক্সিকান ঝড়। বিপক্ষ রক্ষণকে তছনছ করে গোল করে ৬৫ এবং ৭২ মিনিটে জোড়া গোল করলেন দিয়েগো। যুব বিশ্বকাপে ১০০ নম্বর গোলটি এল ছোট মেসির পা থেকেই। প্রথম গোলটি ইংল্যান্ড অধিনায়ক জোল ল্যাটিবেউদিয়েরের পায়ের তলা দিয়ে জোরালো শটে। দ্বিতীয় গোলটিও জোলের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে বল জালে ঢুকে যায়। ভালো খেললেও শেষ রক্ষা হল কোথায়? মারিও আর্তেগার দলকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় স্টিভেন কুপারের ইংল্যান্ড। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। ব্রিটিশ কোচ কুপার বললেন, ‘গ্রুপে প্রত্যেকটি ম্যাচ আলাদা রকমের। মেক্সিকো দুর্দান্ত খেলেছে। দারুণ উপভোগ করেছি। যুবভারতীর দর্শক এক কথায় অসাধারণ।’ হারলেও ভেঙে পড়তে নারাজ মেক্সিকো কোচ আর্তেগা। জানালেন, ‘ইংল্যান্ড শক্তিশালী দল। ওদের শক্তি সম্পর্কে আমরা সজাগ ছিলাম। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। দিয়েগো অসাধারণ খেলেছে। ওর জন্যই খারাপ লাগছে।’

নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ২ বছরের ছোট্ট স্বাগত চক্রবর্তী। বাবার হাত ধরে সল্টলেকে খেলা দেখতে এসেছে। গায়ে তাঁর ইংল্যান্ডের স্ট্রিপ, গালে আঁকা ইংল্যান্ডের পতাকা। দুধের দাঁত এখনও ভাঙেনি, সে আবার চলে এসেছে ইংল্যান্ডের সমর্থনে! শুধু মাত্র বিশ্বকাপের ম্যাচ বলে একবার স্বাদ পেতে চাইছে। স্মরণীয় মুহূর্তেকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে। হাসতে হাসতে বাবা জানালেন, ‘বিশ্বকাপের খেলা বলে কথা, আসতে তো হবেই। টিভি-তে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ দেখে কাটাতে হয়েছে। টিকিট ছিল না। এই ম্যাচের টিকিট কেটেছি বেশি দাম দিয়ে। আবার কবে সুযোগ আসবে জানা নেই।’ যুবভারতীর ৪০,২৬০ জন দর্শক এসেছিলেন স্যাঞ্চোর ঝলক দেখতে। কিন্তু স্যাঞ্চোর সঙ্গে দেখলেন ‘ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি’ দিয়েগো লেইনেজের ঝলকও। এক মিনিটের জন্যও দর্শকরা ম্যাচ থেকে চোখ সরাতে পারেননি। মেক্সিকোর দিয়েগোর মতো মুকুন্দপুরের শুভমের হয়তো মন খারাপ। স্যাঞ্চোরা জিতলেও আদতে মন জয় করলেন মেক্সিকান মেসি। দুদলের ফুটবলাররা মাতিয়ে গেলেন যুবভারতীকে। যে মেক্সিকান ওয়েভ যুবভারতীর বুকে দেখা গিয়েছিল, তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায় মেক্সিকোর হারে।

Featured Posts

Advertisement