সিরিজ জয়ের
নজির ভারতের

সিরিজ জয়ের<br>নজির ভারতের
+

নয়াদিল্লি, ৬ই ডিসেম্বর — কোটলা টেস্ট অমীমাংসিত। নৈতিক জয় শ্রীলঙ্কার। ঘরের মাঠে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৯-০ ব্যবধানে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই ভারতের বিরুদ্ধে তিন টেস্টে দুটি ড্র, একটি হার। নাগপুর টেস্টে জয়ের সুবাদে ভারত ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল। সঙ্গে টেস্ট জয়ের নজিরও গড়লো। এই নিয়ে টানা নটি টেস্ট সিরিজ জয়। এর আগে ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৮ মরশুমে সমসংখ্যক টেস্ট সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের সিরিজ জয়ের শুরুটা হয়েছিলো শ্রীলঙ্কায়। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই টানা নটি টেস্ট সিরিজ জয়ের নজির গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। 
সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ব্যর্থ। দিল্লিতে ব্যাটসম্যনরাই দলকে লড়াইয়ে রেখেছে শেষদিন পর্যন্ত। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৫৩৬ এর জবাবে ৩৭৩ করেছিল শ্রীলঙ্কা। দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দীনেশ চান্ডিমল বাড়তি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দীনেশ ১৬৪ এবং ম্যাথিউস ১১১ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে ভরসা দেন দুই তরুণ ক্রিকেটার। জয়ের জন্য ৪১০ রান প্রয়োজন ছিল শ্রীলঙ্কার। পরিস্থিতির নিরিখে শ্রীলঙ্কার আসল প্রয়োজন ছিল পুরো একটা দিন ব্যাটিং করা। সেই অসাধারণ কাজটি করে দেখাল শ্রীলঙ্কার তরুণ ব্রিগেড। চতুর্থ দিন শেষ বেলায় তিন উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাই শেষ দিন মাত্র দুই উইকেট হারাল! সারাদিনে ৮৭ ওভার ব্যাটিং করে তুললো ২৬৮ রান! বিরাট কোহলির সঙ্গে ড্র সূচক হাত মেলানোর আগে একটা সময় মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা জিততেও পারে। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার স্কোর ২৯৯/৫। ভারতে সফরকারী কোনও দলের চতুর্থ ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ ২৭৪/৫ করেছিল।
অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে কোনও রান করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে ভরসা দিলেন রোশেন সিলভা। দিনের শেষে নিরোশান ডিকেওয়েলার (৪৪) সঙ্গে ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রোশেন। হার বাঁচানর ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার নায়ক অবশ্যই ধনঞ্জয় ডি’সিলভা। অনবদ্য ফিল্ডিংয়ে কোহলির বাহবা কুড়িয়েছিলেন, শেষদিনও কোহলির বাহিনী সম্মান জানালো এই তরুণ ক্রিকেটারকে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১১৯ রানে অপরাজিত থাকেন ধনঞ্জয়। পায়ে টান ধরায় মাঝপথেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
পুরো ম্যাচে ব্যাটিং ভালো হলেও ভারতের ফিল্ডিংয়ে প্রচুর গাফিলতি দেখা গিয়েছে। পঞ্চম দিনেও তা অব্যাহত। দিনের শুরুর দিকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ফেরান জাদেজা। তাঁর বলেই বোল্ড হন দীনেশ চান্ডিমল। নো বলের সৌজন্যে সে যাত্রায় রক্ষা পান শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। অশ্বিনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩৬ রান করেন চান্ডিমল। জাদেজার বলে নিরোশান ডিকেওয়েলার স্ট্যাম্পিং মিস করেন ঋদ্ধিমান সাহা। কঠিন সুযোগ। সময়মতো এই দুটি উইকেট পেলে হয়তো ম্যাচের গতিপথ বদলাতেও পারতো। সঙ্গে ঈশান্ত শর্মার দিশাহীন বোলিংও কোহলির মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। নাগপুরে দারুণ বল করেছিলেন। নিজের শহরে দ্বিতীয় ইনিংসে হাতে গোনা কিছু বল ফুল লেংথ দিলেন। বেশিরভাগই দেখা গেল শর্টপিচের কাছাকাছি এবং অফ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে। কখনো সখনো বাউন্সার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক কোহলি জানালেন, ‘চতুর্থ দিনের শেষে তিন উইকেট নিয়েও অলআউট করতে না পারায় খারাপ লাগছে। ওদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। ভালো ব্যাটিং করেছে। শেষদিকে পিচ খুবই মন্থর হয়েছে। স্লিপ ক্যাচিং, অন্যান্য বেশকিছু বিষয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ সিরিজ সেরা কোহলি নিজের ব্যাটিং সম্পর্কে বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটেও যে একদিনের মেজাজে রান তোলা যায় সেটা দেখাতে চেয়েছিলাম, পেরেছি। টেস্ট কিংবা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আলাদা ফরম্যাট মানেই ব্যাটিং ধরন আলাদা হবে আমার মনে হয় না।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ভুল শুধরে নিতে চান কোহলি। পিচ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পূজারাও। স্পিনারদের জন্য কোনও সহযোগিতা ছিলনা, জানান পূজারা। 

Featured Posts

Advertisement