নিউ আলিপুরে আগুন
নির্মীয়মাণ বহুতলে

নিউ আলিপুরে আগুন<br>নির্মীয়মাণ বহুতলে
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১১ই জানুয়ারি— নিউ আলিপুর রেলস্টেশন লাগোয়া একটি নির্মীয়মাণ বহুতলে হোর্ডিং লাগানোর কাজ করার সময়ে ফুলকি থেকে ধরে গেল আগুন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ওই নির্মীয়মাণ শপিং কমপ্লেক্সের দোতলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ৮টি ইঞ্জিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। ঘটনাস্থলে যায় বিরাট পুলিশবাহিনী। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুরের ওই নির্মীয়মাণ বহুতলের দোতলায় শপিং কমপ্লেক্সে হোর্ডিং লাগানোর কাজ চলছিল। সেখানে প্লাস্টিক, কাঠসহ বিভিন্ন দাহ্য বস্তু রাখা ছিল। হোর্ডিং লাগানোর সময়ে তাতে আগুনের ফুলকি পড়তেই বিপত্তি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা দোতলা। কর্মীরা প্রাণ ভয়ে নিচে নেমে আসেন। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী চারপাশে ছড়াতেই আশপাশের বহুতলের আবাসিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাই খবর দেন দমকলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। তবে প্রথম ধাপেই আগুন নেভানোর কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কাচের জানালা ও দেওয়াল। দমকল কর্মীরা উঠে কাচের জানালা ও দেওয়ালের একাংশ ভেঙে জল দেওয়া শুরু করেন। আগুন দোতলা ছাড়িয়ে তিনতলার একাংশকে গ্রাস করে। পরিস্থিতি বুঝে সদরদপ্তর থেকে আরও ৫টি দমকল যায় ঘটনাস্থলে। টানা ঘণ্টা দুই জল দেওয়ার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। নিভে যাওয়ার পরেও বেশ কিছু সময় জল দিয়ে ঠান্ডা করার কাজ চালান দমকলকর্মীরা। সমস্ত কাচের জানালা ভেঙে ফেলা হয় দমকলের তরফে। এদিকে আশপাশের বহুতলগুলির নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বেশ কিছু সময়ের জন্য। রেললাইনের লাগোয়া হওয়ায় হাওয়ার জোরে আগুন দ্রুত বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের চারপাশ ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখে পুলিশ।  
দমকলের এক আধিকারিক জানান, এটি নির্মীয়মাণ বহুতল হওয়ায় কোনও বাসিন্দা ছিলেন না। যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বাড়িটির নির্মাণকর্মী। আগুন লাগতেই তাঁরা দ্রুত বহুতলটির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। যে ঘর দুটিতে আগুন লেগেছিল, সেখানে মজুত ছিল কাঠ, দড়ি, প্লাইউডসহ অন্যান্য দাহ্য বস্তু। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, হোর্ডিং লাগানোর কাজ করার সময়ে যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দাহ্য বস্তুতে পড়ায় আগুন লাগে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষেই বলা যাবে। আগুন লাগার ফলে এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। তার প্রভাব বেশ কিছু সময় থাকলেও বিকালের দিকে এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement