কাশ্মীরে হত
বায়ুসেনার ২ কম্যান্ডো

সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে

কাশ্মীরে হত<br>বায়ুসেনার ২ কম্যান্ডো
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: শ্রীনগর, ১১ই অক্টোবর— নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের গুলির লড়াই, প্রাণঘাতী হামলা, জওয়ানদের মৃত্যু কাশ্মীরে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদী দমন অভিযানে সন্ত্রাসবাদী মৃত্যুর পাশাপাশি একাধিক জওয়ানও প্রাণ হারাচ্ছেন। জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরায় বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিমানবাহিনীর দুজন কম্যান্ডো। গত শতাব্দীর নয়ের দশকের গোড়া থেকে ধরলে এই প্রথম সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযানে বিমানবাহিনীর কোনও কম্যান্ডো প্রাণ হারালেন। এদিনের গুলি বিনিময়ে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার দুজন সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে, দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক।

সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ‘স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ’ এবং আধাসেনা যৌথভাবে বুধবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বান্দিপোরার হাজিনে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদীদের ডেরার দিকে এগোতে থাকলে লুকানো জায়গা থেকে প্রথমে গুলি চালায় সন্ত্রাসবাদীরাই। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার দুজন কম্যান্ডোকে প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার জন্য এই অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। দুপক্ষের গুলির লড়াই চলাকালীন মারাত্মকভাবে জখম হন ওই দুই কম্যান্ডো মিলিন্দ কিশোর এবং নীলেশ কুমার। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, জানিয়েছেন এক সেনা আধিকারিক। ১৯৯০ সালে শ্রীনগরে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে বিমানবাহিনীর চারজন আধিকারিকের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁরা কেউই কোনও অভিযানে অংশ নেননি। তারপর দীর্ঘ কয়েকবছর পর বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে নেমে প্রাণ হারালেন বায়ুসেনার দুই কম্যান্ডো। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী এদিনের অভিযান সফল বলেই দাবি করেছে।

গুলির লড়াই শেষে বুধবার ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুজন সন্ত্রাসবাদীর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত এক সন্ত্রাসবাদী আলি ওরফে আবু মাজ পাকিস্তানের নাগরিক। আরেকজন নাসরুল্লাহ মীর স্থানীয় বাসিন্দা। উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে নিশানা করে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল এই দুজন, দাবি করেছেন ডি জি পি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি এ কে রাইফেল, একটি পিস্তল, একটি হাত গ্রেনেড, প্রচুর গোলাবারুদ। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, হাজিনে লুকিয়ে রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসবাদী। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন হয়েছে ওই এলাকায়। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বাধা দিতে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। সেই ধরনের কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে, জানিয়েছে পুলিশ। হাজিন থেকে বেরনোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে গ্রামে-গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

গত মঙ্গলবার শ্রীনগর বিমানবন্দরের কাছে বি এস এফ-র এক সেনা ছাউনিতে আত্মঘাতী হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। এক জওয়ান প্রাণ হারান। আক্রমণকারী সংগঠন জৈশ-এ-মহম্মদের তিনজন সদস্যেরও মৃত্যু হয় ওই ঘটনায়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement