মজার অনুশীলন কোহলিদের

সেঞ্চুরিয়নে ঘাস কম, বাউন্স বেশি

মজার অনুশীলন কোহলিদের
+

সেঞ্চুরিয়ন, ১১ই জানুয়ারি — নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামের মতো সেঞ্চুরিয়নের পিচ ততটা সবুজ নয়। গতি ও বাউন্সের দিক দিয়ে হয়তো একই। এরকম পিচে ভারতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের কি হাল হয়, ধরা পড়েছে কেপ টাউনে। দ্বিতীয় টেস্টেও হয়তো তারই পুনরাবৃত্তি। ঘাস না থাকলে মুভমেন্ট কম হবে। ম্যাচের এখনো দু’দিন বাকি। মঙ্গলবার সামান্য বৃষ্টি হলেও আবহাওয়া বেশ গরম। ম্যাচের আগে বৃষ্টি হলে কিংবা জল দিলে সামান্য ঘাঁস থাকতেও পারে। তা না হলে হাসি ফুটতে বাধ্য দু’দলের দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কেশব মহারাজের মুখে। 
শনিবার শুরু সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। বুধবার সেঞ্চুরিয়নে পৌঁছায় ভারতীয় দল। প্রথম অনুশীলনে চনমনে ভারতীয় দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হার। একটা হারেই পরিস্থিতি গম্ভীর করতে নারাজ ভারতীয় শিবির। দলের পেসার জসপ্রীত বুমরা বলেন, ‘একটা ম্যাচের ফলাফলে আত্মবিশ্বাস শেষ হয়ে যায় না। কারো এমনটা হয়ে থাকলে খেলাই উচিত না। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ অনুশীলনে তারই চেষ্টা চললো। মজার খেলায় মাতলেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। দলের কয়েকজন পিছনে লাল রুমাল গুঁজে, অনেকেই আবার হলুদ রুমাল। যারা কোনো রুমালই বাঁধেননি তাঁদের ছোয়ার চেষ্টায় রুমাল বাঁধা ক্রিকেটাররা। দলের সাপোর্ট স্টাফ এবং অধিনায়ক কোহলিও বাকিদের সঙ্গে সামিল। ঈশান্ত শর্মাকে বেশি চনমনে দেখালো। পিচ যাই হোক, প্রস্তুতিতে কোনোরকম ফাঁক রাখতে নারাজ ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। নেট সেশনে অনেক বেশি গম্ভীর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। গত বছর ঝুরি ঝুরি রান করেছেন। বছরের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ কোহলি। ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য চেষ্টা।
 দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতীয় দলে অন্তত জোড়া পরিবর্তন হতে পারে। অধিনায়ক কোহলি শেষ অবধি কি সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই দেখার। বাদের সম্ভাব্য তালিকায় সবার আগে শিখর ধাওয়ান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধাওয়ানের জুরি মেলা ভার। টেস্টেও ঘরের মাঠে কিংবা এশিয়া মহাদেশে ধাওয়ানের পারফরম্যান্স খুবই ভালো। এশিয়ার বাইরে টেস্টে ধাওয়ানের পারফরম্যান্স মাইক্রোস্কোপের তলায়। সেঞ্চুরিয়নে প্রথমে নেট অনুশীলনে শর্টপিচ ডেলিভারিতে বিব্রত দেখালো ধাওয়ানকে। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে শর্টপিচ ডেলিভারিতে কার্যত উইকেট উপহার দিয়েছিলেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। সেঞ্চুরিয়নের পিচে আরও একটু বেশি গতি থাকতে পারে। নেটে ধাওয়ানের তুলনায় অনেক বেশি সাবলীল দেখালো তৃতীয় ওপেনার লোকেশ রাহুল, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও আজিঙ্ক রাহানেকে। 
ম্যাচে সবমিলিয়ে চার উইকেট। টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম উইকেট হিসেবে এবি ডিভিলিয়ার্স। তারপরও স্বপ্নের অভিষেক বলা যাচ্ছে না জসপ্রীত বুমরার। সৌজন্যে ব্যাটসম্যানদের হতশ্রী পারফরম্যান্স। বুমরা বলছিলেন, ‘আগে কখনো দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলিনি। প্রথম টেস্ট থেকে অনেক কিছু শিখেছি। হতাশা ভুলে সামনের দিকে এগোতে হবে।’ সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স ঈর্ষণীয়। ২২টি টেস্টের মধ্যে এই ম্যাচে ১৭টিতেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ঘাম ছোঁটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসাররাও। স্টেইন না থাকলেও স্বস্তির জায়গা নেই ভারতের। ভার্নান ফিলান্ডার, মর্নি মরকেল, কাগিসো রাবাদার সঙ্গে চতুর্থ পেসার হিসেবে অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস কিংবা এনগিডি লুঙ্গিকে নেওয়া হতে পারে। ২১ বছরের এই তরুণ পেসার নিয়মিত ভাবে ১৪৫কিমি/ঘন্টায় বল করতে পারেন। 
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস সহায়ক উইকেটে মজেছেন অশ্বিন। মিশন সাফারিতে যাওয়ার আগে লেগস্পিন আয়ত্ত করেছিলেন। এদিন অনুশীলন পেস বোলিং করার চেষ্টায় দেখা গেলো অশ্বিনকে। সবটাই মজার ছলে।

Featured Posts

Advertisement