গুজরাটের দিন ঋুলিয়ে রেখে
প্রশ্নের মুখে কমিশন

গুজরাটের দিন ঋুলিয়ে রেখে<br>প্রশ্নের মুখে কমিশন
+

নয়াদিল্লি, ১২ই অক্টোবর — হিমাচল প্রদেশে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করলেও গুজরাটের দিন ঘোষণা ঝুলিয়ে রাখলো নির্বাচন কমিশন। হিমাচল প্রদেশে ৯ই নভেম্বর একদফায় ভোটের দিন ঘোষণা করেছে কমিশন। রাজ্যে মোট ৬৮ আসনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৮ই ডিসেম্বর। 
হিমাচল প্রদেশ এবং গুজরাটে বিধানসভার মেয়াদে দিনের ফারাক বিশেষ নেই। হিমাচলে বিধানসভার মেয়াদ ফুরাচ্ছে সামনের বছর ৭ই জানুয়ারি। গুজরাটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২শে জানুয়ারি। কম দিনের ফারাকে বিধানসভার মেয়াদ ফুরাচ্ছে, এমন রাজ্যগুলির ভোটের দিন সাধারণ ভাবে একইসঙ্গে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফলে, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একঝাঁক প্রশ্নের মুখে পড়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ কে জ্যোতি। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন যে গুজরাটে নির্বাচন হবে হিমাচল প্রদেশে ফল ঘোষণার আগে। অর্থাৎ, ১৮ই ডিসেম্বরের আগে।  
১৬ই অক্টোবর রাজ্যে ফের যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। বিভিন্ন অংশের অভিযোগ, রাজ্য সফরে প্রধানমন্ত্রীকে নতুন প্রকল্প ঘোষণার সুযোগ করে দিল কমিশন। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের আগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মুখে পড়ে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলে সেই রাজ্য নির্বাচন বিধির আওতায় পড়ে যায়। সরকার কোনও নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে না। কেন্দ্রের সরকারও সেই রাজ্যের জন্য বিশেষ কোনও সুবিধার ঘোষণা করতে পারে না। হিমাচলে ভোটের দিন ঘোষণা করে দেওয়ায় রাজ্যের কংগ্রেস সরকার এখন নির্বাচন বিধির আওতায়। কিন্তু, গুজরাটের বি জে পি সরকারের সেই বাধ্যবাধকতা এখন থাকছে না। এই দুই রাজ্যেই কংগ্রেস এবং বি জে পি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবশ্য একাধিক যুক্তি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেছেন, যেহেতু নির্বাচন বিধি জারি হওয়ার কারণে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ আটকে যায়, অকারণে প্রয়োজনের আগে ভোটের দিন ঘোষণা করা ঠিক নয়। তিনি আরও জানিয়েছেন যে গুজরাট সরকার দিন ঘোষণা না করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল কমিশনে। জুলাইয়ে রাজ্যে বন্যায় কাজে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছিল রাজ্যের আবেদনে। হিমাচলে ঘোষণার কারণ হিসেবে জ্যোতি বলেছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়ে যায়। সেকারণে, হিমাচল প্রদেশে দেরি করার উপায় নেই। 
কিন্তু, জ্যোতির যুক্তিতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনবিধি জারি হলেই বন্যায় উদ্ধারের কাজ ব্যাহত হবে কেন, তার ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্লাবিত এলাকায় পুনর্গঠনের কাজের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে হয় না। জ্যোতি এদিন প্রশ্ন সামলাতে বলেছেন, ১৯৯৩, ১৯৯৪ এবং ২০০২সালেও এই দুই রাজ্যে ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল আলাদা করে। 
হিমাচল প্রদেশে সরকার চালাচ্ছে কংগ্রেস। বিধানসভার ৬৮আসনের মধ্যে কংগ্রেসের হাতে ৩৫ এবং বি জে পি-র ৬৮আসন রয়েছে। কংগ্রেস সহসভাপতি গত সপ্তাহেই জানিয়েছেন যে ফের দলের প্রবীণ নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংকে সামনে রেখে ভোট লড়বে দল। বীরভদ্র সিংয়ের নামে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। আবার, কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্বও রয়েছে রাজ্যে। পরপর রাজ্যে হারের মুখে হিমাচল প্রদেশে সরকার রক্ষা কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। 
পাশাপাশি, গুজরাটের ভোট সারা দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাটেরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কর্পোরেটমুখী ‘গুজরাট মডেল’ সামনে রেখেই ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচন লড়েছিল বি জে পি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দল এবং প্রশাসনে পরপর গুজরাটের পদাধিকারিদের সংখ্যা বেড়েছে জাতীয় স্তরে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ কে জ্যোতি গুজরাটের মুখ্যসচিব ছিলেন। কিন্তু, গুজরাটেই পরপর বিক্ষোভে জেরবার দল। এর আগে একদফায় গুজরাটে গিয়ে বুলেট ট্রেনের ঘোষণা করেছেন মোদী। গত সপ্তাহেই মোদী সফরে গিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর সংশোধনে নিজেরই পিঠ চাপড়েছেন। পানীয় জল, মৎস্যজীবীদের জন্য প্রকল্পেরও ঘোষণা করেছেন। 
গুজরাটে পঞ্চায়েত ভোটে ফল খারাপ হয়েছে বি জে পি-র। দলিতদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। কৃষি সম্প্রদায় পতিদারদের বিক্ষোভ আপাতত চাপা থাকলেও আন্দোলন উঠে যায়নি। মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে গিয়ে আরে কিছু সুযোগ সুবিধার ঘোষণা করতে পারেন। যে সুযোগ এদিন রেখে দিয়েছে কমিশনই। জাতীয় কংগ্রেসের তরফে প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রণদীপ সিং সূরযওয়ালার অভিযোগ, কেন্দ্রের সরকারই প্রভাব খাটিয়ে গুজরাটে ভোটের দিন ঘোষণা পিছতে বাধ্য করেছে। 
কমিশন জানিয়েছে, হিমাচলে সব বুথে ভোটযন্ত্রের পাশাপাশি কাগজের স্লিপ বা ‘পেপার ট্রেল’ ব্যবস্থা থাকবে। যাতে ভোটদাতারা পরীক্ষা করে নিতে পারেন তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট পড়েছে কিনা। এর আগে গোয়ার ভোটে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২৩শে অক্টোবর থেকে মনোনয়ন জমা শুরু হবে। 

Featured Posts

Advertisement