গোরু চুরির নামে ফের
দলিতের উপর অত্যাচার

গোরু চুরির নামে ফের<br>দলিতের উপর অত্যাচার
+

বালিয়া, ১১ই জানুয়ারি — উত্তর প্রদেশে দুই দলিত যুবককে মাথা নেড়া করে গোটা গ্রাম ঘোরানো হলো। এই যুবকদের বিরুদ্ধে গোরু চুরির অভিযোগ এনে তাঁদের উপর এই অত্যাচার চালাল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হিন্দু যুব বাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছে বালিয়া জেলার গাজিপুর রোডের কাছে রাসরা গ্রামে। বৃহস্পতিবার পুলিশ এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার। তবে পুলিশ আক্রান্ত দলিত যুবকদেরই গ্রেপ্তার করেছে গোরু চুরির অভিযোগে।
আদিত্যনাথের হিন্দু যুব বাহিনীর আক্রমণে অতিষ্ঠ সংখ্যালঘু, দলিত, মহিলাদের জীবন। আইন শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে নিজেরাই আইন হয়ে উঠছে এই বাহিনী। কারণ এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পিছনে রয়েছে প্রভাবশালী মদত। উত্তর প্রদেশে বি জে পি সরকার গঠনের পরই এই বাহিনীর রমমরা। রাজ্যে কসাইখানা বন্ধ করার ক্ষেত্রে বা মহিলাদের তথাকথিত সুরক্ষার নামেও যে ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’ তৈরি হয়েছিল, এই সব ক্ষেত্রেই ছড়ি ঘুরিয়েছে এই বাহিনী।
এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একইভাবে আইনের রোয়া না করেই দুই দলিত যুবকের উপর আক্রমণ চালালো তারা। পুলিশ জানিয়েছে দুই দলিত যুবক উমারাম এবং সোনু তাদের কাছে জানিয়েছেন, সোমবার ভোর পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটির সূত্রপাত। ২২বছরের এই দুই যুবক দুটি গরু সহ নাথ বাবা মাথিয়া মন্দিরের পাশ দিয়ে আসছিলেন। এই সময় আচমকা মন্দিরের পুরোহিত তাঁদের বিরুদ্ধে গোরু চুরির অভিযোগ এনে চেঁচামেচি শুরু করেন। গ্রামের আর প্রায় সকলের মতোই এঁরাও কৃষি কাজ করেন। পুরোহিতের চেঁচামেচি শুনে আশপাশ থেকে লোকজন জড়ো হয়ে যান। সেখানেই হিন্দু যুব বাহিনীর লোকজন তাঁদের মারধর করতে শুরু করে। প্রবল মারের পর এই দুই যুবকের মাথার অর্ধেক নেড়া করে দেওয়া হয়, মুখে কালো কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তাদের গলায় ‘আমি গোরু চোর’ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা উমারাম এবং সোনুকেই গোরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পুলিশের ডেপুটি সুপার অবধেশ কুমার চৌধুরি জানিয়েছেন, এই যুবকদের বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের হয়েছে। পরে তাঁদের উপর মারধর এবং অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়ে উমারাম এফ আই আর দায়ের করেন। এক ব্যক্তির নামে এবং ১৫জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে এস সি/এস টি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অনিল কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে ডেপুটি সুপার অবধেশ চৌধুরিকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement