দেরাদুনে পার্টি দপ্তরে
বি জে পি-র হামলা 

রক্তাক্ত হয়েও রুখলেন পার্টিকর্মীরা

দেরাদুনে পার্টি দপ্তরে<br>বি জে পি-র হামলা 
+

গণশক্তির প্রতিবেদন:  দেরাদুন, ১১ই অক্টোবর— এবার উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে সি পি আই (এম) দপ্তরে হামলা চালালো বি জে পি দুষ্কৃতী বাহিনী। হামলায় নেতৃত্ব দেয় বি জে পি-র একাধিক বিধায়ক, দেরাদুনের মেয়র সহ অন্যান্য বি জে পি নেতারা। বি জে পি-র হামলায় চারজন জখম হয়েছেন। বি জে পি-র হামলার মুখে পার্টির নেতা-কর্মীরা সংযতই ছিলেন। তবে দপ্তরের সামনে পথ আগলেই তাঁরা জোরালো বিক্ষোভ দেখান। বি জে পি দুষ্কৃতীরা প্রবেশ করতে চাইলে ধাক্কা দিয়ে তাদের বের করে দেন পার্টিকর্মীরা। সি পি আই (এম) দৃঢ়তার সঙ্গে রাজ্যের বি জে পি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অমিত শাহ আর মোদীর নেতৃত্বে এই ঘৃণ্য এবং হিংস্র অভিযান বন্ধ না হলে সি পি আই (এম) রাজ্যজুড়ে ইটের জবাব পাটকেলেই দেবে। 
কেরালায় হিংসা ছড়াচ্ছে আর এস এস এবং বি জে পি। লাগাতার সেখানে গেরুয়া হিংসার শিকার হচ্ছেন বামপন্থী নেতা-কর্মীরা। পালটা মানুষের প্রতিরোধে কয়েকটি জায়গায় মৃত্যু হয়েছে আর এস এস-বি জে পি-র দুষ্কৃতীদের। এই ঘটনাকেই তল্পিবাহক সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যািল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বি জে পি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে কেরালায় বামপন্থীরা খুন করছে তাদের কর্মীদের। বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ নিজেই কেরালা সফরে হিংসায় মদত দিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর এ কে গোপালন ভবনের সামনে বি জে পি নেতারা লাগাতার হিংসাশ্রয়ী বক্তব্য রাখেন। মোদী সরকারের মন্ত্রীরাও বিভিন্ন দিনে হাজির হয়েছেন সেই সভায়। রাজ্যে রাজ্যে পার্টি দপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে বা চেষ্টা হয়েছে। মোদী এবং অমিত শাহ সরাসরি এই হিংসায় মদত দেওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যে অতি উৎসাহে সঙ্ঘকর্মীরা নেমে পড়েছেন সি পি আই (এম) দপ্তরে হামলা চালানোর জন্য। সম্ভবত বি জে পি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই সি পি আই (এম) দপ্তরে হামলা চালানোকে কর্মসূচি হিসেবেই গ্রহণ করেছে বি জে পি।
সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের সামনে হিংসা ছড়ানোর প্ররোচনা দেওয়া ছাড়াও ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু এবং বিশাখাপত্তনমে পার্টি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে বি জে পি। সব জায়গাতেই যদিও পার্টি কর্মীদের থেকে যোগ্য জবাবও পেয়েছে বি জে পি-র দুষ্কৃতী বাহিনী। এদিনও পার্টিকর্মীরা বি জে পি-র হামলার মুখেও দপ্তরের সামনে অনড় ছিলেন। বি জে পি নেতাদের প্ররোচনায় দুষ্কৃতী বাহিনী ইট-পাথর ছুঁড়লে মাথা ফেটে যায় পার্টিনেতা শের সিং রানার। জখম হন শিবপ্রসাদ দেওলি, সুরেন্দ্র সিং সজবান এবং অভিষেক ভাণ্ডারি। পার্টির রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র সিং নেগী, জেলা সম্পাদক রাজেন্দ্র পুরোহিত, বীরেন্দ্র ভাণ্ডারি, কামরুদ্দিন প্রমুখ নেতৃত্ব সামনে দাঁড়িয়ে বি জে পি-র হামলা মোকাবিলা করেন। 
বুধবার দুপুরে প্যারেড ময়দানে বি জে পি-র মহানগর অফিস থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দেরাদুনের মেয়র বিনোদ চামোলি, দুই বিধায়ক হরবংশ কাপুর, মুন্না সিং, বি জে পি-র রাজ্যনেতা নরেশ বনশল, সুনীল উনিয়াল, দেরাদুন শহরের বড় প্রমোটি এবং দেরাদুন শহরের বি জে পি সভাপতি উমেশ আগরওয়াল। মিছিল নিয়ে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে সি পি আই (এম) অফিসের সামনে চলে আসেন বি জে পি নেতারা। সেখানে তারা বিক্ষোভ দেখান এবং প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখেন। সি পি আই (এম) নেতা কর্মীরাও পার্টি দপ্তর আগলে আর এস এস- বি জে পি-র নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ মজুত থাকলেও তাঁরা বি জে পি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে বাধা দেয়নি। এরমধ্যেই বি জে পি কর্মীরা জোর করে সি পি আই (এম) অফিসে ঢুকতে গেলে বাধা দেন পার্টিকর্মীরা। বাধা পেয়ে বি জে পি-র দুষ্কৃতী বাহিনী ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পাথর গায়ে মাথায় এসে পড়ে। মাথা ফেটে যায় প্রবীণ পার্টিনেতা শের সিং রানার। জখম হন পার্টির অন্য নেতা কর্মীরাও। তারপরেও জায়গা না ছেড়ে অনড় থাকেন পার্টিকর্মীরা। পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছে দেখে দর্শক পুলিশ সক্রিয় হয়। বি জে পি দুষ্কৃতীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। এরপর কিছুক্ষণ চিৎকার করার পর চলে যায় বি জে পি কর্মীরা। পার্টি দপ্তরে হামলা এবং পার্টিকর্মীদের ওপরে আক্রমণের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পার্টির জেলা সম্পাদক রাজেন্দ্র পুরোহিত। 
পার্টিনেতা কামরুদ্দিন এবং শিবপ্রসাদ দেওলি রাজ্যের বি জে পি সরকারের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বলেন, সি পি আই (এম) যখম জনতার দাবি নিয়ে আন্দোলন করে তখন সেই মিছিল আটকে দেওয়া হয়। অথচ সুপরিকল্পিতভাবে বি জে পি-র দুষ্কৃতী বাহিনীকে সি পি আই (এম) অফিস পর্যন্ত আসতে দেওয়া হয়েছে। এতেই স্পষ্ট রাজ্যের পুলিশ বি জে পি-র এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। পার্টির রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র সিং নেগি বলেছেন, ২০১৪সালের লোকসভা ভোটের আগে যে সব গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বি জে পি, সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা প্রকট হওয়ার পর এখন জনতার নজর ঘোরাতে বামপন্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই হামলায় প্রমাণ হচ্ছে এরা কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মানে না। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন এই হামলায় পিছু হটার কোনো প্রশ্নই নেই। সি পি আই (এম) জনতার মাঝে গিয়ে বি জে পি-র ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন করবে। মূল্যবৃদ্ধি থেকে বেরোজগারি, নারী নির্যাতন থেকে সংখ্যালঘু-দলিতদের উপর হামলা, দুর্নীতি-বি জে পি সরকারের প্রতিটি ব্যর্থতা তুলে ধরা হবে জনগণের সামনে। পার্টি দপ্তরে হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজ্যের সর্বত্র প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে সি পি আই (এম)। পার্টি দপ্তরে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করবে সি পি আই (এম) প্রতিনিধি দল। তাদের সঙ্গে সি পি আই, সি পি আই (এম এল), সমাজবাদী পার্টি, বি এস পি এবং উত্তরাখণ্ড ক্রান্তি দলও যাবে বলে জানিয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement