তারাতলার গুদামে
বিধ্বংসী আগুন

তারাতলার গুদামে<br>বিধ্বংসী আগুন
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: কলকাতা, ১১ই অক্টোবর— মজুত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পাউডার থেকে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো তারাতলার একটি গুদামে। আগুনের লেলিহান শিখার সঙ্গে কুণ্ডলি পাকানো কালো ধোঁয়া গোটা এলাকাকে গ্রাস করে ফেলে মুহূর্তে। বারবার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গুদাম লাগোয়া এলাকা। দমকলের ১০টি ইঞ্জিনের ৯ঘন্টা ধরে লাগাতার চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার সকালে আচমকাই বিকট আওয়াজের সঙ্গে আগুনের হলকা বেরিয়ে আসে তারাতলা এলাকার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের একটি গুদাম থেকে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা চত্বরে। প্রাণভয়ে আশপাশের গুদাম, কারখানা থেকে শ্রমিক, কর্মীরা বেরিয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকল ঘটনাস্থলে আসার আগেই বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। গুদামের সিংহভাগ গ্রাস করে নেয় আগুনের শিখা। দমকল এলেও আগুন নেভানোর কাজ করতে বেগ পেতে হয়। গুদাম লাগোয়া এলাকায় বর্ষার জমা জলে ভর্তি থাকায় গুদামের কাছে গাড়ি ঢোকাতে অসুবিধার মুখে পড়ে দমকল বাহিনী। বাধ্য হয়ে দূরে গাড়ি রেখে পাইপ টেনে এনে কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়। আগুন নেভানোর কাজ চলাকালীনই বিস্ফোরণ হলে এক দমকল কর্মী সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা গুদামে ঠাসা ছিল রাসায়নিক পাউডার। ওই গুদামে মূলত অ্যালুমিনিয়াম পাউডার ও অ্যামোনিয়া নাইট্রেট ছিল। দুই ধরনের পাউডারই দাহ্য পদার্থ। প্রথমটি রং তৈরির কাজে ও দ্বিতীয়টি বাজি তৈরির কাজে লাগে। আনুমানিক অ্যালুমিনিয়াম পাউডার ১৮টন ও ৫টন অ্যামোনিয়া নাইট্রেট ছিল বলে জানা গিয়েছে। দমকল কর্মীদের দাবি, এলাকায় জমে থাকা বর্ষার জল গুদামের ভিতর ঢুকে রাসায়নিক পাউডারের সঙ্গে বিক্রিয়া হওয়ার জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড।

আগুন নেভানো নিয়ে এদিন কর্মীদের চূড়ান্ত অসহায় অবস্থা ফুটে ওঠে। আধুনিক কোনও রকমের পরিকাঠামো না থাকায় জলের ওপরই ভরসা রাখতে হয়েছে। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে গিয়েছে। এই এলাকায় জনবসতি না থাকায় কোনও আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ওই গুদাম ও আশপাশের কারখানার কর্মীদেরও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত দমকল কর্মীদের কাছে ‘মাস্ক’ না থাকায় শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন অনেকেই।

এদিন অগ্নিকাণ্ডে অবস্থা দেখতে ঘটনাস্থলে হাজির হন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ও দমকলমন্ত্রী শোভন চ্যাটার্জি। গোটা ঘটনার দায় কার্যত বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপরই চাপিয়ে দেন তিনি। দমকল মন্ত্রী জানান, ওই জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের। পুলিশ ও দমকল তদন্ত করে দেখবে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষও পরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ওই জমিতে বেআইনিভাবে গুদাম করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় ওই গুদাম। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার দায় দমকল দপ্তর এড়িয়ে যেতে পারে? বন্দরের জমিতে বেআইনিভাবে গুদাম হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কেন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি? এদিন দমকলের আধিকারিকরাও পরিকাঠামো নিয়ে পরোক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement