অযোধ্যায় উত্তেজনা
ছড়ালো বজরঙ,বামপন্থীদের
মিছিল রাজধানীতেও 

অযোধ্যায় উত্তেজনা<br> ছড়ালো বজরঙ,বামপন্থীদের<br>মিছিল রাজধানীতেও 
+

নয়াদিল্লি ও অযোধ্যা, ৬ই ডিসেম্বর— বাবরি ধ্বংসের অপরাধীদের শাস্তি চাই। গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ তৈরি করে সেই দাবি আদায় পর্যন্ত লড়াই করবে বামপন্থীরা। বুধবার দৃঢ় প্রত্যয়ে একথা জানিয়ে দিলেন সি পি আই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫বছর পূর্তি দিবসে দেশজুড়ে বামপন্থীদের ‘কালা দিবস’ পালনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইয়েচুরি একথা বলেন। তার আগে মান্ডি হাউস থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত বিশাল মিছিল করে বামপন্থীরা। 
পার্লামেন্ট স্ট্রিটে মিছিল শেষে সমাবেশে ইয়েচুরি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সি পি আইয়ের ডি রাজা, ফরওয়ার্ড ব্লকের জি দেবরাজন, সি পি আই (এম-এল)-র কবিতা কৃষ্ণাণ, এস ইউ সি আই (সি)-র আর কে শর্মা, আর এস পি-র অসিত গাঙ্গুলি এবং সি জি পি আইয়ের সন্তোষ কুমার। সমস্ত বক্তারাই আর এস এস- বি জে পি যেভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং দেশের ঐক্য ও বৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তার কড়া সমালোচনা করেন। মোদীর নেতৃত্বাধীন এই কেন্দ্রীয় সরকার শুধু এই সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলির সমাহার নয়। এই সরকারের সময়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাচেতনা আক্রান্ত। তারই পরিণতিতে গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর, এম এম কালবুর্গি এবং গৌরী লঙ্কেশ খুন হয়েছেন। মিছিল-সমাবেশে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত, দিল্লি রাজ্য সম্পাদক কে কে তিওয়ারি, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা দেবব্রত বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। 
সমাবেশে সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, যারা মসজিদ ভেঙে ফেলেছিল তাদের সকলের শাস্তি চাই। এই ঘটনার অপরাধীদের বিরুদ্ধে গত ২৫বছরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উলটে আমরা দেখছি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কাজ চলছে। ঘর ওয়াপসি, রোমিও স্কোয়াড ইত্যাদি নাম দিয়ে সব ধরনের দুষ্কৃতী বাহিনী তৈরি হয়েছে। এই দুষ্কৃতীদের রক্ষা করছে কেন্দ্রের সরকার। উল্লেখ্য, ৬ই ডিসেম্বর বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রয়াণ দিবস। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ইয়েচুরি বলেন, বাবাসাহেব আমাদের সংবিধান দিয়েছিলেন, যা ভারতকে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। এখন আর এস এস- বি জে পি চাইছে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। যে মুসলিমরা এখানেই জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, অন্যদের মতোই- তাদের বলা হচ্ছে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে। এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে আমাদের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে দলিতদের ওপরেও আক্রমণ তীব্র হয়েছে। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরেও সাম্প্রদায়িক শক্তি হামলা চালাচ্ছে। যে কোনোভাবে এই আক্রমণের মোকাবিলা আমরা করবো। ইয়েচুরি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে আমরা বামপন্থীরা শপথ নিচ্ছি যে, কোনোভাবেই আমরা দেশকে ভাগ হতে দেব না। মোদী সরকারকেও এটা আমাদের হুঁশিয়ারি। 
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন বামপন্থী দলগুলির আহ্বানে মিছিল, প্রতিবাদ সভা হয়েছে। বাবরি ধ্বংসের দিনে সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উসকানি ছিল। তারপরেও এদিন শান্তিপূর্ণভাবে কেটে গেছে দিনটি। অযোধ্যা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র হাতে মিছিল করে ‘শৌর্য দিবস’ পালন করেছে বজরঙ দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন। পাশপাশি বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিন শোক দিবস পালন করা হয়। অযোধ্যা-ফৈজাবাদ প্রতি বছরের মত এবারও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বাহিনী টহল দিতে থাকে। বেশি সংখ্যায় দোকান-বাজার এদিন বন্ধ ছিল। প্রতিবছরের মতই। অযোধ্যায় ১৪৪ধারাও জারি করা ছিল। এরমধ্যেই বজরঙ দল সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে মিছিল বের করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে অযোধ্যা কোতোয়ালি থানায় একটি এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে। মিছিল থেকে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেওয়া হয়। বজরঙ দলের মিছিল ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। তেহরি বাজার এলাকায় মুসলিম সংগঠনগুলি শোক দিবস পালনের অনুষ্ঠানের সময়ে সেখান দিয়ে যাওয়া এই মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। বজরঙ দলের কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা। বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির নেতা হাজি মেহবুব বলেন, যারা অযোধ্যার সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। করসেবক পূরমে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভা থেকে ফেরার সময়ে একদল যুবক এই কাজ করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

Featured Posts

Advertisement