বাংলায় বিজ্ঞান চর্চায়
জোর দিলেন শঙ্খ ঘোষ

প্রথম দিনেই ভিড় উপচে পড়ল হেঁদুয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায়

বাংলায় বিজ্ঞান চর্চায়<br>জোর দিলেন শঙ্খ ঘোষ
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১১ই জানুয়ারি— বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা কোনও হীনমন্যতার ব্যাপার নয়। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু তাঁর জীবন দিয়ে তা বুঝিয়ে গিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের আচার্যের সেই পথ অনুসরণ করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ আয়োজিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন করতে এসে এমনই অভিমত প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ। উত্তর কলকাতার হেদুয়া পার্কে এই মেলায় বিজ্ঞান নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। এদিন বলেছেন সে কথাও।
উত্তর কলকাতার হেদুয়া পার্কে প্রতি বছরের মতো এবারেও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণে রেখে এবারের মেলার নামকরণ করা হয়েছে আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্মারক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলার এদিনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শ্রীকুমার ব্যানার্জি, বসু বিজ্ঞান মন্দিরের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক শিবাজী রাহা, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কলকাতা  জেলার সভাপতি অধ্যাপক আনন্দদেব মুখার্জি, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক বাসুদেব বর্মণ, বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের সচিব তপন সাহা প্রমুখ। 
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সভাপতি অধ্যাপক বিকাশ সিনহা জানান, বাংলার ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি উজ্জ্বলতম দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার মঞ্চে সাহিত্য ও বিজ্ঞান আরও কাছাকাছি এল। বাংলার এই চিরায়ত ঐতিহ্যকে মানুষ এখন ভুলতে বসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান কণাবিজ্ঞানী অধ্যাপক সিনহা। এবারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় ১৫টি কলেজ এবং রাজ্যের ৪৫টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিয়েছে। বিজ্ঞানের প্রয়োগ বিষয়ক নানা ধরনের মডেল নিয়ে এই মেলায় হাজির হয়েছে তারা। সন্ত্রাসবাদী ধরতে ফাঁদ কিংবা চালু জলের পাম্পকে বাইরে থেকে বন্ধ করার মতো রকমারি মডেল দেখতে এদিন দর্শকদের ভিড় ছিল দেখার মতো। 
মেলায় জাতীয় ও রাজ্যস্তরের একাধিক সংস্থা অংশ নিয়েছে। যোগ দিয়েছে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার, সত্যেন্দ্রনাথ বসু জাতীয় মৌল বিজ্ঞান কেন্দ্র, পূর্ব রেল, কলকাতা ইনস্টিটিউট অব গ্রাফোলজি, স্টুডেন্টস হেলথ হোম, ব্রেনওয়্যারসহ নানা সংস্থা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে একাধিক বিজ্ঞান ক্লাবও মেলায় যোগ দিয়েছে। এদিন মেলায় আগতদের জন্য বিনামূল্যে দাঁত পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল স্টুডেন্টস হেলথ হোম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় মোট ৭০টি স্টল রয়েছে। মেলার প্রথম দিনেই আগত দর্শকের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সবাই যাতে এবারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরে দেখতে পারেন, তার জন্য প্রতিদিন মেলা বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। মেলা চলবে রবিবার পর্যন্ত।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement