মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রাম
সফরেই খরচ দু’কোটি

মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রাম<br>সফরেই খরচ দু’কোটি
+

গণশক্তির প্রতিবেদন: ঝাড়গ্রাম, ১১ই অক্টোবর— দু’কোটির বেশি টাকা দামের সফরের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চক্রান্তের কথা বললেন। বুধবার ঝাড়গ্রামের সভায় তিনি বলেছেন, ‘‘কিছু লোক ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই করতে পারে না। একটা দল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করছে।’’

এদিনই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের পার্শ্বচর মুকুল রায়। নয়াদিল্লিতে মুকুল রায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের আগেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শেষ করে দেন। তবে দলের রাজ্যসভার সাংসদ মুকুল রায় যে দল ছাড়ার ঘোষণা বুধবার করছেন, সে কথা মমতা ব্যানার্জির জানাই ছিল। এদিন সভায় তিনি মুকুলের নাম একবারও করেননি। তবে ‘কিছু লোক ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই করতে পারে না’ — তাঁর এই উক্তি মুকুলকে উদ্দেশ্য করে বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন। প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রাম-মেদিনীপুর জেলার পুলিশ এবং প্রশাসনে, এমনকি শাসকদলের নেতাদের মধ্যেও অনেকে মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ একথা তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকেই জানেন।

এদিনের সভায় বি জে পি-কে আক্রমণ করেছেন মমতা ব্যানার্জি। মুকুল রায় মঙ্গলবার এবং বুধবারও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বি জে পি-র দীর্ঘ যোগাযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ঝাড়গ্রামে তাই বি জে পি বিরোধিতায় জোরালো কথা মমতা ব্যানার্জি বলবেন তা অনেকেরই ধারণার মধ্যে ছিল। এদিন তিনি বলেন, ‘‘দিল্লির উসকানিতে পাহাড়ে গোলমাল হয়েছে। পাহাড় আগে শান্ত ছিল।’’ তাঁর দাবি, ‘‘তাদের উসকানিতে পাহাড়, জঙ্গলমহল অশান্ত হবে না। বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়াচ্ছে গেরুয়া দল।’’ তারপরই তিনি বলেন, ‘‘কিছু লোক ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই করতে পারে না। আর একটা দল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করছে।’’

মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে, ঝাড়গ্রামে কোনও কাজই হচ্ছে না। মন্ত্রীরা বাড়ি থেকে বেরোয় না। কোনও কাজ করেন না তাঁরা। তাই সবার সামনে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতোকে তীব্র ভর্ৎসনাও করেছিলেন। এদিন সেই মুখ্যমন্ত্রীই ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের মাঠের সভায় বলেন, ‘‘সবেমাত্র নতুন জেলা হয়েছে ঝাড়গ্রাম। তাও অনেক কাজ হয়েছে। নতুন জেলা অফিস হয়েছে। আই টি আই এবং তিনটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে।’’ তবে ঝাড়গ্রামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী — এই প্রচার মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলমহল সফর ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ছড়িয়েছিল। মমতা ব্যানার্জি সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, সেটা তিনি পরে করে দেবেন।

মমতা ব্যানার্জির এবারের সফর নবগঠিত জেলা ঝাড়গ্রামের কাঁধে বিরাট এক বোঝা চাপিয়েছে। তবে এর একাংশ মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের কাঁধে চাপবে বলে সামান্য আশ্বস্ত হয়েছে ঝাড়গ্রাম। সোমবার রাত থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী জেলায় ছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ জানিয়েছেন যে, বুধবারের জনসভা আয়োজনের জন্য পূর্ত দপ্তরের খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। মঙ্গলবার যে প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে, তার আয়োজন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা, অস্থায়ী তিনটি হেলিপ্যাড বানাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭লক্ষ টাকা। এছাড়া তোরণ বানানো, গাড়ি রাখার জায়গা করতে, পুলিশ-কর্মচারী থেকে মন্ত্রীদের খাওয়া দাওয়ার খরচও হয়েছে যথেষ্ট। এই সফরে সাত হাজার পুলিশ কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রায় বারোশোটি বাস ভাড়া করা হয়েছিল দুদিনের জন্য। তার খরচ দেবে পরিবহণ দপ্তর।

এদিন প্রায় ২৬৫টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসীদের একাংশ সরকারের নানা কাজে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের খুশি রাখতে মমতা ব্যানার্জি বলেন যে, বি জে পি শাসিত রাজ্যে দলিতদের উপর হামলা হচ্ছে। আমাদের রাজ্যে তারা শান্তিতে আছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement