স্যাঞ্চো‘দাদা’কে
পেয়ে আল্পুত পুনমরা

স্যাঞ্চো‘দাদা’কে<br>পেয়ে আল্পুত পুনমরা
+

কলকাতা, ১২ই অক্টোবর — রাজারহাট নিউটাউন লোকালয়ের এক প্রাইমারি স্কুল। নিউটাউন স্কুলটির বয়স মাত্র দুবছর। প্রধান বিল্ডিংয়ের পাশেই ফুটবল খেলার জন্য করা রয়েছে অ্যাস্ট্রোটার্ফ। সেখানে সাজানো রয়েছে ফুটবল, ড্রিল সরঞ্জাম, রয়েছে ফুটবল খেলার জায়গা। সব আয়োজনই কলকাতার বিশেষ অতিথি ইংল্যান্ড যুব দলের জন্য। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১:৩০। বিশ্বকাপের শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিউটাউনের প্রাইমারি স্কুলে বৃহস্পতিবার ঝটিতি সফরে এল ইংল্যান্ডের যুব ফুটবল দল। ছিলেন জর্জ ম্যাকহেরান, স্যাঞ্চো, গোমস, কোচ কুপার, গোলরক্ষক কার্টিস অ্যান্ডারসনরা। সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল মাঠের চেহারা। ক্লাস করানোর মাঝে মাঠে দৌড়ে এলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অন্যান্য শিক্ষকরা। ঘিরে ধরল ক্লাস ৯-এর মেয়ে এবং ছেলেরা। প্রাইমারি স্কুলের খেলার ছোট মাঠটি জেডান স্যাঞ্চো, অ্যাঞ্জেল গোমস, জর্জ ম্যাকহেরান, জোল লেটিবেউদিয়েরে উপস্থিতিতে মনে হচ্ছিল যেন এক টুকরো এমিরেটস, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, কিংবা এতিহাদ। কলকাতায় দিন কয়েকের মধ্যেই তারকা হয়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের ওয়ান্ডার বয়।
বাচ্চাদের কাছে পেয়ে কোচের তকমা মুছে ফেলে বাবার মতো আচরণ করলেন ব্রিটিশ কোচ স্টিভেন কুপার। নিজেই বল ছুঁড়লেন, বল নাচালেন, সেলফি তুলে আনন্দ দিলেন খুদেদের। স্কুলের ছোট্ট বোনেদের মধ্যে স্যাঞ্চো, গোমসরা আসা মাত্রই শুরু হলো সেলফির হিড়িক। কে আগে তুলবে সেই নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। তারপর বল নাচিয়ে মাঠে উপস্থিত সকলের করতালি বন্দনায় ভাসলেন তাঁরা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্বার এই স্কুলের ফুটবলারদের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছে। দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে ফুটবলের প্রসার এবং প্রতিভা তুলে আনার জন্য চলছে ‘কলকাতা গোলস’ নামক প্রকল্প। তাঁদেরই প্রায় ১০০ জন ছেলে সময় ভাগ করে নিলেন গোমস, ম্যাকহেরান, স্যাঞ্চোদের সঙ্গে। যুব তারকার সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত স্মরণীয় হবে রইল অমিত, রহিম, আফনান, সুলতানরা।
নিউটাউন স্কুলের ক্লাস ৪-এর ছাত্রী পুনম মেহরা ফুটবল পাগল। ফুটবলের জুতোয় স্যাঞ্চোর নাম লেখা, হাতে স্যাঞ্চে-গোমসের এক ফ্রেমে ছবি। খুদেদের মনের বারান্দায় সবসময় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারকাযুগলের মনভোলানো পায়ের জাদু। নিউটাউন স্কুলটির ফুটবল আকাদেমি শুরু হয়েছে মাত্র তিন মাস। সেই আকাদেমিতে এসেছে পুনম। আবেগতাড়িত পুনমের কথায়, ‘বাড়িতে মা বাবার সঙ্গে টিভিতে প্রিমিয়ার লিগের তারকাদের দেখেছি। কিন্তু এরকম সামনে তো কখনওই পাইনি। স্যাঞ্চোর জন্যই ক্লাস না করে চলে এসেছি। আমাদের অনেকরকম পায়ের কাজ দেখিয়েছে। কিন্তু স্যাঞ্চো এখন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলে। সেজন্য পাশাপাশি জার্মান ফুটবলও দেখতে শুরু করেছি।’ সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে গেলেও ভাই বোনেদের ভালোবাসাকে পাস কাটাতে পারলেন না তাঁরা। বরং ছোট ভাইবোনদের স্মৃতি রঙিন হয়ে রইল স্যাঞ্চোদের ছোঁয়ায়।

Featured Posts

Advertisement