গড়বেতায় দলবদ্ধ
ধর্ষণের পরে
খুনের চেষ্টা

গড়বেতায় দলবদ্ধ<br>ধর্ষণের পরে<br> খুনের চেষ্টা
+

মেদিনীপুর, ৬ই ডিসেম্বর— গড়বেতায় শিলাবতী নদীর পাড়ে এক যুবতীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে তাঁকে খুনের চেষ্টা হলো। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ পাঠরতা এক ছাত্রীর ওপর এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে শিলাবতীর পাড়ে গনগনি পিকনিক স্পটে। ওই ছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে খাদে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। মেয়েটির আর্ত চিৎকারে স্থানীয় কৃষকরা ছুটে এসে তিনজন দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে। ওই দিন রাতেই গড়বেতা থানায় ধর্ষিতা ছাত্রীর দাদা অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মধ্য রাত পর্যন্ত ঘটনাটি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। শেষপর্যন্ত গ্রামের মানুষের বিক্ষোভের ফলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে।
গড়বেতা থানার রসকুণ্ডু অঞ্চলের আউশবাঁধি গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের মেয়ে। বয়স ২৩। গড়বেতার একটি টিউশন সেন্টারে ছাত্র পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি হার্বাল কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে পড়াশোনা চালাত ওই ছাত্রী। সম্প্রতি বেশ কয়েক মাস সেই সংস্থা পণ্যসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ছাত্রীটির ওই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর বেশ কিছু পাওনাও বকেয়া রেখে দেয় ওই কোম্পানি। এই কাজের সূত্রেই কোম্পানির বেশ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। পরিচয় হয়েছিল সৌমিত্র ঘোষ এবং সুশোভন দাসের সঙ্গে। সৌমিত্রের বাড়ি কলকাতার মান্না রোডে। সুশোভনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর থানার কসবা গ্রামে। এই দুই ব্যক্তিই মঙ্গলবার ফোন করে ওই ছাত্রীকে জানায়, হার্বাল কোম্পানি মালিক গড়বেতাতে মিটিং ডেকেছে। কোম্পানি সকলের বকেয়া পাওনা টাকা মিটিয়ে দেবে। এই মিটিংয়ে যাবার জন্য ছাত্রীটি দুপুর একটা নাগাদ চন্দ্রকোনা মোড়ে আসেন। চন্দ্রকোনা মোড় থেকে ওই দুই ব্যক্তি একটি টাটাসুমো গাড়িতে ছাত্রীটিকে তুলে নিয়ে গড়বেতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাওয়ার পথেই গনগনি পিকনিক স্পটে খাবার সঙ্গে মাদক মিশিয়ে ওই ছাত্রীকে দেওয়া হয়। ওই খাবার খেয়েই ছাত্রী বেশ কিছু সময়ের জন্য শরীরের শক্তি হারিয়ে বেহুঁশ হয়ে যান। পিকনিক স্পটে জঙ্গল ঘেরা একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে ওই দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। তারপর গাড়ির চালকও ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। এই সময়ের মধ্যে মেয়েটির হুঁশ ফিরে আসায় তাঁকে একটি খাদে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরই ধর্ষিতা ওই ছাত্রী চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয় মানুষ ছুটে আসায় গাড়ি নিয়ে ওই তিনজন পালাতে পারেনি। তিনজনকেই ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। তাঁরাই ওই ছাত্রীর বাড়িতে খবর পাঠান। ওই ছাত্রীর একটি পা ভেঙে গেছে। তাঁকে প্রথমে গড়বেতা হাসপাতালে এবং সেখান থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। 
ছাত্রীর দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ, অপহরণ এবং খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা দায়ের করেছে। বুধবার ওই তিনজনকেই গড়বেতা আদালতে তোলা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে তিনজনই তাদের দোষ স্বীকার করেছে। আদালত এদিন তিনজনকেই পাঁচদিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। 

Featured Posts

Advertisement